আরএফডিএলে এফসি গোয়ার কাছে ৪-০ গোলে হারল জামশেদপুর

রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ডেভেলপমেন্ট লিগ (RFDL) ২০২৪-২৫-এর ন্যাশনাল গ্রুপ পর্বে জামশেদপুর এফসি’র (Jamshedpur FC) অপরাজিত রেকর্ডের সমাপ্তি ঘটল। মুম্বইয়ের রিলায়েন্স কর্পোরেট পার্কে গ্রুপ এ-এর শেষ থেকে…

Jamshedpur FC FC Goa

রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ডেভেলপমেন্ট লিগ (RFDL) ২০২৪-২৫-এর ন্যাশনাল গ্রুপ পর্বে জামশেদপুর এফসি’র (Jamshedpur FC) অপরাজিত রেকর্ডের সমাপ্তি ঘটল। মুম্বইয়ের রিলায়েন্স কর্পোরেট পার্কে গ্রুপ এ-এর শেষ থেকে দ্বিতীয় ম্যাচে এফসি গোয়ার কাছে ৪-০ গোলে হেরে গেছে তারা। এই পরাজয় সত্ত্বেও, জামশেদপুর এফসি’র সেমিফাইনালে ওঠার আশা এখনও বেঁচে আছে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডায়মন্ড হারবার এফসি’র বিরুদ্ধে তাদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে।

   

এফসি গোয়া, যাদের এই ম্যাচে জয়ের প্রয়োজন ছিল সেমিফাইনালের দৌড়ে টিকে থাকতে, শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা প্রদর্শন করে। ম্যাচের ১৩তম মিনিটে লিকসন রেবেলো প্রথম গোলটি করেন, জামশেদপুরকে চাপে ফেলে দেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে লালথাংলিয়ানা দ্বিতীয় গোলটি করে গোয়ার লিড দ্বিগুণ করেন। এরপর লিকসন তার দ্বিতীয় গোলটি করে জামশেদপুর এফসি’র প্রতিরোধ ভেঙে দেন। ম্যাচের শেষ দিকে ভেলিংটন ফার্নান্দেজের গোল গোয়ার ৪-০ গোলের জয় নিশ্চিত করে।

Advertisements

এই ম্যাচের আগে পর্যন্ত অপরাজিত থাকা জামশেদপুর এফসি এখন তাদের গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডায়মন্ড হারবার এফসি’র বিরুদ্ধে অন্তত একটি পয়েন্ট অর্জন করতে হবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিতে। এই পরাজয়কে পিছনে ফেলে দলটি আগামী ম্যাচে শক্তিশালী প্রত্যাবর্তনের জন্য মরিয়া হয়ে উঠবে। ডায়মন্ড হারবার এফসি’র বিরুদ্ধে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি ৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে।

Jamshedpur FC Vs FC Goa ম্যাচের বিবরণ: গোয়ার দাপট

এফসি গোয়া ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে। তাদের আক্রমণাত্মক কৌশল এবং সুযোগ সৃষ্টির দক্ষতা জামশেদপুর এফসি’র প্রতিরক্ষাকে অসহায় করে তোলে। ১৩তম মিনিটে লিকসন রেবেলো একটি সুনিপুণ গোলের মাধ্যমে স্কোরবোর্ডে গোয়ার নাম তুলে দেন। এই গোলটি ছিল লালথাংলিয়ানার একটি সঠিক পাসের ফল, যিনি পরে নিজেও গোল করে দলের লিড বাড়ান। প্রথমার্ধে গোয়ার আক্রমণের ধারাবাহিকতা জামশেদপুরের রক্ষণভাগকে বিপর্যস্ত করে দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধে জামশেদপুর প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করলেও গোয়ার প্রতিরক্ষা এবং আক্রমণের সমন্বয় তাদের কোনো সুযোগ দেয়নি। লিকসন তার দ্বিতীয় গোলটি দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে করেন, যা ম্যাচের ফলাফল প্রায় নিশ্চিত করে দেয়। শেষ দিকে ভেলিংটন ফার্নান্দেজের গোল গোয়ার জয়কে আরও জোরালো করে। জামশেদপুর এফসি’র খেলোয়াড়রা এই ম্যাচে তাদের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে পারেনি, যা তাদের প্রথম পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

জামশেদপুর এফসি’র অপরাজিত ধারা

এই ম্যাচের আগে জামশেদপুর এফসি গ্রুপ এ-তে দুর্দান্ত ফর্মে ছিল। তারা তিনটি ম্যাচে জয় পেয়ে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছিল। প্রথম ম্যাচে তারা ইস্ট বেঙ্গল এফসি’কে ৩-০ গোলে হারায়। এরপর নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি’র বিরুদ্ধে ৫-২ গোলের জয় এবং কিকস্টার্ট এফসি’র বিরুদ্ধে আরেকটি জয় তাদের অপরাজিত রাখে। এই ধারাবাহিকতায় তারা গ্রুপে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল। তবে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে এই হার তাদের সেমিফাইনালে ওঠার পথে একটি বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জামশেদপুরের কোচ কাইজাদ আম্বাপারদিওয়ালার নেতৃত্বে দলটি এই টুর্নামেন্টে আক্রমণাত্মক এবং সুসংগঠিত ফুটবল খেলেছে। বিকাশ জ্যোতি লস্কর, লমসাংজুয়ালা এবং নিংথৌজাম রেমসন সিং-এর মতো খেলোয়াড়রা দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তবে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে তারা তাদের স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে ফেলে, যা এই বড় পরাজয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সেমিফাইনালের সম্ভাবনা

এই হারের পরও জামশেদপুর এফসি’র সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা রয়ে গেছে। গ্রুপ এ-তে তাদের তিনটি জয় থেকে ৯ পয়েন্ট রয়েছে। এফসি গোয়ার এই জয়ের ফলে তারা পয়েন্ট তালিকায় উন্নতি করলেও, জামশেদপুর এখনও শীর্ষে রয়েছে। তবে তাদের শেষ ম্যাচে ডায়মন্ড হারবার এফসি’র বিরুদ্ধে অন্তত একটি ড্র প্রয়োজন সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে। যদি তারা এই ম্যাচে হেরে যায় এবং গোয়া তাদের শেষ ম্যাচে জয় পায়, তবে জামশেদপুরের সেমিফাইনালে ওঠার পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ডায়মন্ড হারবার এফসি এই টুর্নামেন্টে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হিসেবে উঠে এসেছে। তারা গ্রুপ পর্বে এফসি গোয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শুরু করেছিল, যদিও পরবর্তী ম্যাচে তারা কিছুটা হোঁচট খেয়েছে। জামশেদপুরের জন্য এই ম্যাচটি হবে একটি কঠিন পরীক্ষা। তাদের প্রতিরক্ষা ও আক্রমণে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে এই হার থেকে শিক্ষা নিয়ে।

এফসি গোয়ার প্রত্যাবর্তন

এফসি গোয়ার জন্য এই জয় ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। টুর্নামেন্টের শুরুতে ডায়মন্ড হারবারের কাছে ৩-০ গোলে হারের পর তারা চাপে পড়েছিল। তবে জামশেদপুরের বিরুদ্ধে এই দাপুটে জয় তাদের সেমিফাইনালে ওঠার সম্ভাবনাকে জিইয়ে রেখেছে। লিকসন রেবেলোর দুটি গোল এবং লালথাংলিয়ানা ও ভেলিংটন ফার্নান্দেজের অবদান গোয়ার আক্রমণের শক্তি প্রদর্শন করেছে। তাদের শেষ ম্যাচে নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি’র বিরুদ্ধে জয় পেলে তারা গ্রুপ থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার দৌড়ে থাকবে।

ভক্তদের প্রতিক্রিয়া

জামশেদপুর এফসি’র এই হার ভক্তদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে দলের প্রতিরক্ষার দুর্বলতা নিয়ে সমালোচনা করেছেন। একজন ভক্ত লিখেছেন, “এত ভালো শুরুর পর এমন হার মেনে নেওয়া কঠিন। আশা করি শেষ ম্যাচে তারা ফিরে আসবে।” অন্যদিকে, গোয়ার ভক্তরা তাদের দলের প্রশংসায় মেতে উঠেছেন। একজন সমর্থক লিখেছেন, “লিকসন এবং গোয়ার আক্রমণ অসাধারণ। এই জয় আমাদের আশা জাগিয়েছে।”

জামশেদপুর এফসি’র জন্য ৪ এপ্রিলের ম্যাচটি হবে টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই। এই পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে দলটির কোচ এবং খেলোয়াড়দের দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে হবে। তাদের আক্রমণ ও প্রতিরক্ষায় ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্যদিকে, এফসি গোয়া এই জয়ের গতি ধরে রাখতে চাইবে। আরএফডিএল-এর এই গ্রুপ পর্ব এখন শেষ পর্যায়ে এসে উত্তেজনাপূর্ণ মোড় নিয়েছে।

জামশেদপুর এফসি’র অপরাজিত রেকর্ড ভেঙে গেলেও তাদের ভাগ্য এখনও তাদের হাতে। ডায়মন্ড হারবারের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে তারা কীভাবে ফিরে আসে, তা দেখার জন্য ভক্তরা অপেক্ষায় রয়েছেন। এফসি গোয়ার এই জয় তাদের প্রতিযোগিতায় ফিরিয়ে এনেছে। আরএফডিএল-এর ন্যাশনাল গ্রুপ পর্ব এখন আরও রোমাঞ্চকর হয়ে উঠেছে।