রবিবার গোয়ার ফতোর্দা স্টেডিয়ামে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে মাঠে নামবে বেঙ্গালুরু এফসি (Bengaluru FC)। জেরার্ড জারাগোজার দলের লক্ষ্য একটিই ফাইনালে জায়গা করে নেওয়া। প্রথম লেগে কান্তিরাভায় ২-০ গোলে জয়ের সুবাদে ব্লুজদের হাতে এখন দুই গোলের লিড। সন্দেশ ঝিঙ্গানের আত্মঘাতী গোল এবং এডগার মেন্ডেজেরর দুর্দান্ত স্ট্রাইক তাদের এই সুবিধা এনে দিয়েছে।
ব্লুজদের প্রধান কোচ জেরার্ড জারাগোজা ম্যাচের আগে সাংবাদিকদের বলেন, “দুই গোলের লিড একটা সুবিধা বটে, কিন্তু আমরা একটা শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলতে যাচ্ছি। শান্ত থাকা, সব জায়গায় ডিফেন্ড করা এবং কাউন্টার-অ্যাটাকে সুযোগ খোঁজা জরুরি। গোয়া এই মরসুমে শীর্ষ তিন দলের একটি। এটা আমাদের জন্য কঠিন হবে। আমরা খেলব এমনভাবে যেন প্রথম লেগ ০-০ শেষ হয়েছে। জয়ের জন্যই মাঠে নামব।”
প্লে-অফে টানা দুটি দাপুটে পারফরম্যান্সে ব্লুজরা ঠিক সময়ে ফর্মে ফিরেছে। মুম্বই সিটি এফসির বিরুদ্ধে ৫-০ গোলের জয়ের পর কান্তিরাভায় গোয়ার বিরুদ্ধে ২-০ জয়ে তারা নিজেদের শক্তি দেখিয়েছে। গোয়ার বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে অপরাজিত রেকর্ড ধরে রেখে ব্লুজরা এখন ফতোর্দায় যাচ্ছে দুই গোলের লিড নিয়ে। একটি শক্ত ফলাফল তাদের চতুর্থবারের জন্য আইএসএল ফাইনালে পৌঁছে দেবে।
বেঙ্গালুরুর আক্রমণভাগ এখন দারুণ ছন্দে। এডগার মেন্ডেজ (৯ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট), রায়ান উইলিয়ামস (৭ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট) এবং সুনীল ছেত্রী (১৩ গোল, ২ অ্যাসিস্ট) ফাইনাল থার্ডে দুর্দান্ত সমন্বয় দেখাচ্ছেন। মেন্ডেজ প্লে-অফের দুটি ম্যাচেই গোল করেছেন, তাঁর ফর্ম ব্লুজদের জন্য বড় শক্তি। বদলি হিসেবে নামা জর্জ পেরেইরা দিয়াজও দুটি ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
মিডফিল্ডে আলবার্তো নোগুয়েরা (৫ গোল, ৪ অ্যাসিস্ট) খেলার সংযোগ এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভাঙতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সুরেশ ওয়াংজাম এবং পেদ্রো কাপো মিডফিল্ডে শক্তি ও গতি যোগ করছেন, প্রতিপক্ষের খেলা ভাঙতে এবং দ্রুত ট্রানজিশনে সাহায্য করছেন।
জারাগোজা সম্ভবত আবারও তাঁর ভারতীয় ডিফেন্সের উপর ভরসা রাখবেন। অভিজ্ঞ রাহুল ভেকের নেতৃত্বে চিংলেনসানা সিং দারুণ জুটি বেঁধেছেন। নামগ্যাল ভূটিয়া প্রথম লেগে আক্রমণে উঠে মেন্ডেজের গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন, তাঁর প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। নাওরেম রোশন সিংও নিজেকে আরও শক্তিশালী করে তুলেছেন। গোলপোস্টে গুরপ্রীত সিং সান্ধু ব্লুজদের জন্য অপরিহার্য।
অন্যদিকে, লিগে দ্বিতীয় স্থানে থাকা গোয়ার সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। আর্মান্দো সাদিকু (৯ গোল, ২ অ্যাসিস্ট), ব্রিসন ফার্নান্দেজ (৭ গোল, ২ অ্যাসিস্ট) এবং ইকের গুয়ারোতক্সেনা (৭ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট) তাদের আক্রমণে শক্তি যোগাচ্ছেন। ব্লুজদের কম্প্যাক্ট ও শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকতে হবে তাদের জায়গা না দিতে। মিডফিল্ডে বোরহা হেরেরা এবং কার্ল ম্যাকহিউ বেঙ্গালুরুর গঠন ভাঙার দায়িত্বে থাকবেন। প্রথম লেগে ব্লুজদের ওভারল্যাপিং ফুলব্যাক ও দ্রুত ট্রানজিশনের কাছে গৌররা হিমশিম খেয়েছিল, এবার তাদের ডিফেন্স শক্ত করতে হবে।
জারাগোজা আরও বলেন, “খেলোয়াড়দের বাড়তি প্রেরণার দরকার নেই। প্লে-অফে থাকার গুরুত্ব এবং বেঙ্গালুরু এফসির অংশ হওয়ার তাৎপর্য তারা জানে। আমাদের সঠিক সময়ে শারীরিক, কৌশলগত এবং মানসিকভাবে সেরা ফর্মে পৌঁছতে হবে।”
বেঙ্গালুরুর ভ্রমণরত সমর্থকরা আশা করছেন, তিন বছরে দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠবে তাদের দল। গত কয়েক সপ্তাহের গতি যদি রবিবার ধরে রাখতে পারে, তবে স্বপ্ন পূরণ হতে বেশি সময় লাগবে না। ফতোর্দার জয়ী দল ফাইনালে জামশেদপুর এফসি বা মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের মুখোমুখি হবে। ব্লুজদের এই যাত্রায় সমর্থকদের উৎসাহই হবে তাদের বড় শক্তি। ফতোর্দায় গৌরদের ঘরের মাঠে কী ঘটে, সেটাই এখন দেখার।