
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তল্লাশিকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার থেকেই উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। আইপ্যাক সংস্থার (I-PAC) ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের ফ্ল্যাট ও সল্টলেকের দফতরে ইডি (Enforcement Directorate) হানার ঘটনায় সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল ও ‘গোপন নথি’ হাতিয়ে নিতেই এই অভিযান।
মমতার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের বার্তা জাতীয় বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের
ইডি হানার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবারই ‘অতন্দ্র প্রহরীর’ ভূমিকায় দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে ফাইল হাতে বেরিয়ে তিনি পৌঁছে যান আইপ্যাকের সল্টলেকের দফতরে। সেখান থেকেও গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করে নিয়ে যান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর এই তৎপরতা ঘিরে গোটা দেশের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় জোর চর্চা।
মমতার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি তাঁর দলের নির্বাচনী কৌশলের তথ্য ‘ট্রান্সফার’ করেছে। শুধু তাই নয়, রাজ্যে চলতে থাকা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) সংক্রান্ত তথ্যও কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে চলে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এই অভিযান সরাসরি গণতন্ত্রের উপর ‘হামলা’ এবং পিছনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের মদত রয়েছে, যাঁর দফতরের অধীনেই ইডি কাজ করে।
আসলে এটা….! আইপ্যাক-কাণ্ডে অবশেষে নীরবতা ভেঙে গর্জে উঠলেন অভিষেক
এই ঘটনার প্রতিবাদেই শুক্রবার রাস্তায় নামে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন দুপুরে যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মিছিল। পাশে ছিলেন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, সাংসদ দেব, সোহম-সহ শাসকদলের একাধিক নেতা, বিধায়ক, সাংসদ ও টলিউডের তারকারা। সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতেও ভরে ওঠে মিছিল।
মিছিল শুরুর আগে ৮বি বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দিল্লির বঞ্চনা, লাঞ্ছনা এবং এ রাজ্যের মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে রাস্তাই রাস্তা।” বিকেল সাড়ে চারটে নাগাদ হাজরায় গিয়ে শেষ হয় এই মিছিল।
মিছিল শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁঝ আরও বাড়ান তৃণমূল সুপ্রিমো। প্রধানমন্ত্রী থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাউকেই বাদ দেননি তিনি। এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পুত্র জয় শাহের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মমতা। বর্তমানে আইসিসি চেয়ারম্যান পদে থাকা জয় শাহকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ব্লক প্রেসিডেন্ট হওয়ারও যোগ্যতা নেই, অথচ অথচ ইন্টারন্যাশেনাল প্রেসিডেন্ট হয়ে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ স্তরের দায়িত্ব পালন করছে।”
এর আগের দিনও চাঁচাছোলা ভাষায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, রাজনৈতিক ফায়দা তুলতেই ইডি-সহ কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, ইডি আধিকারিকরা দলের হার্ডডিস্ক, প্রার্থী তালিকা সংগ্রহ করছে এবং এসআইআরের অজুহাতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এসআইআরের শুনানিতে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।










