বাংলাদেশের পর এবার পাকিস্তানের ডানা ছাটলেন জয় শাহ

নয়াদিল্লি: পাকিস্তান ক্রিকেট এখন একটা বড় সংকটের মুখোমুখি। (Jay Shah)বাংলাদেশের পর এবার পাকিস্তানের ডানা ছাঁটার হুমকি দিয়েছেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ বাংলাদেশের…

jay-shah-warning-pakistan-cricket-icc-sanctions

নয়াদিল্লি: পাকিস্তান ক্রিকেট এখন একটা বড় সংকটের মুখোমুখি। (Jay Shah)বাংলাদেশের পর এবার পাকিস্তানের ডানা ছাঁটার হুমকি দিয়েছেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৬-এ বাংলাদেশের সঙ্গে একাত্মতা দেখিয়ে পাকিস্তান যদি টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়ায়, তাহলে আইসিসি কঠোর শাস্তির পথে হাঁটবে। এই শাস্তির মধ্যে রয়েছে কোনো দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না খেলতে দেওয়া, এশিয়া কাপ থেকে বাদ দেওয়া এবং পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি খেলোয়াড়দের খেলার অনুমতি না দেওয়া।

Advertisements

এই খবর পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য একটা বড় ধাক্কা, কারণ এতে দলের আন্তর্জাতিক অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে।সবকিছু শুরু হয়েছে বাংলাদেশের টি২০ বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারতে না খেলার সিদ্ধান্ত থেকে। আইসিসি বাংলাদেশের ম্যাচ স্থানান্তরের আবেদন খারিজ করে দিয়ে স্কটল্যান্ডকে তাদের জায়গায় নিয়ে এসেছে।

   

প্রযুক্তিতে চীনকেও পিছনে ফেলছে ভারত

এরপর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি আইসিসির বিরুদ্ধে ‘ডাবল স্ট্যান্ডার্ড’-এর অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের পক্ষে সোচ্চার হয়েছেন। তিনি বলেছেন, আইসিসি সব দলের জন্য একই নিয়ম প্রয়োগ করতে পারে না। পাকিস্তান এমনকি বাংলাদেশের গ্রুপ ম্যাচগুলো নিজেদের মাঠে খেলার প্রস্তাবও দিয়েছে। কিন্তু এই সমর্থনের পরিণাম এখন পাকিস্তানের ওপরই পড়ছে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, আইসিসি পাকিস্তানকে স্পষ্ট সতর্ক করে দিয়েছে যদি তারা বিশ্বকাপ থেকে বয়কট করে, তাহলে কঠিন শাস্তি অপেক্ষা করছে। প্রথমত, কোনো আন্তর্জাতিক দলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলা যাবে না। এর ফলে পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা আন্তর্জাতিক ম্যাচের অভিজ্ঞতা থেকে বঞ্চিত হবে, র‌্যাঙ্কিং পড়বে এবং রাজস্বও কমবে। দ্বিতীয়ত, এশিয়া কাপ থেকে বাদ পড়বে পাকিস্তান।

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) অধীনে এই টুর্নামেন্ট পাকিস্তানের জন্য একটা বড় মঞ্চ। তৃতীয়ত, পিএসএল-এ বিদেশি খেলোয়াড়দের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি) দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। পিএসএল পাকিস্তান ক্রিকেটের আর্থিক লাইফলাইন বিদেশি তারকা ছাড়া লিগের আকর্ষণ কমে যাবে, স্পনসরশিপ কমবে এবং বোর্ডের আয়ে বড় ধাক্কা লাগবে।

পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফের মতো অনেকেই বলছেন, বাংলাদেশের পক্ষে দাঁড়াতে হলে বিশ্বকাপ বয়কট করা উচিত। কিন্তু বাস্তবে এটা পাকিস্তানের জন্য আত্মঘাতী হতে পারে। পিসিবি ইতিমধ্যে আর্থিক সংকটে ভুগছে। বিশ্বকাপ বয়কট করলে আয়ের বড় অংশ হারাবে, খেলোয়াড়দের মনোবল ভাঙবে এবং দলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাবে।

অনেকে বলছেন, এটা জয় শাহের নেতৃত্বাধীন আইসিসির একটা কৌশল যাতে কোনো দলই ভবিষ্যতে এমন বয়কটের চিন্তা না করে। বাংলাদেশের পর পাকিস্তান যদি একই পথে হাঁটে, তাহলে ক্রিকেটের রাজনীতিতে আরও বড় বিভাজন তৈরি হবে।

Advertisements