বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইন্ডিয়ান সুপার লিগের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ম্যাচ খেলতে নেমেছে মোহনবাগান (Mohun Bagan) সুপার জায়ান্ট। যেখানেই তাঁদের প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে খালিদ জামিলের শক্তিশালী জামশেদপুর এফসি। ঘরের মাঠে ম্যাচ থাকায় প্রথম থেকেই যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসের সাথে খেলতে দেখা গিয়েছে মোহাম্মদ শাননদের। আসলে প্রথম থেকেই গোল তুলে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ইস্পাত নগরীর এই ফুটবল দলের। সেক্ষেত্রে খুব একটা সমস্যা হয়নি জামশেদপুর এফসির। ম্যাচের দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শেষের দিকেই সেটপিস থেকে চলে আসে গোল। ২৪ মিনিটের মাথায় জাভিয়ের সিভেরিও টোরোর হেড থেকে বল চলে যায় গোলের মধ্যে।
এই গোল নিঃসন্দেহে চাপে ফেলে দিয়েছিল সবুজ-মেরুন শিবিরকে। তবে ম্যাচে ফিরতে খুব একটা সময় লাগেনি মেরিনার্সদের। ম্যাচের ৩৮ মিনিটের মাথায় গোল করে দলকে সমতায় ফেরান অজি বিশ্বকাপার জেসন কামিন্স। ফ্রি-কিক থেকে তাঁর গোলমুখী শটের কোনও জবাব ছিল না প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের কাছে। জামশেদপুর এফসির গোলরক্ষক অ্যালবিনো গোমস লাফিয়ে উঠে বল আটকানোর চেষ্টা করলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অনায়াসেই বল চলে গিয়েছিল গোলের মধ্যে। যদিও তাঁর আগে ও একবার গোলের সহজ সুযোগ পেয়ে গিয়েছিলেন স্কটিশ ফরোয়ার্ড গ্ৰেগ স্টুয়ার্ট।
তবে আশুতোষ মেহতার করা ট্রাকলে নিয়ন্ত্রণে এসেছিল পরিস্থিতি। পাশাপাশি ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেয়েছিল খালিদ জামিলের জামশেদপুর। জাভি হার্নান্দেজের ভাসানো বল থেকে মহম্মদ শানন গোল করার চেষ্টা করলেও অনায়াসেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছিলেন আশীষ রাই। যারফলে প্রথমার্ধের শেষে বজায় থাকে ১-১ গোলের অমীমাংসিত ফলাফল। সেটা খুব একটা ইতিবাচক ছিল না জামশেদপুরের কাছে। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ঘন ঘন আক্রমণ করে গোল তুলে নিতে তৎপর হয়ে ওঠে উভয় শিবির। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি এখনও পর্যন্ত।
বর্তমানে বেশকিছু বদল এসেছে দলের অন্দরে। ইতিমধ্যেই অজি বিশ্বকাপার জেসন কামিন্সকে তুলে আরেক অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলার দিমিত্রি পেত্রাতোসকে মাঠে এনেছেন জোসে মোলিনা। অপরদিকে মহম্মদ শাননকে সরিয়ে ঋত্বিক দাসকে মাঠে আনেন জামশেদপুর কোচ। শেষ মুহূর্তে গোল তুলে নিয়ে বাজিমাত করাই এখন প্রধান লক্ষ্য উভয় দলের ফুটবলারদের।