নবান্ন সূত্রে খবর, যুবভারতী কাণ্ডে এবার সিটের (স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম) তদন্তের আওতায় মন্ত্রীরাও রয়েছেন। সল্টলেক স্টেডিয়ামের ঘটনাটি যে শুধুমাত্র একটি সাধারণ ঘটনা ছিল না, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে প্রশাসনিক তদন্তে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে, যার তদন্তের জন্য বিশেষ সিট গঠন করা হয়েছে। নবান্নের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের মাধ্যমে জানা গিয়েছে যে, মন্ত্রীরা এভাবে তদন্তের আওতায় আসবেন, তা পূর্বে অনুমান করা হয়নি। তবে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপের কারণে তারা এখন তদন্তের অংশ হয়ে উঠেছেন।
সল্টলেক স্টেডিয়ামে যে অরাজকতা এবং অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা শীঘ্রই যথাযথ তদন্তের মধ্যে পড়বে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে। সিটের তদন্তে একদিকে যেমন ঘটনাটির সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হবে, তেমনই মন্ত্রীরাও তাদের জবাব জমা দিয়েছেন, যা এখন পর্যালোচনা করা হবে। প্রশাসনিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই শোকজের জবাব খতিয়ে দেখে আরও বিস্তৃত তদন্ত করা হবে, যাতে কোনওরকম গাফিলতি বা অবহেলা প্রকাশ পেলে তা সঠিকভাবে প্রতিকার করা যায়।
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই কমিটি গঠন করা হয় এবং সিটের কাজের তত্ত্বাবধানও এই কমিটির মাধ্যমেই করা হচ্ছে। সিটের তদন্ত শুরুর পর, মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই রিপোর্ট আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দিতে হবে, যার পরে ঘটনার সত্যতা এবং মন্ত্রীরা কতটুকু দায়ী বা গাফিলতি করেছিলেন তা পরিস্কার হবে।
নবান্ন সূত্রে আরও জানানো হয়েছে যে, সিটের তদন্ত শুধু মন্ত্রীরাই নয়, সল্টলেক স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষের ভূমিকা, এবং অনুষ্ঠানের আয়োজনকারী সংস্থার বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রমাণ পাওয়া যায় তাও খতিয়ে দেখা হবে। বিশেষভাবে, তদন্তের পর যদি কোনও সরকারি কর্মকর্তার বা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, বিরোধী দলগুলি এই ঘটনার তদন্তে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলার চেষ্টা করেছে। তাদের বক্তব্য, যদি মন্ত্রীরা এই ঘটনায় জড়িত হয়ে থাকেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। বিরোধীদের মতে, যুবভারতী কাণ্ডের মতো গুরুতর ঘটনায় মন্ত্রীরা যে ধরনের দায়িত্বহীনতা বা অবহেলা দেখিয়েছেন, তা রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অগ্রহণযোগ্য। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দলের নেতারা এই তদন্তের মাধ্যমে সমস্ত অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সুষ্ঠু সমাধান আশা করছেন।
মুখ্যমন্ত্রীও বিষয়টি নিয়ে সজাগ, এবং তদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।** প্রশাসনের কাছে প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে, ঘটনার প্রকৃত তথ্য বের করা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া। যুবভারতী কাণ্ডের মতো ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সেই জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনাও নেওয়া হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।
