
এখনও পর্যন্ত ধোঁয়াশায় রয়েছে দেশের প্রথম ডিভিশন ফুটবল লিগ (ISL uncertainty)। সেই নিয়ে যথেষ্ট হতাশ ভারতের ফুটবলপ্রেমীরা। গত কয়েক মাস ধরে বারংবার ক্লাব গুলি সহ নানা সংস্থা গুলির সঙ্গে বৈঠক আয়োজিত হলেও এখনও পর্যন্ত মেলেনি কোনও স্পষ্ট সমাধান সূত্র। এই সমস্ত কিছু নিয়ে এবার সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের উদ্দেশ্যে বিশেষ চিঠি পাঠানো হয়েছিল কলকাতা ময়দানের অন্যতম প্রধান তথা মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের তরফে। যেখানে ক্লাব জোটের প্রতিনিধি হিসেবে বাগান ফুটবল পরিচালক বিনয় চোপড়ার তরফে বলা হয়,’ মাস্টার রাইটস এগ্রিমেন্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার ফলে ক্লাবগুলোর সকল ধরনের আয় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়েছে।’
‘অন্যদিকে, খেলোয়াড় ও স্টাফদের বেতন, সম্ভাব্য স্টেডিয়াম ভাড়া, গ্রাসরুট ও একাডেমি পরিচালনা-এসব চুক্তিগত ও কার্যক্রমগত দায় ক্লাবগুলোকেই বহন করতে হচ্ছে। এটি আর বাণিজ্যিক চাপ নয় এটি সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক অসম্ভবতা। এক্ষেত্রে দ্রুত সমাধান না হলে ক্লাবগুলো ফুটবল কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হবে। যারফলে হাজারো খেলোয়াড়, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ ও কর্মচারীর জীবিকা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং গত এক দশকে গড়ে ওঠা ফুটবল কাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ সেই সমস্ত দিক মাথায় রেখে আরও বলা হয়, ‘আমরা যেকোনো সময় বৈঠকে যোগ দিতে প্রস্তুত, তবে বৈঠকের এজেন্ডা অবশ্যই আগেই জানানো থাকতে হবে এবং আলোচনার লক্ষ্য হতে হবে সময়বদ্ধ, গঠনমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ। দীর্ঘদিনের পরিচিত সীমাবদ্ধতা পুনরাবৃত্তি করার উদ্দেশ্যে বৈঠক হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা বিনীতভাবে মনে করিয়ে দিচ্ছি যে সংবিধানগত প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ার পরই এমন বৈঠক সবচেয়ে কার্যকর হবে-যাতে লিগকে বাস্তবসম্মতভাবে আয়োজনের পথ পরিষ্কার হয়।’
তবে সময় যে কারুর জন্য থেমে থাকে না। সেটা সকলের জানা। তাই আরও বলা হয়, ‘তবে সময় দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তাই ক্লাবগুলো অনুরোধ করছে-স্পষ্ট দিকনির্দেশ, সংবিধানগত সমাধান এবং বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো অবিলম্বে প্রদান করা হোক।’ এই চিঠির কিছু সময় পরেই পাল্টা উত্তর দেওয়া হয় সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের তরফে। যেখানে বলা হয়, ‘আপনার পত্রের প্রাপ্তি আমরা স্বীকার করছি।
লিগের আগাম সূচনাপর্ব নিয়ে আলোচনা করার জন্য সমস্ত আইএসএল ক্লাবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ করা হয়েছে। আপনাকে জানানো যাচ্ছে যে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন একটি কার্যকর সমাধানে পৌঁছানোর জন্য সমস্ত স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে সক্রিয় যোগাযোগ বজায় রেখেছে। আমাদের যৌথভাবে একটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পথ নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু বিষয়টি বর্তমানে মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের বিচারাধীন, এবং বিচারপতি এল. এন. রাও কর্তৃক আদালতে ইতিমধ্যেই প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে, তাই বর্তমানে দুটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে।’
প্রথমত, ‘মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করা; অথবা যৌথভাবে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ বিকল্প সমাধান খুঁজে বের করা। আপনাদের পক্ষ থেকে যে কোনও প্রস্তাব এআইএফএফ-এর নির্বাহী কমিটি এবং সাধারণ পরিষদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে এবং ২০ ডিসেম্বর ২০২৫-এ নির্ধারিত সভায় অনুমোদন নিতে হবে। আপনার বোঝাপড়ার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ।’ শেষ পর্যন্ত কোনদিকে যায় পরিস্থিতি এখন সেটাই দেখার।










