বাগানের তারকা ফুটবলারসহ গোয়ার ফুটবলারকে সংবর্ধনা মিজো-সরকারের

Mizoram Government Felicitates Mohun Bagan Star Apuia and FC Goa’s Ayush Dev Chhetri
Mizoram Government Felicitates Mohun Bagan Star Apuia and FC Goa’s Ayush Dev Chhetri

আইএসএল (ISL) চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের (Mohun Bagan SG)ফুটবলার অপুইয়া (Lalengmawia Ralte) এবং সুপার কাপজয়ী (Super Cup) এফসি গোয়ার (FC Goa) মিডফিল্ডার আয়ুষ দেব ছেত্রীকে (Ayush Dev Chhetri) সংবর্ধনা জানালেন মিজোরামের (Mizoram) ক্রীড়া ও যুব পরিষেবা মন্ত্রী এবং আইজল ওয়েস্ট-২ বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক পু লালনঘিংলোভা হমার (Pu Lalnghinglova Hmar)।

এদিন মিজোরাম সরকারের MINECO অফিস চেম্বারে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুই ফুটবলারের হাতে সম্মাননা পত্র এবং উপহারসামগ্রী তুলে দেন ক্রীড়ামন্ত্রী। উপস্থিত ছিলেন ফুটবলারের পরিবার, মিজো ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
মিজোরামের ক্রীড়ামন্ত্রী বলেন, “আজকের দিনে আমাদের এই দুই প্রতিভাবান ফুটবলারকে সম্মান জানাতে পেরে আমি গর্বিত। তারা শুধু আইএসএল এবং সুপার কাপে সফল হয়েছেন তাই নয়, জাতীয় দলের হয়েও প্রতিনিধিত্ব করছেন। বড় বড় একাডেমির বাইরে থেকেও মিজোরামের মতো জায়গা থেকে উঠে আসা যায়—এই বার্তাই তাঁরা দিয়েছেন।”

   

তিনি আরও বলেন, “মিজোরামে প্রতিভার কোনো অভাব নেই। শৃঙ্খলা, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কেউ নিজেকে প্রমাণ করতে পারে। আজকের এই দুই খেলোয়াড় তার জীবন্ত উদাহরণ।”

লালেংমাভিয়া রালতে, যিনি “আপুইয়া” নামেই বেশি পরিচিত, ২০২৪-২৫ মরসুমে বাগানের হয়ে ২৭টি ম্যাচ খেলেন এবং প্লে-অফে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। তিনি বলেন, “নিজের রাজ্যে এমন সংবর্ধনা পেয়ে আমি খুব খুশি। আইএসএল জয় বা ভারতীয় দলের হয়ে খেলা এই স্বীকৃতি আমার কাছে খুব মূল্যবান।”

নিজের ফুটবল যাত্রা প্রসঙ্গে বলেন, “ভালো একাডেমির অবদান অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু কঠিন সময়ে নিজের উপর ভরসা রেখে এগিয়ে যাওয়াটাই আসল।”
অন্যদিকে, এফসি গোয়ার হয়ে ২৬ ম্যাচ খেলে একটি গোল করা আয়ুষ দেব ছেত্রী চলতি বছরে ভারতের জাতীয় দলে প্রথমবার সুযোগ পান এবং মালদ্বীপের বিরুদ্ধে অভিষেক করেন। তিনি বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতাম ভারতের হয়ে খেলার। আজ সেই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। মন্ত্রী মহাশয়ের কাছ থেকে এই সম্মান পাওয়া আমার জন্য এক বিশেষ মুহূর্ত।”

মন্ত্রী লালনঘিংলোভা হমার অনুরোধ করেন, এই দুই তারকা যেন ভবিষ্যতে আরও যুবককে অনুপ্রাণিত করেন এবং মিজোরামের গ্রামীণ ফুটবলের উন্নয়নে কাজ করেন। তিনি বলেন, “আপনারা শুধু নিজেদের নয়, গোটা মিজোরামের সম্মান বাড়িয়েছেন। আপনারা আরও এগিয়ে যান, নতুন প্রজন্ম আপনাদের অনুসরণ করবে।”

 

 
 
 
 
 
View this post on Instagram
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

 

A post shared by Tetea Hmar (@lalnghinglova.hmar)

অনুষ্ঠানে মিজোরাম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারাও তাঁদের সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং জানান, ভবিষ্যতে আরও প্রতিভা তুলে আনার জন্য তারা জেলাভিত্তিক টুর্নামেন্ট এবং প্রশিক্ষণের পরিসর বাড়াতে উদ্যোগী হবেন।

মিজোরামের ফুটবলপ্রেমী মানুষের কাছে এটি এক গর্বের দিন। যেখানে দুই তরুণ—যাঁরা একই রাজ্যের দুটি ছোট অঞ্চল থেকে উঠে এসেছেন—তারা ভারতের অন্যতম বড় দুটি ক্লাবের হয়ে খেলছেন এবং জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করছেন। সমাপ্তিতে, মন্ত্রী বলেন, “এই দুজন আমাদের জন্য শুধু ফুটবলার নন, তারা আগামী দিনের পথপ্রদর্শক। তাঁদের মতো আরও অনেকেই যেন ভবিষ্যতে উঠে আসে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”

এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ও আশা জাগিয়ে তুলেছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে। মিজোরাম যে ভারতীয় ফুটবলে আরও বড় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত, তা আরেকবার প্রমাণিত হল আজকের এই অনুষ্ঠানে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Previous articleমনিপুরের এই লেফট ব্যাকের দিকে নজর মশালবাহিনীর
Next articleরোহিত শর্মা রাজনীতির ময়দানে! এবার কি নতুন ইনিংস শুরু?
Subhasish Ghosh
শুভাশীষ ঘোষ এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া সাংবাদিক, বর্তমানে Kolkata24X7.in ক্রীড়া বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ক্রিকেট থেকে ফুটবল, হকি থেকে ব্যাডমিন্টন প্রতিটি খেলাতেই তাঁর দখল প্রশংসনীয়। তিনি নিয়মিত ফিল্ড রিপোর্টিং করেন এবং ISL, I-League, CFL, AFC Cup, Super Cup, Durand Cup কিংবা Kolkata Marathon মতো মর্যাদাসম্পন্ন ইভেন্টে Accreditation Card প্রাপ্ত সাংবাদিক।২০২০ সালে সাংবাদিকতার জগতে আত্মপ্রকাশ, আর তখন থেকেই বাংলার একাধিক খ্যাতিমান সাংবাদিকের সাহচর্যে তালিম গ্রহণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইতিহাস ও রাজনীতির প্রতি রয়েছে অগাধ টান, যার প্রমাণ তাঁর অফবিট যাত্রাপথ ও অনুসন্ধিৎসু মন। পেশাগত প্রয়োজনে কিংবা নিতান্ত নিজস্ব আগ্রহে ছুটে যান অজানার সন্ধানে, হোক পাহাড়ি আঁকাবাঁকা গলি কিংবা নিঃসঙ্গ ধ্বংসাবশেষে ভরা প্রাচীন নিদর্শন। ছবি তোলার নেশা ও লেখার প্রতি দায়বদ্ধতা মিলিয়ে শুভাশীষ হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক।