সিরিজে লজ্জার হারের পর টেস্ট নেতৃত্ব ছাড়লেন প্রতিবেশী অধিনায়ক

Najmul Hossain Shanto Steps Down As Bangladesh Test Captain

বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব (Bangladesh Test Captain) থেকে পদত্যাগ করলেন নাজমুল হোসেন শান্ত (Najmul Hossain Shanto)। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে শ্রীলঙ্কার (Sri Lanka) বিরুদ্ধে লজ্জার হারের সম্মুখীন হতে হল বাংলাদেশকে (Bangladesh)। প্রথম টেস্টে ড্র পর, দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হয়েছিল ২৫ জুন থেকে। এদিন ছিল চতুর্থ দিন, কিন্তু এদিনের প্রথম সেশনেই সব উইকেট হারায় তারা। ৭৮ রানে জিতে সিরিজের দখল নেয় শ্রীলঙ্কা।

শান্তর এই পদত্যাগ হঠাৎ হলেও একেবারেই অপ্রত্যাশিত নয়। এর আগেই একদিনের ক্রিকেটের নেতৃত্ব থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তখন থেকেই চাপা অস্থিরতা কাজ করছিল তাঁর মধ্যে। যদিও তখন টেস্ট নেতৃত্ব থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, বোর্ড তাঁর ওপর ভরসা রেখে শ্রীলঙ্কা সফরের দায়িত্ব দিয়েছিল। কিন্তু সেই ভরসার প্রতিদান দিতে ব্যর্থ হল শান্তর দল।

   

শ্রীলঙ্কার মাটিতে দ্বিতীয় টেস্টে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই ব্যর্থতা চূড়ান্ত ছিল। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ মাত্র ২৪৭, যেখানে কেউই হাফ-সেঞ্চুরি পর্যন্ত করতে পারেননি। শাদমান ইসলাম সর্বোচ্চ রান করেন, কিন্তু তা দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারেনি। জবাবে শ্রীলঙ্কার ব্যাটাররা যেন শিক্ষা দিলেন কিভাবে চাপের মধ্যে ইনিংস গড়া যায়। পাথুম নিসঙ্কার ১৫৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস, চাণ্ডিমাল ও মেন্ডিসের কার্যকর ভূমিকা বাংলাদেশের ফিল্ডিং আর বোলিংয়ের সীমাবদ্ধতাকে ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দিল।

দ্বিতীয় ইনিংসে আরও হতাশাজনক পারফরম্যান্স। মাত্র ১৩৩ রানে গুটিয়ে যায় ইনিংস। লঙ্কান স্পিনার প্রভাত জয়সূর্যর ঘূর্ণির সামনে একেবারে অসহায় আত্মসমর্পণ করে টাইগাররা। সিরিজ ১-০ ব্যবধানে হেরে, টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে আরও এক ধাপ পিছিয়ে পড়ল বাংলাদেশ।

এই হারের পর সাংবাদিক সম্মেলনে শান্ত বলেন, “আমি আর টেস্টে নেতৃত্ব দিতে চাই না। এটা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। দলের ভালো চেয়ে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। তিনটি ফরম্যাটে তিনজন অধিনায়ক থাকলে দলের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়, যা পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে।”

তাঁর বক্তব্য বোর্ডের গৃহীত কৌশলকেই একভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করল। তিন ফরম্যাটে তিন অধিনায়ক। এই সিদ্ধান্তে বোর্ড দৃঢ় থাকলেও, মাঠের ফলাফল যেন বলে দিচ্ছে অন্য কথা। নেতৃত্বের অস্থিরতা, একের পর এক পরাজয়, আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড়—সব মিলিয়ে এক সংকটে ভুগছে বাংলাদেশ ক্রিকেট।

নাজমুল হোসেন শান্তর অধিনায়কত্বে ১৪টি টেস্ট খেলেছে বাংলাদেশ। জিতেছে মাত্র চারটি, হেরেছে নয়টিতে, একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। তাঁর অধীনে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুইটি টেস্ট জয় স্মরণীয় হলেও, সামগ্রিক পরিসংখ্যান আশাব্যঞ্জক নয়। গত এপ্রিলে জিম্বাবোয়ের মতো দলকের সঙ্গে সিরিজ ড্র করার পর এবার শ্রীলঙ্কার কাছে এমন ইনিংস হারের ধাক্কা যেন সর্বশেষ আত্মবিশ্বাসটুকুও কেড়ে নিল।

এবার প্রশ্ন উঠছে—কে হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী টেস্ট অধিনায়ক? মেহেদি হাসান মিরাজকে একদিনের ক্রিকেটের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তিনি টেস্টেও কি নেতৃত্বের দাবিদার হবেন? নাকি সাকিব আল হাসান আবার ফিরে আসবেন লাল বলের নেতৃত্বে? যদিও এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে, তবে শান্তর সরে দাঁড়ানো একটি বড় বার্তা দিয়ে গেল নেতৃত্ব শুধু দায়িত্ব নয়, এটা বোঝার ভারও।

শান্তর সিদ্ধান্ত আবেগপ্রবণ নয় বলেই তিনি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে পরিস্কার, দলে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার জন্যই এই পদক্ষেপ। কিন্তু এটাও স্পষ্ট যে, শান্তর বিদায়ে ক্রিকেট বোর্ডের নীতিনির্ধারকদের ওপর চাপ বাড়ল বহুগুণে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট আজ এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। পুরোনো ভুল, নেতৃত্বের অদূরদর্শিতা, মাঠের অনিশ্চিত পারফরম্যান্স—সব কিছু একসাথে মিলে একটি বড় প্রশ্ন তুলে ধরছে: আসলে কোথায় যাচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেট? শান্তর সরে দাঁড়ানো সেই প্রশ্নেরই এক বেদনার্ত প্রতিধ্বনি।

Najmul Hossain Shanto Steps Down As Bangladesh Test Captain After Sri Lanka Defeat

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Previous articleজুলাই থেকে শুরু হচ্ছে আধার-ভিত্তিক কঠোর যাচাই, ডিজিটাল নিরাপত্তায় জোর
Next articleHow to Join Top Trending Little Pepe (LILPEPE) Presale: Stage 3 Now Sold Out
Subhasish Ghosh
শুভাশীষ ঘোষ এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া সাংবাদিক, বর্তমানে Kolkata24X7.in ক্রীড়া বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ক্রিকেট থেকে ফুটবল, হকি থেকে ব্যাডমিন্টন প্রতিটি খেলাতেই তাঁর দখল প্রশংসনীয়। তিনি নিয়মিত ফিল্ড রিপোর্টিং করেন এবং ISL, I-League, CFL, AFC Cup, Super Cup, Durand Cup কিংবা Kolkata Marathon মতো মর্যাদাসম্পন্ন ইভেন্টে Accreditation Card প্রাপ্ত সাংবাদিক।২০২০ সালে সাংবাদিকতার জগতে আত্মপ্রকাশ, আর তখন থেকেই বাংলার একাধিক খ্যাতিমান সাংবাদিকের সাহচর্যে তালিম গ্রহণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইতিহাস ও রাজনীতির প্রতি রয়েছে অগাধ টান, যার প্রমাণ তাঁর অফবিট যাত্রাপথ ও অনুসন্ধিৎসু মন। পেশাগত প্রয়োজনে কিংবা নিতান্ত নিজস্ব আগ্রহে ছুটে যান অজানার সন্ধানে, হোক পাহাড়ি আঁকাবাঁকা গলি কিংবা নিঃসঙ্গ ধ্বংসাবশেষে ভরা প্রাচীন নিদর্শন। ছবি তোলার নেশা ও লেখার প্রতি দায়বদ্ধতা মিলিয়ে শুভাশীষ হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক।