
আইপিএল ঘিরে বিতর্ক নতুন নয়। তবে এবারের বিতর্কে কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশের তারকা পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR) তাঁকে ২০২৫ আইপিএল (IPL 2026) নিলামে রেকর্ড ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় দলে নিয়েছিল। কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বিসিসিআইয়ের নির্দেশে আইপিএল থেকে ছাঁটাই হলেন ‘কাটার মাস্টার’। প্রশ্ন একটাই, বিপুল অঙ্কের টাকার কী হবে? মুস্তাফিজুর কি আদৌ তাঁর প্রাপ্য পাবেন, না কি খালি হাতেই ফিরতে হবে?
BCCI সঙ্গে আলোচনা নয়, বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভাগ্য ঝুলছে শাহ পুত্রের হাতে!
কীভাবে শুরু হল বিতর্ক
সাধারণত কোনও ক্রিকেটার চোট পেলে বা ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজে থেকে তাঁকে ছেঁটে ফেললে চুক্তির পুরো অর্থই পান সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়। কিন্তু মুস্তাফিজুরের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আলাদা। চোট বা শৃঙ্খলাভঙ্গ নয়, বরং ‘চারপাশের উদ্ভূত পরিস্থিতি’র কথা জানিয়ে বিসিসিআই তাঁকে আইপিএল খেলার অনুমতি দেয়নি। সেই নির্দেশ মেনেই কেকেআর তাঁকে দলে রাখেনি।
আইপিএলের নিয়ম কী বলছে?
আইপিএল নিলামের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ফ্র্যাঞ্চাইজি যে দামে ক্রিকেটারকে কেনে, সেই টাকা ‘লক’ হয়ে যায়। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই নিলামের দামের ১৫ শতাংশ ক্রিকেটারকে দেওয়ার কথা। মুস্তাফিজুরের ক্ষেত্রে তা প্রায় ১ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা। ফ্র্যাঞ্চাইজি নিজে থেকে ক্রিকেটারকে বাদ দিলে বা ক্রিকেটার চোট পেলে, পুরো অর্থ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে।
প্রতিবাদের ভাষায় IPL সম্প্রচার বন্ধ, কিন্তু লাভের অঙ্কে পিছিয়ে বাংলাদেশ?
কিন্তু এই তিনটি শর্তের কোনওটিই মুস্তাফিজুরের ক্ষেত্রে কার্যকর হচ্ছে না। কারণ তাঁকে কেকেআর নিজে থেকে বাদ দেয়নি, আবার চোট বা শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগও নেই।
৯.২০ কোটি টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা কতটা
আইপিএল কর্তাদের একটি অংশের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে মুস্তাফিজুরের এই অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই। সাধারণত আইপিএলের খেলোয়াড়দের বেতন বিমার আওতায় থাকে। বিদেশি ক্রিকেটাররা প্রতিযোগিতা চলাকালীন বা শিবিরে যোগ দেওয়ার পর চোট পেলে বিমা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পান। কিন্তু মুস্তাফিজুরের ছাঁটাই সেই বিমা কাঠামোর মধ্যেও পড়ছে না। ফলে কেকেআরের পক্ষেও তাঁকে কোনও অর্থ দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।
আইনি পথে কি সমাধান সম্ভব
এহেন পরিস্থিতিতে মুস্তাফিজুরের সামনে আইনি পথ খোলা থাকলেও তা সহজ নয়। আইপিএল ভারতের প্রতিযোগিতা হওয়ায় ভারতীয় আইনের অধীনেই মামলা করতে হবে। বিদেশি ক্রিকেটারের পক্ষে তা সময়সাপেক্ষ ও জটিল। বিকল্প হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত, কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস (CAS) দ্বারস্থ হওয়া যেতে পারে। তবে ক্রিকেট বোর্ডের ঘনিষ্ঠ সূত্রের মতে, গোটা ঘটনার সঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতি জড়িয়ে থাকায় সেখান থেকেও খুব বেশি সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
ফর্মে ফিরেও মাঠের বাইরে বিরাট, কবে প্রত্যাবর্তন ২২ গজে?
শেষ পর্যন্ত কী দাঁড়াচ্ছে
সব মিলিয়ে মুস্তাফিজুর রহমানের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ৯ কোটি ২০ লক্ষ টাকায় আইপিএলে খেলার স্বপ্ন দেখলেও, বাস্তবে সেই অর্থ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। আইনি লড়াইয়ের রাস্তা খোলা থাকলেও, তাতে লাভ হবে কি না? এই নিয়েই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। আপাতত ‘কাটার মাস্টার’র আইপিএল অধ্যায় শেষ হচ্ছে অনিশ্চয়তা আর বিতর্কের মধ্য দিয়েই।










