টি-২০ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার রেশ কাটতে না কাটতেই বাজবে আইপিএলের (IPL 2026) দামামা। আগামী ৮ মার্চ টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনাল। তার ঠিক ১৮ দিন পর, অর্থাৎ ২৬ মার্চ থেকেই শুরু হতে পারে আইপিএলের ১৯তম সংস্করণ। সম্ভাব্য ফাইনাল ৩১ মে। কিন্তু এত বড় লিগের পূর্ণাঙ্গ সূচি এখনও অধরা। কারণ, পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন।
মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, অসম, কেরল ও পুদুচেরিতে ভোটগ্রহণ হওয়ার কথা। এই রাজ্যগুলোর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং তামিলনাড়ুর চেন্নাই সুপার কিংস আইপিএলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দল। এছাড়াও রাজস্থান রয়্যালসের কিছু ম্যাচ অসমের গুয়াহাটিতে আয়োজনের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এখনও নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা না করায় আইপিএলের সম্পূর্ণ সূচি চূড়ান্ত করতে পারছে না বিসিসিআই।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশন থেকে ভোটের সময়সূচি হাতে পেলেই দ্রুত আইপিএলের সূচিচূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হবে। ততদিন পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই বোর্ডের।
তবে বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি রেখেছে বিসিসিআই। দশ দল নিয়ে আয়োজিত আইপিএলের জন্য মোট ১৮টি ভেন্যুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য শহরগুলির তালিকায় রয়েছে দিল্লি, লখনউ, ধরমশালা, নিউ চণ্ডীগড়, চেন্নাই, মুম্বই, কলকাতা, হায়দরাবাদ, আহমেদাবাদ, তিরুঅনন্তপুরম, নবি মুম্বই, বিশাখাপত্তনম, গুয়াহাটি, জয়পুর, বেঙ্গালুরু, পুণে, রাঁচি ও রায়পুর।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার আইপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠকের পর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এবং রাজস্থান রয়্যালসকে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। দুই দলকেই দ্রুত জানাতে বলা হয়েছে, তাদের ঘরের মাঠ কোথায় হবে।
বেঙ্গালুরুর ক্ষেত্রে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়াম নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি। গত মরশুমে বিরাট কোহলির নেতৃত্বে আরসিবি আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দলের সেলিব্রেশনের সময় স্টেডিয়ামের বাইরে পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনার পর থেকে চিন্নাস্বামীতে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অন্যদিকে রাজস্থান রয়্যালসও সমস্যায়। রাজ্য ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে টানাপোড়েনের কারণে জয়পুরে খেলা অনিশ্চিত। সেক্ষেত্রে তাদের বিকল্প ঘরের মাঠ হিসেবে নবি মুম্বইয়ের নাম উঠে আসছে। সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে এখন বিসিসিআই। মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত কোটি টাকার লিগ, কিন্তু সূচির চাবিকাঠি আপাতত কমিশনের হাতেই।
