আইএফএ সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ মহামেডানের, পাশে দাঁড়িয়ে নজির বিহীন সিদ্ধান্ত বাগানের

ইন্ডিয়ান সুপার লিগে হারের যন্ত্রনায় গ্রাস করেছে ইস্টবেঙ্গলকে (East Bengal)। সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছে না লাল-হলুদ ব্রিগেডের। কোচের পদত্যাগের পর জামশেদপুরের বিরুদ্ধে ‘ঘুরে দাঁড়ানোর’ ম্যাচে ২-০ গোলে হেরে মুখ থুবড়ে পড়েছে মশাল বাহিনী। কার্যত ধিক ধিক করে জ্বলছে মশাল। অন্যদিকে কলকাতা ফুটবল লিগে (CFL) বেশ ছন্দেই রয়েছে বিনো জর্জের দল। একের পর এক প্রতিপক্ষ দল গুলির বিপক্ষে জয় এসেছে অতি সহজেই। গ্রূপ পর্যায়ের পয়েন্টের নিরিখে শীর্ষে থেকে সুপার সিক্স নিশ্চিত করে নিয়েছিল ময়দানের এই প্রধান। তবে সেখানে বিপক্ষের এক ছোট্ট ভুলে লাভ হল লাল-হলুদ শিবিরের। এবার এই নিয়ে লড়াই শুরু হল ময়দান ফুটবলে।

সুপার সিক্সের তৃতীয় ম্যাচে মহামেডানের (Mohammedan SC) বিপক্ষে মাঠে খেলতে নেমে ছিল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। সম্পূর্ণ সময় শেষে অমীমাংসিত ফলাফলে শেষ হয়েছিল সেই ম্যাচ। যারফলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছিল উভয়পক্ষকে। কিন্তু পরবর্তীতে বদলে যায় গোটা পরিস্থিতি। এই ম্যাচ সংক্রান্ত বিষয়ে আইএফএতে (IFA) সাদা-কালো ব্রিগেডের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ দায়ের করেছিল ইস্টবেঙ্গল এফসি (East Bengal)।

   

আরও পড়ুন : স্ত্রীর ইচ্ছে পূরণে দেবী আরাধনায় ফুটবলার মেহতাব হোসেন

আইএফএ-র নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দলকে ৯০ মিনিটের জন্য মাঠে ৪ জন করে ‘ভূমিপুত্র’ খেলাতে হবে। তবে ইস্টবেঙ্গলের (East Bengal) অভিযোগ তাঁদের বিপক্ষে ম্যাচে সেই নিয়ম মানেনি মহামেডান এসসি। এই বিষয়ে গতকালই আইএফএ-এর ডিসিপ্লিনারি কমিটির তরফে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়আইএফএ’র নিয়ম লঙ্ঘন করেছে মহামেডান। তাই ম্যাচের সম্পূর্ণ পয়েন্ট দিয়ে দেওয়া হয় লাল-হলুদ ব্রিগেডকে। যার ফলে নিঃসন্দেহে চ্যাম্পিয়নশিপের আরও অনেকটাই কাছে চলে যায় ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)।

আরও পড়ুন : দেবী পক্ষে ২০০ জন অনাথ শিশুর পাশে দাঁড়ালেন বাংলার মহারাজ

গতকাল আইএফএ-এর ডিসিপ্লিনারি কমিটির এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানোর কথা জানিয়েছন মহামেডান ক্লাবের (Mohammedan SC) অন্যতম কর্তৃপক্ষ বেলাল আহামেদ। তিনি জানিয়েছেন, ” তাঁরা আইএফএ-এর নিয়মের কোন লঙ্ঘন করি নি।” যদিও ইস্টবেঙ্গলের তরফে জানানো হয়েছে ম্যাচের ভিডিও এবং ম্যাচ কমিশনারের রিপোর্ট দেখেই আইএফএ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আইএফএ-এর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে এবার মুখ মুখলেন বাগান সচিব দেবাশীষ দত্ত। এই সিদ্ধান্ত ভুল বলে তিনি জানিয়েছেন। ইতিমধ্যে দেবাশীষ দত্ত আইএফএকে একটি চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, আসন্ন আইএফএ শিল্ডে অংশ নেবে না মোহনবাগান (Mohun Bagan)। কারণ আইএফএ-এর শৃঙ্খলা কমিটি মোহামেডান এসসির (Mohammedan SC) বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রসঙ্গত, এর আগেও বাগান সচিব কলকাতা ফুটবল লিগ নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন ইস্টবেঙ্গলকে কলকাতা ফুটবল লিগ চ্যাম্পিয়ন করার চেষ্টা চলছে।

