
কলকাতা ময়দানকে (Kolkata Football) বেটিং ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ছায়া থেকে মুক্ত রাখতে আপসহীন অবস্থান নিলেন সৌরভ পাল। ফুটবলের স্বার্থে এবং একজন সাধারণ ফুটবলপ্রেমী হিসেবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার জানিয়ে মঙ্গলবার আইএফএ সহ-সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করলেন তিনি। আইএফএ সভাপতি অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ই-মেল করে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন সৌরভ।
নিরাপত্তার কারণে ভারতে খেলবে না বাংলাদেশ! নাকি নেপথ্যে…
মঙ্গলবার বিকালে ‘ময়দান সাথী’ নামের সংস্থার উদ্যোগে এক দীর্ঘ সাংবাদিক সম্মেলনে সৌরভ আগেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, পকেটে পদত্যাগপত্র নিয়েই তিনি ঘুরছেন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, “পদের লোভে নয়, ফুটবলের স্বার্থে আমি প্রতিবাদ চালিয়ে যাব। ময়দানকে বেটিং আর ফিক্সিং থেকে মুক্ত রাখাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।” যদিও ময়দানের একাংশ তাঁকে পদত্যাগ না করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন, তবু নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরেননি সৌরভ।
সাংবাদিক সম্মেলনে সৌরভ পালের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আইএফএর আরেক সহ-সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস। এছাড়াও প্রাক্তন ফুটবলার প্রশান্ত চক্রবর্তী, অনীত ঘোষ, নাসিম আখতার, রঞ্জন চৌধুরি এবং আইএফএর প্রাক্তন সহ-সচিব নজরুল ইসলাম, রবীন ঘোষ-সহ একাধিক ফুটবল ব্যক্তিত্ব হাজির ছিলেন। মঞ্চ থেকেই তাঁরা স্পষ্ট করে দেন সভায় তাঁরা আইএফএর প্রতিনিধি হিসেবে নয়, সাধারণ ফুটবলপ্রেমী হিসেবেই অংশ নিচ্ছেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে রবীন ঘোষরা একটি পুলিশি রিপোর্ট তুলে ধরেন, যেখানে কলকাতা লিগের একাধিক ম্যাচ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় গত লিগের ইউনাইটেড কলকাতা বনাম উয়াড়ি অ্যাথলেটিক ক্লাব ম্যাচের কথা। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে উয়াড়ির পাঁচ গোল হজম করা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি অভিযোগ ওঠে, কলকাতা লিগের ছোট ক্লাবগুলির একাধিক ম্যাচে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে টেলিকাস্ট সমস্যার কথা। যে সময়ে দর্শকরা খেলা দেখতে পাননি, ঠিক সেই সময়েই একাধিক গোল হওয়ার ঘটনাও পুলিশি রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে।
ডাফা নিউজকে কেন বারবার আইএফএ-র বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় দেখা যাচ্ছে, সেই প্রশ্নও তোলা হয় এদিন। স্বরূপ বিশ্বাস মনে করিয়ে দেন, কয়েক বছর আগে তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নির্দেশে কলকাতা লিগ থেকে ওই সংস্থাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। স্বরূপের বক্তব্য, “আমরা আইএফএ-র বিরোধী নই। ফুটবল বাঙালির আবেগ। সেই ফুটবলের ক্ষতি হচ্ছে বলেই আমরা প্রতিবাদের পথে নেমেছি। তথ্যপ্রমাণ কোর্ট থেকে আনতে সময় লেগেছে, তাই সাংবাদিক সম্মেলন করতেও দেরি হয়েছে।”
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সৌরভ পাল জানান, “গত ২৮ আগস্ট সাদার্ন কর্তা হিসেবে আমি আইএফএকে ফিক্সিং সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছিলাম। সেদিন যদি সভা করে পুলিশকে জানানো হত, আরও অপরাধীকে ধরা সম্ভব ছিল।”
এদিকে সৌরভের পদত্যাগ প্রসঙ্গে আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত বলেন, “উনি মনে করেছেন পদত্যাগ করবেন, তাই সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।” ম্যাচ ফিক্সিং রোধে আইএফএ যথেষ্ট সচেষ্ট বলেও দাবি করেন তিনি। তবে তাঁর মতে, পুলিশি রিপোর্ট নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করার আগে সহ-সভাপতি হিসেবে সৌরভের উচিত ছিল সেই নথি আইএফএ-র কাছে জমা দেওয়া।
সব মিলিয়ে, ময়দান জুড়ে নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক ও আলোচনা। পদ ছেড়ে প্রতিবাদের পথে হাঁটা সৌরভ পালের সিদ্ধান্ত বাংলা ফুটবলে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার প্রশ্নকে ফের একবার সামনে এনে দিয়েছে। ময়দান কি সত্যিই বেটিং-মুক্ত হবে? সেই উত্তর খুঁজতেই এখন নজর গোটা ফুটবল মহলের।










