সুনীলের ‘ক্যামব্যাকে’ এই অঘটন ঘটাবে মনোলোর ভারত

Sunil Chhetri in India vs Maldives match

২০২৪ সালের ৬ জুন যুবভারতী স্টেডিয়ামে ঘটে যাওয়া ঘটনা ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের অজানা নয়। কুয়েতের বিপক্ষে শেষ ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়েছিলেন সুনীল ছেত্রী (Sunil Chhetri)। এই সিদ্ধান্তে এক ধরনের শোকাবহ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল ভারতীয় ফুটবলে (India Football Team)। কারণ আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নিয়েছিলেন দলের এক অভাবনীয় গোল মেশিন। তবে, সেই অবসর খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। মাত্র নমাসের মধ্যে অবসর ভেঙে জাতীয় শিবিরে ফিরেছেন তিনি। প্রাক্তন ফুটবলারদের অনেকেই মন্তব্য করেছেন সুনীল ছেত্রী (Sunil Chhetri) নিজে ফিরেছেন না, বরং কোচ মানোলো মার্কুয়েজ (Manolo Marquez) তাকে ফিরিয়ে এনেছেন। কারণ সুনীল ছাড়া ভারতীয় ফুটবল দল (India Football Team) কোনোভাবেই জয়ের রাস্তা খুঁজে পাচ্ছিল না।

মানোলোর অধীনে জয়ের খোঁজে ভারত, রইল সাম্ভব্য একাদশ

   

১৯ মার্চ শিলংয়ে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচে মালদ্বীপের বিরুদ্ধে নামবে ভারত। এই ম্যাচে দলের জন্য ফের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারেন সুনীল ছেত্রী। কোচ মানোলো মার্কুয়েজের কাছে তিনি এখনও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ফুটবলার। তাই স্প্যানিশ কোচ জানিয়েছেন, সুনীলকে ফিরিয়ে আনতে গিয়ে তার সিদ্ধান্ত একেবারেই অবিচল ছিল। কারণ তিনি জানতেন যে, এই অভিজ্ঞ ফুটবলারের অভাব ভারতের দলীয় গতিতে প্রভাব ফেলছে।

ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক বৈঠকে মানোলো বলেন, “সুনীল আমাদের দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যতই বয়স বাড়ুক, তার ফর্মেই কিছু খামতি আসেনি। সুনীল ছেত্রী জাতীয় দলের জন্য নিরন্তর সংগ্রাম করে গিয়েছেন এবং এই পরিস্থিতিতে তাকে নিয়ে আমরা আরও শক্তিশালী হতে চাই।” আসলে, সুনীল ছেত্রী ছাড়াও ভারতীয় দল খুব একটা ভাল ফল পাচ্ছিল না। ২০২৪ সালের জুনে অবসর নেওয়ার পর ভারতীয় ফুটবল বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ম্যাচে অপ্রত্যাশিত হতাশাজনক ফল পেয়েছিল। তাছাড়া, শিলংয়ের মাঠে মালদ্বীপের বিপক্ষে সুনীল ছেত্রী জাতীয় দলে কতটুকু সময় মাঠে থাকতে পারবেন, তা নিয়ে অনেক আলোচনা শুরু হয়েছে।

India vs Maldives: বাগান কোচ মোলিনার দেখানো পথেই হাঁটবেন মানোলো মার্কুয়েজ?

ভারতীয় কোচ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ৪০ বছর বয়সী সুনীল ছেত্রী অবশ্যই ম্যাচে কিছু সময় খেলবেন, তবে তার ভূমিকা প্রথম একাদশে না, পরিবর্ত হিসেবে হতে পারে। কোচের মতে, এই মুহূর্তে সুনীলের অভিজ্ঞতা ও ফর্ম জাতীয় দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “আমাদের এখানে সেরা খেলোয়াড়রা চাই, সেরা ফর্মে যারা আছে, তারা মাঠে নামুক। বয়স এখানে বাধা হতে পারে না। জাতীয় দলের জন্য সেরা দলটাই থাকা উচিত।”

শিলংয়ের পার্বত্য শহরে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি ছিল ভারতীয় দলের জন্য প্রস্তুতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ২৫ মার্চ এএফসি এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে ভারত। তাই, মালদ্বীপের বিরুদ্ধে এই প্রীতি ম্যাচটি তাদের জন্য এক ধরনের প্রস্তুতি। এই বিষয়ে কোচ মানোলো বলেন, “বাংলাদেশ ম্যাচের আগে মালদ্বীপের বিরুদ্ধে ভালো প্রস্তুতি নেওয়া আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমি খেলোয়াড়দের উপর পূর্ণ আস্থা রাখি এবং আশা করি, তারা সেরা পারফরম্যান্স দেখাবে।”

ম্যাচের সকালে চিন্তার ভাঁজ মানোলোর ছিটকে গেলেন তারকা ফুটবলার

ভারতীয় ফুটবল দল বর্তমানে ফিফা ক্রমতালিকায় ১২৬ তম অবস্থানে রয়েছে, যেখানে মালদ্বীপের অবস্থান ১৬২ তম। দুই দলের মধ্যে ২১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মধ্যে ভারত ১৫টি ম্যাচে জয়ী হয়েছে এবং ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। ২০২১ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শেষ সাক্ষাতে ভারত ৩-১ গোলে মালদ্বীপকে হারিয়েছিল। সুনীল ছেত্রী এই ম্যাচে দুটি গোল করেছিলেন, আর অন্য একটি গোল করেছিলেন মনবীর সিং।

আজ ১৯ মার্চ, শিলংয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় কোচ মানোলো মার্কুয়েজ এই ম্যাচের মাধ্যমে ভারতীয় ফুটবল দলের প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করতে চান। যাতে তারা এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Previous articleমানোলোর অধীনে জয়ের খোঁজে ভারত, রইল সম্ভাব্য একাদশ
Next articleপুলিশের জালে নাগপুর কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড
Subhasish Ghosh
শুভাশীষ ঘোষ এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া সাংবাদিক, বর্তমানে Kolkata24X7.in ক্রীড়া বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ক্রিকেট থেকে ফুটবল, হকি থেকে ব্যাডমিন্টন প্রতিটি খেলাতেই তাঁর দখল প্রশংসনীয়। তিনি নিয়মিত ফিল্ড রিপোর্টিং করেন এবং ISL, I-League, CFL, AFC Cup, Super Cup, Durand Cup কিংবা Kolkata Marathon মতো মর্যাদাসম্পন্ন ইভেন্টে Accreditation Card প্রাপ্ত সাংবাদিক।২০২০ সালে সাংবাদিকতার জগতে আত্মপ্রকাশ, আর তখন থেকেই বাংলার একাধিক খ্যাতিমান সাংবাদিকের সাহচর্যে তালিম গ্রহণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইতিহাস ও রাজনীতির প্রতি রয়েছে অগাধ টান, যার প্রমাণ তাঁর অফবিট যাত্রাপথ ও অনুসন্ধিৎসু মন। পেশাগত প্রয়োজনে কিংবা নিতান্ত নিজস্ব আগ্রহে ছুটে যান অজানার সন্ধানে, হোক পাহাড়ি আঁকাবাঁকা গলি কিংবা নিঃসঙ্গ ধ্বংসাবশেষে ভরা প্রাচীন নিদর্শন। ছবি তোলার নেশা ও লেখার প্রতি দায়বদ্ধতা মিলিয়ে শুভাশীষ হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক।