দশজনের জামশেদপুরের কাছে হেরে আইএসএল থেকে ছিটকে গেল নর্থইস্ট ইউনাইটেড। সম্পূর্ণ সময় শেষে ২-০ গোলের ব্যবধানে এই ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিল খালিদ জামিলের ছেলেরা। দলের হয়ে এদিন গোল করে গেলেন যথাক্রমে স্টিফেন এজে এবং জাভি হার্নান্দেজ। এই জয়ের সুবাদে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের সেমিফাইনাল খেলার ছাড়পত্র পেয়ে গেল দেশের শিল্প নগরীর এই ফুটবল দল। যা নিঃসন্দেহে খুশি করেছে সকলকে। বলাবাহুল্য, এদিন শিলংয়ের মাঠে ম্যাচ থাকায় প্রথম থেকেই যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিল নর্থইস্ট দল।
কিন্তু খুব একটা প্রভাব ফেলা সম্ভব হয়নি তাঁদের পক্ষে। বিশেষ করে ম্যাচের ২৯ মিনিটের মাথায় স্টিফেনের করা গোলের পর থেকেই ব্যাপক চাপে পড়ে যায় আলাদিন আজারাইরা। পরবর্তীতে বেশ কয়েকবার আক্রমণে উঠে গোলের মুখ খোলার চেষ্টা করলেও কাজের কাজ তেমন কিছুই হয়নি। অনায়াসেই পরিস্থিতি সামাল দেন জামশেদপুর গোলরক্ষক আলবিনো গোমস। এমনকি প্রথমার্ধের শেষ লগ্নেও দুই উইং থেকে আক্রমণ শানিয়ে গোল তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল পেদ্রো বেনালির ছেলেদের। তবে কাজের কাজ তেমন কিছুই হয়নি। যারফলে প্রথমার্ধের শেষে ১-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থাকে জামশেদপুর এফসি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের মুখ খুলতে তৎপর ছিল এবারের ডুরান্ড কাপ জয়ীরা। তবে আশুতোষ মেহতা থেকে শুরু করে মুহম্মদ উভাইসদের জমাট বাঁধানো রক্ষণে বারংবার আটকে যেতে হয় পাহাড়ের এই ফুটবল দলকে। অপরদিকে ব্যবধান বাড়িয়ে জয় সুনিশ্চিত করার পরিকল্পনা ছিল খালিদ জামিলের ছেলেদের। তবে ছন্দপতন হয় ম্যাচের ৮৮ মিনিটে। লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় জামশেদপুরের দাপুটে মিডফিল্ডার মোবাশির রহমানকে। যদিও তাঁর আগে থেকেই মুখ খুলতে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে বারংবার হানা দিচ্ছিলেন জিথিনরা। কিন্তু মোবাশির পাশের বাইরে যেতেই বাকি সময়ের মধ্যেই গোল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে নর্থইস্টের আপফ্রন্ট।
সেই সুযোগ নিয়েই ম্যাচের অতিরিক্ত সময় গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে যান জাভি হার্নান্দেজ। তারপর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ ছিল না বেনালীর ছেলেদের কাছে। অ22:26:50নায়াসেই সেমিফাইনালে উঠে যায় জামশেদপুর। আগামী ৩রা এপ্রিল নিজেদের ঘরের মাঠে সেমিফাইনালের প্রথম লেগ ফেলবে কোনর শিল্ডসরা।যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে কলকাতা ময়দানের অন্যতম প্রধান মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট।