মেসির ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ লিওনেল

আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসির (Lionel Messi) ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে জল্পনা চলছেই। সম্প্রতি মার্চ আন্তর্জাতিক উইন্ডোর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে মেসিকে দলে না রাখা…

Lionel Scaloni Speaks on Lionel Messi

আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসির (Lionel Messi) ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে জল্পনা চলছেই। সম্প্রতি মার্চ আন্তর্জাতিক উইন্ডোর বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে মেসিকে দলে না রাখা হয়েছিল, এবং তাঁর সাম্প্রতিক চোটের ইতিহাস নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি (Lionel Scaloni) স্পষ্ট করে বলেছেন, তিনি “এই বিষয়টি নিয়ে সারা বছর মাথা ঘামাতে চান না”। মঙ্গলবার ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ৪-১ গোলের দাপুটে জয়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্কালোনি বলেন, মেসির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত তাঁকে নিজেকেই নিতে দিতে হবে।

   

মেসির সাম্প্রতিক পেশির সমস্যার কারণে তিনি মার্চের আন্তর্জাতিক বিরতিতে খেলতে পারেননি। তবে তাঁর অনুপস্থিতিতেও আর্জেন্টিনা দল অপ্রতিরোধ্য ফর্মে রয়েছে। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ১-০ গোলের জয় এবং ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ৪-১ গোলের বিশাল জয় প্রমাণ করে যে, মেসি ছাড়াও লা আলবিসেলেস্তে শক্তিশালী। স্কালোনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা একটি একটি করে ম্যাচ এগোচ্ছি। আমি এই বিষয়টি নিয়ে সারা বছর চিন্তা করতে চাই না। আমাদের তাকে একা ছেড়ে দিতে হবে, তাকে নিজের সিদ্ধান্ত নিতে দিতে হবে। সে নিজেই ঠিক করবে, আমরা তাকে পাগল করে তুলব না।”

Advertisements

Lionel Messi-র চোটের উদ্বেগ

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ, যা উত্তর আমেরিকায় (যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডা) অনুষ্ঠিত হবে, এখন থেকে মাত্র এক বছরেরও বেশি সময় দূরে। কিন্তু মেসির সাম্প্রতিক চোটের ইতিহাস ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন তুলেছে—তিনি কি এই মেগা ইভেন্টে খেলতে পারবেন? গত এক বছরে, ইন্টার মায়ামির এই অধিনায়ক চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে চোটের কারণে খেলতে পারেননি। এছাড়া, মার্চে আরও দুটি ম্যাচে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। ২০২৫ সালের শুরু থেকে, ক্লাব ফুটবলে তিনি মাত্র তিনবার ৯০ মিনিট পূর্ণ খেলেছেন। এই মাসের শুরুতে তিনি টানা তিনটি ম্যাচে মাঠের বাইরে ছিলেন।

৩৭ বছর বয়সী এই তারকার শরীর এখন আগের মতো সহনশীল নয়। ইন্টার মায়ামির হয়ে এমএলএস মৌসুমে তাঁর ব্যস্ত সূচি এবং আসন্ন ক্লাব বিশ্বকাপের কারণে তাঁর ফিটনেস নিয়ে আরও চিন্তা বাড়ছে। তবে, স্কালোনি এবং আর্জেন্টিনা দলের দরজা মেসির জন্য সবসময় খোলা থাকবে। কোচের মতে, এটি শুধুমাত্র মেসির শারীরিক ফিটনেসের উপর নির্ভর করবে।

মেসি ছাড়াও আর্জেন্টিনার শক্তি

মেসির অনুপস্থিতি সত্ত্বেও আর্জেন্টিনা দলের পারফরম্যান্সে কোনো ফারাক পড়েনি। উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ১-০ গোলের জয়ে থিয়াগো আলমাদার গোল এবং ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ৪-১ গোলের দাপুটে জয়ে দলের গভীরতা প্রমাণিত হয়েছে। এই ম্যাচগুলোতে লাউতারো মার্তিনেজ, জুলিয়ান আলভারেজ এবং তরুণ প্রতিভারা দলকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি না খেলতে পারলেও আর্জেন্টিনার জন্য তা বড় ধাক্কা হবে না। তবে, মেসির মতো একজন কিংবদন্তির উপস্থিতি দলের মনোবল এবং সমর্থকদের উৎসাহে অনন্য মাত্রা যোগ করে।

স্কালোনি এর আগেও বলেছিলেন, “দল একটা দল। একজন না থাকলে আরেকজন এগিয়ে আসে। আমাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি ছিল, কিন্তু মাঠে নামার জন্য আমাদের কাছে দারুণ খেলোয়াড় রয়েছে।” এই মন্তব্য মেসির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দলের সামগ্রিক শক্তির উপর জোর দেয়।

মেসির ফিটনেস ও ভবিষ্যৎ

মেসির ফিটনেসই এখন তাঁর ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ইন্টার মায়ামির হয়ে এই মৌসুমে তাঁর উপর চাপ বাড়বে, কারণ এমএলএস-এর পাশাপাশি ক্লাব বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টও রয়েছে। তাঁর বর্তমান চুক্তি ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত, যদিও এক বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে, যা তাঁকে বিশ্বকাপ পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে। তবে, চোটের ঝুঁকি এড়াতে তিনি কীভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেন, সেটাই মূল বিষয়।
আগামী ২৯ মার্চ ইন্টার মায়ামি ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বিরুদ্ধে এমএলএস ম্যাচে খেলবে। কোচ হাভিয়ের মাসচেরানোর অধীনে মেসি এই ম্যাচে ফিরতে পারবেন কিনা, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তাঁর সাম্প্রতিক পেশির সমস্যার পর ক্লাব তাঁকে পুরোপুরি ফিট না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি নিতে চাইবে না।

মেসির ইচ্ছা ও সমর্থকদের প্রত্যাশা

এর আগে স্কালোনি জানিয়েছিলেন, মেসির ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলার ইচ্ছা রয়েছে। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের কথা ভাবেননি। তবে, তাঁর শরীরের অবস্থা এবং বয়স বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত কঠিন হয়ে উঠতে পারে। সমর্থকরা আশা করছেন, তাঁদের প্রিয় তারকাকে আরেকবার বিশ্বমঞ্চে দেখতে পাবেন। ২০২২-এর সাফল্যের পর মেসির হাতে আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি দেখার স্বপ্ন এখনও জীবিত।

অন্যদিকে, কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, মেসি যদি ২০২৬-এ না খেলেন, তবে এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য সুযোগ হবে। জুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ এবং থিয়াগো আলমাদার মতো খেলোয়াড়রা ইতিমধ্যে নিজেদের প্রমাণ করেছেন। তবে, মেসির মতো একজন খেলোয়াড়ের প্রভাব শুধু গোল বা অ্যাসিস্টে সীমাবদ্ধ নয়—তিনি দলের আত্মা।

লিওনেল মেসির ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ এখনও অনিশ্চিত। স্কালোনির মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, তিনি মেসির উপর চাপ দিতে চান না। আর্জেন্টিনা দল মেসি ছাড়াও শক্তিশালী, কিন্তু তাঁর উপস্থিতি দলকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। আগামী দিনে মেসি কীভাবে নিজেকে ফিট রাখেন এবং কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটাই নির্ধারণ করবে তিনি আরেকবার বিশ্বকাপে খেলবেন কিনা। ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষায় রয়েছেন তাঁদের কিংবদন্তির পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য।