
ভারতীয় ফুটবলের (Indian Football) দুর্দিন যেন কাটতেই চাইছে না। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক দুর্বলতাও এবার সামনে এল। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনর (AFC) ডিসিপ্লিনারি ও এথিক্স কমিটির কড়া সিদ্ধান্তে একযোগে শাস্তি পেল এফসি গোয়া, সর্ব ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF) এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (BFF)। নিরাপত্তা ত্রুটি ও ম্যাচ সূচি লঙ্ঘনের মতো ঘটনায় এই শাস্তি আরোপ করা হয়েছে।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ভারতের অবনমন ১৪২-এ নেমে যাওয়া, আইএসএল ও আই লিগের মতো ঘরোয়া প্রতিযোগিতা শুরু না হওয়া। সব মিলিয়ে এমন সময়ে এএফসি’র এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় ফুটবলের জন্য মোটেই সুখবর নয়।
এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগ
এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২ আল নাসেরের বিরুদ্ধে এফসি গোয়ার ম্যাচ আয়োজন ঘিরে বড়সড় ত্রুটি ধরা পড়েছে। ২ অক্টোবর গোয়ার ফাতোরদা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই ম্যাচে একজন সমর্থক নিরাপত্তা ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়েন। আয়োজক হিসেবে নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় এএফসি’র ডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড এথিক্স কোডের ৬৪.১ ধারায় অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়েছে এফসি গোয়াকে।
এর জেরে ক্লাবকে ৫,০০০ মার্কিন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। এএফসি স্পষ্ট জানিয়েছে, দর্শক মাঠে প্রবেশের মতো ঘটনা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মোটেই বরদাস্তযোগ্য নয়।
ভারত–বাংলাদেশ ম্যাচে বিলম্ব, দুই ফেডারেশনই দোষী
অন্যদিকে, এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে ঢাকায় অনুষ্ঠিত ভারত–বাংলাদেশ ম্যাচেও নিয়মভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার ক্ষেত্রে দুই দলই নির্ধারিত সময়ের তুলনায় ১ মিনিট ৪৩ সেকেন্ড দেরিতে মাঠে নামে। সময়টা অল্প হলেও এএফসি’র নিয়ম অনুযায়ী এটিও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এই ঘটনায় ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনকে ১,০০০ মার্কিন ডলার (প্রায় ৯০ হাজার টাকা) জরিমানা করা হয়েছে। আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে গুনতে হবে ১,২৫০ মার্কিন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ১ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জরিমানা জমার নির্দেশ
এএফসি জানিয়েছে, আগামী ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ মধ্যে এফসি গোয়া, এআইএফএফ এবং বাফুফে তিন পক্ষকেই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ না মেটালে ভবিষ্যতে আরও কড়া শাস্তির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সব মিলিয়ে, মাঠের বাইরের এই শাস্তির খবরে ভারতীয় ফুটবল নতুন করে চাপে পড়ল। উন্নতির পথে ফিরতে হলে শুধু খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নয়, আয়োজন ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলাতেও যে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন, এএফসি’র এই সিদ্ধান্ত ফের তা মনে করিয়ে দিল।










