‘আগে থেকেই সব জানতাম’, সফর নিয়ে খোলাখুলি মেসির মন্তব্য

কলকাতার যুবভারতীতে মেসিকে ঘিরে চরম বিশ্খৃলার পর ভক্ত থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মুখে একটাই কথা কলকাতা হয়তো পারেনি, কিন্তু হায়দরাবাদ পেরেছে। এই একটি বাক্যই…

messi-pays-tribute-to-indian-football-fans-in-hyderabad

কলকাতার যুবভারতীতে মেসিকে ঘিরে চরম বিশ্খৃলার পর ভক্ত থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মুখে একটাই কথা কলকাতা হয়তো পারেনি, কিন্তু হায়দরাবাদ পেরেছে। এই একটি বাক্যই যেন গোটা ঘটনার সারাংশ। শনিবার লিওনেল মেসি এসেছিলেন তিলোত্তমা কলকাতায়। ফুটবলপ্রেমে উদ্বেলিত এই শহর বহু বছর ধরে অপেক্ষায় ছিল বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকাকে এক নজর দেখার। কিন্তু বাস্তব চিত্র ছিল হতাশাজনক। অগোছালো ব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত ভিড় আর নিরাপত্তার অভাবে সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, মেসিকেও ঠিকভাবে সামনে পাওয়া গেল না। পরিস্থিতির চাপে নির্ধারিত সময়ের আগেই অনুষ্ঠানস্থল ছাড়তে বাধ্য হন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী তারকা।

Advertisements

এর ঠিক উল্টো ছবি দেখা গেল হায়দরাবাদে। সেখানেই প্রমাণ হল, পরিকল্পনা আর শৃঙ্খলা থাকলে এমন বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান কতটা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা যায়। মেসির হায়দরাবাদ সফর ছিল সুশৃঙ্খল, নিরাপদ এবং আবেগে ভরপুর। সাধারণ দর্শকরা পেলেন তাঁদের প্রিয় তারকাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ, আর মেসিও পেলেন নির্ভার পরিবেশে ভক্তদের ভালোবাসা গ্রহণ করার সুযোগ।

   

হায়দরাবাদে ভক্তদের সামনে দাঁড়িয়ে আবেগ চেপে রাখতে পারেননি মেসি। ভারতের ফুটবলপ্রেমীদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আজ এবং সব সময় আমি যে ভালোবাসা পেয়েছি, তার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।” তাঁর কণ্ঠে ছিল আন্তরিকতা, চোখেমুখে স্পষ্ট ছিল ভালো লাগার ছাপ। এই ভালোবাসা শুধু একটি দিনের নয়, দীর্ঘ সময় ধরে জমে ওঠা আবেগের প্রতিফলন।

মেসি আরও জানান, ভারতে আসার আগেই তিনি অসংখ্য মুহূর্ত দেখেছেন, যা তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। বিশেষ করে কাতার বিশ্বকাপের সময় ভারতীয় সমর্থকদের উন্মাদনা, রাত জেগে খেলা দেখা, রাস্তায় রাস্তায় উদযাপন—এই সব ছবি তাঁর মন ছুঁয়ে গেছে। তিনি বলেন, “এখানে আসার আগে থেকেই অনেক কিছু দেখেছি। সত্যি বলতে, এই ভালোবাসার জন্য আপনাদের অসংখ্য ধন্যবাদ।” এই বক্তব্যেই স্পষ্ট, ভারতের সঙ্গে মেসির সম্পর্ক শুধু মাঠের নয়, আবেগেরও। হায়দরাবাদের অনুষ্ঠানে মেসিকে দেখা গেল এক গাল হাসি নিয়ে মঞ্চে হাঁটতে। ভক্তদের দিকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানালেন, খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করলেন। কোথাও তাড়াহুড়ো নেই, নেই অস্বস্তি। বরং ছিল স্বস্তি আর সম্মান। সেই কারণেই হয়তো মেসির মুখে বারবার ফুটে উঠছিল প্রশান্তির হাসি। যেন তিনি বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন—ভালোবাসা পেলে তার প্রতিদান দিতে তিনি সবসময় প্রস্তুত।

এই দুই শহরের অভিজ্ঞতা ভারতের ফুটবল সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনে দেয়। আবেগ থাকলেই কি যথেষ্ট? নাকি তার সঙ্গে দরকার দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা আর পরিকল্পনা? কলকাতা ঐতিহ্যগতভাবে ফুটবলের শহর হলেও, এই ঘটনায় তারা আত্মসমালোচনার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে হায়দরাবাদ নিজেদের নতুনভাবে তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। মেসির কৃতজ্ঞতার বার্তা শুধু হায়দরাবাদের জন্য নয়, গোটা ভারতের জন্য। তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, ভারতের ফুটবলপ্রেম বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। এখন দায়িত্ব আমাদের—এই আবেগকে কীভাবে সম্মানের সঙ্গে ধরে রাখব, সেটাই ভবিষ্যতের বড় প্রশ্ন।

Advertisements