ভারত-পাক উত্তপ্ত সম্পর্কের মধ্যে অর্শাদকে নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ নীরজ

Neeraj Chopra said Arshad Nadeem and I were never really close friends

টোকিও অলিম্পিকে স্বর্ণপদকজয়ী এবং বিশ্বখ্যাত ভারতীয় জ্যাভলিন থ্রোয়ার (Indian Athletis) নীরজ চোপড়া (Neeraj Chopra) অবশেষে মুখ খুললেন পাকিস্তানের (Pakistan) আর্শাদ নাদিমকে (Arshad Nadeem) নিয়ে। ‘নীরজ চোপড়া ক্লাসিক’ নামে তাঁর নামাঙ্কিত প্রতিযোগিতায় আর্শাদকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে সম্প্রতি দেশজুড়ে শুরু হয়েছিল বিতর্ক। সেই প্রেক্ষিতেই দোহা ডায়মন্ড লিগের আগে এক সাংবাদিক সম্মেলনে নীরজ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “আর্শাদ নাদিমের সঙ্গে আমার কোনও দিনই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল না। এখন যেটুকু সম্পর্ক ছিল, সেটাও আর আগের মতো থাকবে না।”

২০১৮ সালের এশিয়ান গেমসে একসঙ্গে পদক জিতেছিলেন নীরজ ও আর্শাদ। তারপর থেকেই শুরু হয়েছিল এক ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা— যা কখনও ক্রীড়াঙ্গনের সৌহার্দ্যে, আবার কখনও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উষ্ণ হয়ে উঠেছে। তবে পহেলগাঁওতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া জঙ্গি হামলার পরে ভারত-পাক সম্পর্ক আরও তলানিতে ঠেকেছে। এরই মধ্যে আর্শাদ নাদিমকে আমন্ত্রণ জানানোয় অনেকেই নীরজের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এমনকি তাঁর পরিবারও হেনস্থার শিকার হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

   

এই পরিস্থিতিতে নীরজ বলেন, “আমি সবার আগে একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই, আমি আর আর্শাদ কোনও দিন ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলাম না। আমরা খেলোয়াড় হিসাবে কিছু কথাবার্তা বলেছি, সেটাই সব। কেউ যদি আমাকে সম্মান দেয়, আমি অবশ্যই তাকে সম্মান দিয়ে উত্তর দিই। কিন্তু এখন যা পরিস্থিতি, তাতে আমাদের সম্পর্ক আগের মতো থাকবে না।”

নীরজ আরও জানান, “আমি বিশ্বের নানা দেশের অনেক ক্রীড়াবিদের সঙ্গে ভালো বন্ধুত্ব রাখি। শুধু জ্যাভলিন নয়, অন্যান্য ইভেন্টের খেলোয়াড়দের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখি। তবে, আর্শাদের সঙ্গে সম্পর্ক কখনওই ব্যক্তিগত স্তরে ঘনিষ্ঠ ছিল না।”

প্রসঙ্গত, ‘নীরজ চোপড়া ক্লাসিক’ প্রতিযোগিতা, যা ২৪ মে বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, তাতে বিশ্বমানের জ্যাভলিন থ্রোয়ারদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ছিলেন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অ্যান্ডারসন পিটার্সও। সেই প্রতিযোগিতাতেই আর্শাদ নাদিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, তবে পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পরে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এরপরেই সেই প্রতিযোগিতা স্থগিত করা হয়।

নীরজ বলেন, “আমি একজন ক্রীড়াবিদ হিসাবে সব খেলোয়াড়কেই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। এটার পেছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। পহেলগাঁওর ঘটনার আগে আমন্ত্রণ পাঠানো হয়েছিল। এরপর যেভাবে পরিস্থিতি বদলেছে, তাতে আর্শাদের অংশগ্রহণ সম্ভব নয় বলেই স্থির করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, পহেলগাঁও জঙ্গি হানার পর পাকিস্তানের বেশিরভাগ ক্রীড়াবিদ নীরব থাকলেও, আর্শাদ একবার পাকিস্তানের পতাকার ছবি পোস্ট করে লেখেন— ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’। এই পোস্টের পর ভারতের ক্রীড়াপ্রেমীদের একাংশের ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।

নীরজের বক্তব্য অনুযায়ী, “জ্যাভলিন এমন একটি ইভেন্ট, যেখানে প্রতিযোগীদের সংখ্যা অনেক কম। প্রতিটি ক্রীড়াবিদ নিজ নিজ দেশের জন্য লড়ে এবং নিজের সেরাটা দিতে চায়। ভবিষ্যতেও সেটাই হবে। তবে এখনকার বাস্তব পরিস্থিতিতে আমাদের (নীরজ-আর্শাদ) সম্পর্ক আর আগের মতো থাকবে না।”

এদিকে, দোহা ডায়মন্ড লিগে অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত নীরজ। এই মরসুমে এটা তাঁর দ্বিতীয় প্রতিযোগিতা। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে একটি আমন্ত্রণমূলক প্রতিযোগিতায় ৮৪.৫২ মিটার থ্রো করে সোনা জিতেছিলেন তিনি। বর্তমানে তিনি কিংবদন্তি কোচ ইয়ান জেলেজনির অধীনে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন এবং লক্ষ্য রাখছেন ৯০ মিটার পার করার দিকে। সব মিলিয়ে, আর্শাদ নাদিমকে নিয়ে চলা বিতর্কের মাঝে নীরজ চোপড়া তাঁর অবস্থান পরিষ্কার করলেন।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Previous articleবিনিয়োগে নতুন দিগন্ত, SBI মিউচুয়াল ফান্ড আনল নতুন ইনডেক্স ফান্ড
Next articleট্রাম্পের কথায় ভারত ছাড়বে অ্যাপল! কী বলছে কর্তৃপক্ষ
Subhasish Ghosh
শুভাশীষ ঘোষ এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া সাংবাদিক, বর্তমানে Kolkata24X7.in ক্রীড়া বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ক্রিকেট থেকে ফুটবল, হকি থেকে ব্যাডমিন্টন প্রতিটি খেলাতেই তাঁর দখল প্রশংসনীয়। তিনি নিয়মিত ফিল্ড রিপোর্টিং করেন এবং ISL, I-League, CFL, AFC Cup, Super Cup, Durand Cup কিংবা Kolkata Marathon মতো মর্যাদাসম্পন্ন ইভেন্টে Accreditation Card প্রাপ্ত সাংবাদিক।২০২০ সালে সাংবাদিকতার জগতে আত্মপ্রকাশ, আর তখন থেকেই বাংলার একাধিক খ্যাতিমান সাংবাদিকের সাহচর্যে তালিম গ্রহণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইতিহাস ও রাজনীতির প্রতি রয়েছে অগাধ টান, যার প্রমাণ তাঁর অফবিট যাত্রাপথ ও অনুসন্ধিৎসু মন। পেশাগত প্রয়োজনে কিংবা নিতান্ত নিজস্ব আগ্রহে ছুটে যান অজানার সন্ধানে, হোক পাহাড়ি আঁকাবাঁকা গলি কিংবা নিঃসঙ্গ ধ্বংসাবশেষে ভরা প্রাচীন নিদর্শন। ছবি তোলার নেশা ও লেখার প্রতি দায়বদ্ধতা মিলিয়ে শুভাশীষ হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক।