
আইপিএল ২০২৬ (IPL 2026) আগে চেন্নাই সুপার কিংসের ডাগআউটে যেন এক নতুন দমকা হাওয়া। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন দল প্রথমবারের মতো একদিকে বহন করছে ঐতিহ্যের ভার। অন্যদিকে শেষ স্থানে থেকে আসা হতাশার বাস্তবতা। স্থিতিশীলতা ও আবেগের বন্ধনে গড়া যে ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘পরিবার’ হিসেবে পরিচিত ছিল, তারা এবার নিয়েছে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর কিছু।
রিটেনশন উইন্ডোতে সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে দুটি ট্রেড—
• রাজস্থান রয়্যালস থেকে সঞ্জু স্যামসনের আগমন
• রবীন্দ্র জাদেজা ও স্যাম কারানের বিদায়
অনেক সমর্থকের কাছে এটি প্রায় অচিন্তনীয়। জাদেজা ছিলেন ধোনির পর ফ্র্যাঞ্চাইজির সর্বাধিক প্রভাবশালী ভারতীয় তারকা। ২০২৩ সালের ফাইনালে তার হাতে গড়া শেষ দুই বলে দশ রানের ইতিহাস তো এখনও সতেজ। কিন্তু ২০২৫ তলানিতে নামার পর পরিবর্তন অনিবার্য হয়ে পড়েছে। সিএসকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিল—পুরনো দর্শন ধরে রেখে নতুন যুগে যাওয়া সম্ভব নয়।
ধোনি যুগের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে CSK
৪৪ বছর বয়সী মহেন্দ্র সিং ধোনি আর খুব বেশি দিন দলের সঙ্গে মাঠে থাকবেন না, এটা এখন বাস্তবতা। তার পরের যুগের প্রস্তুতি শুরু করতেই ম্যানেজমেন্ট নেমেছে বড় সার্জারিতে। স্যামসনের মতো সিনিয়র ভারতীয় ব্যাটারকে আনা তারই ইঙ্গিত।
২০২৬ নিলামে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পার্স—তবে দল অসম্পূর্ণ
৪৩.৪০ কোটি টাকার পার্স নিয়ে সিএসকে নামছে নিলামে, কেকেআরের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। রাখা হয়েছে মোট ১৬ জন খেলোয়াড়; তার মধ্যে চারজন বিদেশি। গাইকেরওয়াড় নেতৃত্বে, পাশে স্যামসন, ব্রেভিস, শিবম দুবে, নাথান এলিস ও নূর আহমদরা থাকলেও জাদেজা–কারান–পাথিরানাকে ছাড়া দল স্পষ্টভাবে ভারসাম্যহীন।
সম্ভাব্য একাদশ (আইপিএল ২০২৬)
অয়ুশ মাত্ৰে, সঞ্জু স্যামসন (উইকেটকিপার), রুতুরাজ গাইকেরওয়াড় (অধিনায়ক), ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (বিদেশি), মিডল–অর্ডারে বিদেশি ব্যাটার/অলরাউন্ডার, এমএস ধোনি, ভারতীয় স্পিনার : নাথান এলিস (বিদেশি), নূর আহমদ (বিদেশি), খালেদ আহমেদ, অঞ্জুল কম্বোজ/মুকেশ চৌধুরি (ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার)
১. লোয়ার–অর্ডার ফিনিশার ও বিদেশি অলরাউন্ডার
জাদেজা ও কারানের বিদায়ে সিএসকের সবচেয়ে বড় শূন্যতা। ধোনির সঙ্গে নিচের দিকে অভিজ্ঞ ফিনিশার জরুরি।
লক্ষ্য:
ডেভিড মিলার — চাপে বড় ইনিংস খেলার ক্ষমতা
লিয়াম লিভিংস্টোন — পাওয়ার–হিটিং, সঙ্গে পার্ট–টাইম স্পিন
রাসেল অবসর নিয়েছেন, ম্যাক্সওয়েল খেলছেন না—ফলে বিকল্পও কমে গিয়েছে।
২. অভিজ্ঞ ভারতীয় স্পিনার
অশ্বিন অবসর, জাদেজা ট্রেড—স্পিন বিভাগে বড় শূন্যতা।
লক্ষ্য:
রাহুল চাহার
রবি বিষ্ণোই
বিদেশি হিসেবে হাসারঙ্গা বা থিসারা বিকল্প হতে পারেন, তবে নূর আহমদ থাকায় সম্ভাবনা কম।
৩. শক্তিশালী বিদেশি পেসার
এলিস ধারাবাহিক হলেও একা যথেষ্ট নয়।
লক্ষ্য:
মাতীশা পাথিরানা (পুনরায় কেনা হতে পারে)
মুস্তাফিজুর রহমান
নাভীন-উল-হক
জেরাল্ড কোয়েটজি (গতি, তবে চেপকে তুলনামূলক কম মানানসই)
জেকব ডাফি / ম্যাট হেনরি
৪. ব্যাকআপ ভারতীয় ব্যাটার
অয়ুশ মাত্রে প্রতিশ্রুতিশীল, তবে দ্বিতীয় মৌসুমে অনেকেই চাপের মুখে পড়ে।
লক্ষ্য:
পৃথ্বী শ — ফর্মে ফিরছেন, টপ–অর্ডার বিকল্প
বেঙ্কটেশ আইয়ার — ওপেন/মিডল–অর্ডার নমনীয়তা ও কিছুটা বোলিং
ক্যামেরন গ্রিন ব্যয়বহুল হলেও সিএসকের প্রয়োজন মেটান না; তিনি ওপেন/টপ–অর্ডার ব্যাটার।
নতুন দর্শনে, বড় পরিবর্তন নিয়ে, এবং প্রচুর অর্থ হাতে নিয়ে সিএসকে এখন এক নতুন পথে। স্যামসনকে এনে তারা ভবিষ্যতের ভারতীয় কোর গড়ার প্রথম ধাপ রেখেছে। কিন্তু ফিনিশার, স্পিনার এবং পেসারের তিনটি বড় ঘাটতি পূরণ করতে না পারলে ধোনি–পরবর্তী যুগ জটিলই হয়ে উঠবে। নিলামের রাতই বলে দেবে চেন্নাই কি আবার শক্তিশালী হয়ে উঠবে, নাকি পুনর্গঠনের পথ আরও দীর্ঘ হবে।










