ইন্টার কাশি তাদের ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগ ২ (IWL 2)-এর যাত্রা শুরু করেছে একটি দাপুটে জয়ের মাধ্যমে। বুধবার, ২ এপ্রিল ২০২৫, বেঙ্গালুরুর পড়কোন-দ্রাবিড় সিএসই ফেজ ২-এ অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ‘বিশালাক্ষী’ নামে পরিচিত ইন্টার কাশি দলটি কাসা বারওয়ানি সকার ক্লাবকে ৫-০ গোলে পরাজিত করেছে। এই জয়ের মাধ্যমে দলটি তাদের প্রথম ম্যাচেই ইতিহাস গড়েছে এবং লিগে শক্তিশালী শুরুর ঘোষণা দিয়েছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই ইন্টার কাশি ৪-০ গোলের লিড নিয়ে নেয়। খেলা শুরুর মাত্র দ্বিতীয় মিনিটে অঞ্চল পটেল দলের প্রথম গোলটি করেন, যা ইন্টার কাশির ইতিহাসে প্রথম গোল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এরপর ২২তম মিনিটে নাওরেম হেনারিতা দেবী দ্বিতীয় গোলটি করেন এবং নয় মিনিট পর, ৩১তম মিনিটে তিনি আবার গোল করে দলকে ৩-০-এ এগিয়ে দেন। হাফটাইমের ঠিক আগে, ৪১তম মিনিটে আলিশা লিংডো চতুর্থ গোলটি করে প্রথমার্ধে ইন্টার কাশির আধিপত্য সুনিশ্চিত করেন। দ্বিতীয়ার্ধেও দলটি তাদের আক্রমণাত্মক ধারা বজায় রাখে। এই অর্ধে বাণী কালুচা তাঁর প্রথম গোলটি করেন, যা ম্যাচের পঞ্চম এবং শেষ গোল হিসেবে দলের জয়কে আরও জোরালো করে।
ম্যাচ শেষে দলের প্রধান কোচ অনির্বাণ ঘোষ বলেন, “আমরা এখনও একটি উন্নয়নশীল দল। আমি আমাদের সমর্থকদের অনুরোধ করব, তারা শান্ত থাকুন এবং পরবর্তী ম্যাচেও আমাদের উৎসাহ দিয়ে যান। প্রথম গ্রুপ পর্বে আমাদের আরও তিনটি ফাইনালের মতো ম্যাচ বাকি আছে, যেগুলোতে আমরা সর্বোচ্চ ফলাফল পেতে চাই। তবে, জয় দিয়ে শুরু করতে পেরে ভালো লাগছে।” তাঁর এই বক্তব্যে দলের আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার প্রতিফলন ঘটেছে।
ইন্টার কাশির পরবর্তী ম্যাচটি আগামী ৪ এপ্রিল, ২০২৫ (শুক্রবার) ভারতের অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত হবে। এই ম্যাচটিও দলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে, কারণ জাতীয় দলের তরুণীদের বিরুদ্ধে তাদের দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। গ্রুপ পর্বে তিনটি ম্যাচ বাকি থাকায়, ইন্টার কাশি এই জয়ের গতি ধরে রাখতে মরিয়া থাকবে।
এই জয় ভারতীয় মহিলা ফুটবলের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত। ইন্ডিয়ান উইমেন্স লিগ ২-এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মহিলা ফুটবলারদের একটি প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চ দেওয়া হচ্ছে। ইন্টার কাশির এই দাপুটে শুরু তাদের সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ সঞ্চার করেছে। অঞ্চল পটেল, নাওরেম হেনারিতা দেবী, আলিশা লিংডো এবং বাণী কালুচার মতো খেলোয়াড়রা এই ম্যাচে নিজেদের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন। বিশেষ করে হেনারিতা দেবীর দুটি গোল তাঁর গোল করার ক্ষমতা এবং মাঠে প্রভাব ফেলার দক্ষতা তুলে ধরেছে।
ইন্টার কাশি দলটি তাদের প্রথম ম্যাচেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। প্রথমার্ধে চারটি গোল এবং দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল তাদের দলগত সমন্বয় এবং কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ। কাসা বারওয়ানি সকার ক্লাব এই ম্যাচে তেমন প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি, যা ইন্টার কাশির আধিপত্যকে আরও স্পষ্ট করেছে।
ভারতীয় মহিলা ফুটবল গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। এআইএফএফ-এর উদ্যোগে আইডব্লিউএল এবং আইডব্লিউএল ২-এর মতো টুর্নামেন্টগুলো তরুণী ফুটবলারদের জন্য সুযোগ তৈরি করছে। ইন্টার কাশির এই জয় তাদের গ্রুপ পর্বে শক্ত অবস্থানে রাখবে এবং পরবর্তী রাউন্ডে ওঠার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে।
কোচ অনির্বাণ ঘোষের নেতৃত্বে দলটি এখনও উন্নতির পথে রয়েছে। তিনি দলের সম্ভাবনায় আশাবাদী হলেও, সমর্থকদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়েছেন। আগামী ম্যাচগুলোতে দলটি যদি এই ফর্ম বজায় রাখতে পারে, তবে তারা লিগে একটি শক্তিশালী দল হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
ইন্টার কাশির সমর্থকরা এখন ৪ এপ্রিলের ম্যাচের জন্য অপেক্ষা করছেন। ভারতের অনূর্ধ্ব-১৭ দলের বিরুদ্ধে এই লড়াই তাদের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হবে। এই জয়ের পর দলের মনোবল উচ্চে রয়েছে, এবং তারা পরবর্তী ম্যাচেও জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে মরিয়া থাকবে। বাংলার ফুটবলপ্রেমীরাও এই দলের পারফরম্যান্সের দিকে নজর রাখবেন, কারণ এটি ভারতীয় মহিলা ফুটবলের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের একটি ইঙ্গিত।