
কলকাতা: হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কেটেছিলেন দর্শকরা। প্রত্যাশা ছিল এক ঝলক লিওনেল মেসিকে সামনে থেকে দেখার। কিন্তু সেই প্রত্যাশা ভেঙে চুরমার। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত গোট কনসার্টে লিওনেল মেসির দেখা না পেয়ে চরম ক্ষোভে ফেটে পড়েন দর্শকরা। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মাঠে চেয়ার ছোড়াছুড়ি, আগুন ধরানো, ভাঙচুর— সব মিলিয়ে রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে যুবভারতী। শেষ পর্যন্ত উত্তেজনার জেরে অনুষ্ঠান বাতিল করতে বাধ্য হন আয়োজকরা।
বিশাল পুলিশ ও র্যাফ বাহিনী
ঘটনার জেরে মাঠে নামানো হয় বিশাল পুলিশ ও র্যাফ বাহিনী। তবু পরিস্থিতি সামাল দিতে কার্যত হিমশিম খেতে হয় প্রশাসনকে। পুলিশের বিরুদ্ধে মৃদু লাঠিচার্জের অভিযোগও উঠেছে। এই বিশৃঙ্খলার কারণে অনুষ্ঠানে আসেননি শাহরুখ খান ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেড়টার সময় মাঠে পৌঁছান রাজীব কুমার৷ তবে তিনি কোনও মন্তব্য করেননি৷
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, রদ্রিগো দি পল ও লুইস সুয়ারেজের সঙ্গে মাঠে প্রবেশ করেছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু তাঁকে ঘিরে সেলিব্রিটি ও প্রাক্তন ফুটবলারদের ভিড় দেখে স্পষ্ট বিরক্ত হন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। গোটা মাঠ প্রদক্ষিণ করার কথা থাকলেও সেই পরিকল্পনা বাতিল করে দ্রুত মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। গ্যালারির দর্শকদের সামনে কার্যত কোনওভাবেই উপস্থিত হননি মেসি।
ক্ষোভে ফেটে পড়েন দর্শকরা Messi Concert Vandalism Kolkata
এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন দর্শকরা। গ্যালারি থেকে মাঠে ছোড়া হয় বোতল ও চেয়ার। অনেকে মাঠে ঢুকে পড়ে পাশেই রাখা সরঞ্জাম ভাঙচুর শুরু করেন। অভিযোগ, পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আয়োজকরা কার্যত উধাও হয়ে যান।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। এক্স (টুইটার)-এ পোস্ট করে তিনি লেখেন, “কেন মেসিকে ঘিরে থাকল হ্যাংলামির ভিড়? কেন স্টেডিয়াম পরিক্রমার সময় মেসিকে একা এগিয়ে রাখা হল না? কেন গ্যালারির দর্শকদের বঞ্চিত করা হল? এতে কি কলকাতার সুনাম বাড়ল? অপদার্থ আয়োজক কেন ন্যূনতম পরিকল্পনার ছাপ রাখল না? শুধু টাকা? শুধু ব্যবসা?” তিনি আরও লেখেন, “এই আয়োজক আর কিছু হ্যাংলারের জন্য সবাই বঞ্চিত হল। কলকাতা লজ্জিত হল। দর্শকদের ক্ষোভ ন্যায্য।”
কুণালের মন্তব্য
২০১১ সালের প্রসঙ্গ টেনে কুণাল ঘোষ স্মরণ করান, সেই বছর যুবভারতীতেই আর্জেন্টিনার জার্সিতে খেলেছিলেন মেসি। তিনি লেখেন, “২০১১ সালে এই যুবভারতীতেই খেলেছিলেন মেসি। কর্নার ফ্ল্যাগের পাশে বসে খেলা দেখেছিলাম। বারো ফুটের মধ্যে এসে কর্নার নিয়েছিলেন মেসি। সবটাই ছিল পরিকল্পিত। কোনও বাড়াবাড়ি হয়নি।”
বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকাকে শহরে এনে এমন বিশৃঙ্খলা ও অপদার্থ আয়োজন ঘিরে প্রশ্নের মুখে পড়েছে কলকাতা। একসময় যে যুবভারতীতে জাতীয় দলের অধিনায়ক হিসেবে প্রথম ম্যাচ খেলেছিলেন মেসি, সেই মাঠ থেকেই বিরক্ত হয়ে ফিরে যেতে হল তাঁকে— যা ‘সিটি অফ জয়’-এর জন্য নিঃসন্দেহে এক বিব্রতকর অধ্যায়।










