এমবাপে-রুডিগার-সেবায়োসকে অশালীন আচরণের জন্য জরিমানা

শুক্রবার ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউইএফএ রিয়াল মাদ্রিদের (Real Madrid) তিন তারকা খেলোয়াড়—কিলিয়ান এমবাপে, আন্তোনিও রুডিগার এবং দানি সেবায়োসের উপর জরিমানা আরোপ করেছে। এই শাস্তি…

Kylian Mbappe, To Real Madrid Stars Fined by UEFA for Indecent Conduct

শুক্রবার ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউইএফএ রিয়াল মাদ্রিদের (Real Madrid) তিন তারকা খেলোয়াড়—কিলিয়ান এমবাপে, আন্তোনিও রুডিগার এবং দানি সেবায়োসের উপর জরিমানা আরোপ করেছে। এই শাস্তি এসেছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিরুদ্ধে রিয়ালের জয়ের পর “শালীন আচরণের মৌলিক নিয়ম লঙ্ঘন” করার অভিযোগে। ফ্রান্সের ফরোয়ার্ড এমবাপের উপর ৩০,০০০ ইউরো (প্রায় ৩৩,০০০ মার্কিন ডলার), জার্মান ডিফেন্ডার রুডিগারের উপর ৪০,০০০ ইউরো এবং মিডফিল্ডার সেবায়োসের উপর ২০,০০০ ইউরো জরিমানা ধার্য করা হয়েছে।

তবে, ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যদিও গত সপ্তাহে ইউইএফএ এই চার খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছিল। এমবাপে এবং রুডিগারের ক্ষেত্রে এক ম্যাচের ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়েছে, তবে তা স্থগিত রাখা হয়েছে। ফলে আগামী মঙ্গলবার আর্সেনালের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে এটি কোনও প্রভাব ফেলবে না।

   

ইউইএফএ অভিযোগের বিস্তারিত প্রকাশ করেনি। তবে তারা উল্লেখ করেছে যে, ১২ মার্চের ম্যাচের পর খেলোয়াড়রা ইউইএফএ-র শৃঙ্খলা কোডের ১১ নম্বর ধারা—যা “শালীন আচরণ” বজায় রাখার কথা বলে—লঙ্ঘন করেছেন। রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন এবং বর্তমান শিরোপাধারী রিয়াল মাদ্রিদ ওই দিন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মেট্রোপলিটানো স্টেডিয়ামে পেনাল্টি শ্যুটআউটে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছেছিল। ম্যাচটি ২-২ সমতায় শেষ হওয়ার পর পেনাল্টিতে ৪-৩ গোলে জয় পায় রিয়াল।

Advertisements

ম্যাচের পর রিয়াল মাদ্রিদের খেলোয়াড়রা উদযাপনের সময় অ্যাটলেটিকোর সমর্থকদের উত্তেজিত ও উস্কানিমূলক আচরণ করেছিলেন বলে অভিযোগ। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা গেছে, এমবাপে মাঠে উদযাপনের সময় অশোভন ভঙ্গি করছেন। অন্যদিকে, রুডিগারকে গলা কাটার মতো ইঙ্গিত করতে দেখা গেছে, যা অ্যাটলেটিকো সমর্থকদের দিকে ছিল বলে মনে করা হয়। সেবায়োসও টানেলের দিকে যাওয়ার সময় অনুরূপ অঙ্গভঙ্গি করেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বিরুদ্ধে এমন কোনও সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি, যার ফলে তিনি শাস্তি থেকে মুক্তি পেয়েছেন।

১২ মার্চের এই ম্যাচটি ছিল রিয়াল মাদ্রিদ এবং অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মধ্যে একটি উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই। দুই লেগ মিলিয়ে ম্যাচটি ২-২ সমতায় শেষ হওয়ার পর পেনাল্টি শ্যুটআউটে রুডিগারের নির্ভুল কিক রিয়ালকে জয় এনে দেয়। এই জয়ের পর রিয়ালের খেলোয়াড়রা মাঠে নেচে এবং সমর্থকদের সঙ্গে উদযাপন করে। তবে, অ্যাটলেটিকোর সমর্থকদের কাছে এই উদযাপন অপমানজনক মনে হয়। তারা মাঠে বোতল ও অন্যান্য জিনিস ছুড়ে মারে। এই ঘটনার পর অ্যাটলেটিকো ইউইএফএ-র কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে।

ইউইএফএ গত সপ্তাহে চার খেলোয়াড়—এমবাপে, রুডিগার, সেবায়োস এবং ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। তদন্তে দেখা যায় যে, এমবাপে, রুডিগার এবং সেবায়োসের আচরণ শৃঙ্খলা কোডের লঙ্ঘন করেছে। তবে, ভিনিসিয়ুসের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে শাস্তি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ইউইএফএ-র শাস্তি অনুযায়ী, এমবাপেকে ৩০,০০০ ইউরো জরিমানা করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞাও ঘোষণা করা হয়েছে, তবে তা এক বছরের প্রোবেশনের অধীনে স্থগিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, আগামী এক বছরে তিনি যদি এমন আচরণ পুনরাবৃত্তি না করেন, তবে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না। রুডিগারের ক্ষেত্রে জরিমানা ৪০,০০০ ইউরো এবং তার উপরও একই শর্তে স্থগিত নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। সেবায়োসের জরিমানা ২০,০০০ ইউরো, তবে তার ক্ষেত্রে কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই।

এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী ৮ এপ্রিল আর্সেনালের বিরুদ্ধে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে এই তিন খেলোয়াড়ই খেলতে পারবেন। রিয়াল মাদ্রিদের জন্য এটি একটি বড় স্বস্তি, কারণ এমবাপে এবং রুডিগার দলের মূল স্তম্ভ।

রিয়াল মাদ্রিদের কোচ কার্লো আনচেলত্তি গতকাল লা লিগার ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, “আমরা ইউইএফএ-র তদন্তের উপর ভরসা রেখেছি। আমাদের খেলোয়াড়রা কেবল উদযাপন করেছিল, এর বেশি কিছু নয়। আমরা আশা করি সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।” ক্লাবের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

এই ঘটনা ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, খেলোয়াড়দের উদযাপনের স্বাধীনতা থাকা উচিত, তবে তা শালীনতার সীমার মধ্যে হওয়া দরকার। অন্যরা বলছেন, ইউইএফএ-র এই পদক্ষেপ খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করবে। গত বছর ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে রিয়ালেরই জুড বেলিংহ্যামও অনুরূপ অঙ্গভঙ্গির জন্য স্থগিত নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা পেয়েছিলেন।

কলকাতার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এক সমর্থক বলেন, “এমবাপে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের একজন। উদযাপনে একটু বাড়াবাড়ি হয়ে থাকতে পারে, তবে জরিমানা যথেষ্ট। নিষেধাজ্ঞা হলে রিয়ালের ক্ষতি হতো।” আরেকজন বলেন, “অ্যাটলেটিকোর সমর্থকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। তারা জিনিস ছুড়েছে, এটাও শৃঙ্খলা ভঙ্গ।”

এই শাস্তি রিয়াল মাদ্রিদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযানে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলবে না। তবে, এমবাপে ও রুডিগারকে আগামী এক বছর সতর্ক থাকতে হবে। আর্সেনালের বিরুদ্ধে ম্যাচটি রিয়ালের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং এই তিন তারকার উপস্থিতি দলের মনোবল বাড়াবে।

ইউইএফএ-র এই সিদ্ধান্ত ফুটবলে শৃঙ্খলা ও উদযাপনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার একটি উদাহরণ। এমবাপে, রুডিগার এবং সেবায়োসের উপর জরিমানা এবং ভিনিসিয়ুসের মুক্তি নিয়ে আলোচনা চলবে। তবে, রিয়াল মাদ্রিদের সমর্থকরা এখন আর্সেনালের বিরুদ্ধে ম্যাচের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে তাদের তারকারা পুরো শক্তি নিয়ে মাঠে নামবেন।