মেসি কাণ্ডের (Messi In Kolkata) পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে পুলিশ। ১৩ ডিসেম্বর কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসির অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল, যার ফলে মেসির ভারত সফরের আয়োজন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনায় টিকিট বিক্রির মাধ্যমে ১৯ কোটি টাকা ওঠার অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এখন টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং আয়োজকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মেসি কাণ্ডে টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া অবিলম্বে শুরু হয়ে গেছে, এবং পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে টিকিট বিক্রির মাধ্যমে জমা হওয়া ১৯ কোটি টাকা ফেরত দেওয়া হবে। এই টাকা ফেরতের জন্য পুলিশ আদালতের কাছে আবেদন করবে, যাতে আরও কার্যকরী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। পুলিশ সূত্রে খবর, তারা জোমাটো কর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে পেরেছে, মেসি কলকাতা তথা ভারতে আসার মূল উদ্যোক্তা ছিলেন শতদ্রু দত্ত।
শতদ্রু দত্তর অ্যাকাউন্ট থেকে ২২ কোটি টাকা আগেই ফ্রিজ করা হয়েছিল পুলিশ কর্তৃক।পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত সম্পন্ন করেছে এবং এমনকি তার অ্যাকাউন্টের লেনদেন সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করেছে। ঘটনার দিন যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন দর্শকের বয়ানও রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে, শিগগিরই আরও বেশ কিছু দর্শকের বয়ান রেকর্ড করা হবে। এই বয়ানগুলি মূলত সাহায্য করবে পুলিশকে ঘটনার আসল প্রকৃতি বুঝতে, এবং তা কিভাবে ঘটেছিল তা স্পষ্ট করতে।
যুবভারতী স্টেডিয়ামে মেসির অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা এবং দর্শকদের ক্ষোভের মুখে ১৩ ডিসেম্বরই শতদ্রু দত্তকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনায় মেসি দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ দর্শকরা ব্যাপক তাণ্ডব চালিয়েছিলেন, যার ফলে পরিস্থিতি অস্থির হয়ে ওঠে। গ্রেফতারির পর রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার সাংবাদিকদের কাছে এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “সরকার কমিটি গঠন করেছে, আয়োজকদের লিখিত আকারে জবাব দিতে বলা হয়েছে। যে টিকিট বিক্রি হয়েছিল, তার টাকা ফেরত দিতে হবে আয়োজকদের, না হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এছাড়া, ২২ কোটি টাকা ফ্রিজ করার ঘটনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে, যা এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা গভীর দুর্নীতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। তদন্তকারীরা এখনও অন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন, যা এই কাণ্ডের পুরো রহস্য উন্মোচনে সাহায্য করবে।