বর্তমানে ইস্টবেঙ্গলের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নশিপের লড়াইয়ে রয়েছে কিবু ভিকুনার ডায়মন্ড হারবার এফসি (Diamond Harbor FC)। তবে মহামেডানের পয়েন্ট কাঁটার ফলে প্রায় চার পয়েন্টের পার্থক্য হয়ে দাঁড়ালো লাল-হলুদের সঙ্গে। নির্ধারিত দিনক্ষণ অনুযায়ী আগামী ১৪ই অক্টোবর বিকেল তিনটে নাগাদ বারাকপুর বিভূতিভূষণ স্টেডিয়ামে ডায়মন্ড হারবার এফসির (Diamond Harbor FC) মুখোমুখি হবে সায়ন ব্যানার্জিরা। হিসাব মত কলকাতা ফুটবল লিগের অলিখিত ফাইনাল এবং শেষ ম্যাচ হতে চলেছে এটি।

আরও পড়ুন : ক্রিকেটর ময়দানে যুদ্ধ! প্রতিপক্ষ দুই প্রতিবেশি

আগামী ১৭ তারিখ নিজেদের ঘরের মাঠে অপর ম্যাচটি রয়েছে ভবানীপুর ক্লাবের বিপক্ষে। সেই ম্যাচ না হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় একশো শতাংশ। জানা গিয়েছে ভবানীপুর ক্লাব ইস্টবেঙ্গলকে এই ম্যাচে ওয়াকওভার দিতে পারে। কারণ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ফুটবলার ও কোচের সঙ্গে চুক্তি ছিল ভবানীপুর ক্লাবের। তবে কলকাতা ফুটবল লিগ সময়মতো শেষ না হওয়ায় ক্লাব তাঁদের ছেড়ে দেয়। ফলে তাঁরা আর মাঠে দল নামাতে পারবে না। তাই ম্যাচ না হলে আরো তিন পয়েন্ট পকেটে পুড়তে চলেছে মশাল বাহিনী।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Previous articleসেনাবাহিনীর সুবিধার্থে 130 টিরও বেশি ব্যাটালিয়ন পুনর্গঠন করবে CRPF
Next articleকলকাতা বিমানবন্দরে দৈত্যাকার বিমান! যেন ডাঙ্গায় ডলফিন
Subhasish Ghosh
শুভাশীষ ঘোষ এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া সাংবাদিক, বর্তমানে Kolkata24X7.in ক্রীড়া বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ক্রিকেট থেকে ফুটবল, হকি থেকে ব্যাডমিন্টন প্রতিটি খেলাতেই তাঁর দখল প্রশংসনীয়। তিনি নিয়মিত ফিল্ড রিপোর্টিং করেন এবং ISL, I-League, CFL, AFC Cup, Super Cup, Durand Cup কিংবা Kolkata Marathon মতো মর্যাদাসম্পন্ন ইভেন্টে Accreditation Card প্রাপ্ত সাংবাদিক।২০২০ সালে সাংবাদিকতার জগতে আত্মপ্রকাশ, আর তখন থেকেই বাংলার একাধিক খ্যাতিমান সাংবাদিকের সাহচর্যে তালিম গ্রহণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইতিহাস ও রাজনীতির প্রতি রয়েছে অগাধ টান, যার প্রমাণ তাঁর অফবিট যাত্রাপথ ও অনুসন্ধিৎসু মন। পেশাগত প্রয়োজনে কিংবা নিতান্ত নিজস্ব আগ্রহে ছুটে যান অজানার সন্ধানে, হোক পাহাড়ি আঁকাবাঁকা গলি কিংবা নিঃসঙ্গ ধ্বংসাবশেষে ভরা প্রাচীন নিদর্শন। ছবি তোলার নেশা ও লেখার প্রতি দায়বদ্ধতা মিলিয়ে শুভাশীষ হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক।