I-League Controversy: আই লিগ ২০২৪-২৫ মরসুমে শেষ রাউন্ড শুরুর আগেই ঘটল নাটকীয় ঘটনা। রাজস্থান ইউনাইটেড এফসি সর্ব ভারতীয় ফুটবল সংস্থার কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। তাদের অভিযোগ, রিয়াল কাশ্মীর এফসি চলতি মরসুমে একটি ম্যাচে অযোগ্য খেলোয়াড় হায়দার ইউসুফকে খেলিয়েছে। এই ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৪ সালে ২৪ নভেম্বর শ্রীনগরের টিআরসি ফুটবল টার্ফে, যেখানে রিয়াল কাশ্মীর রাজস্থান ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল।
রাজস্থান ইউনাইটেডের চিঠিতে বলা হয়েছে, “আমরা, আই-লিগ ২০২৪ অংশগ্রহণকারী দল রিয়াল কাশ্মীর এফসির বিরুদ্ধে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাচ্ছি। তারা এআইএফএফ ডিসিপ্লিনারি কোড এবং আই-লিগ ২০২৪-২৫ সিজনের নিয়ম লঙ্ঘন করে একজন অযোগ্য খেলোয়াড়কে মাঠে নামিয়েছিল। ২৪ নভেম্বর, ২০২৪ টিআরসি ফুটবল টার্ফে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রিয়াল কাশ্মীর তাদের দলে ৬ নম্বর খেলোয়াড় হায়দার ইউসুফকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। আমাদের যাচাইয়ে জানা গিয়েছে, গত মরশুমের শেষ ম্যাচে (রিয়াল কাশ্মীর বনাম নামধারী ফুটবল ক্লাব, ১৩ এপ্রিল,২০২৪) তিনি লাল কার্ড পেয়েছিলেন। তাই তার এই মরসুমে খেলার অনুমতি ছিল না।”
কেন এই আবেদন?
রাজস্থান ইউনাইটেডের দাবি, হায়দার ইউসুফ গত মরসুমের শেষ ম্যাচে (১৩ এপ্রিল, ২০২৪) লাল কার্ড পেয়েছিলেন। এআইএফএফ নিয়ম অনুযায়ী, কোনও খেলোয়াড় সিজনের শেষ ম্যাচে লাল কার্ড পেলে তার সাসপেনশন পরবর্তী মরসুমে বহন করা হয়। ফলে, হায়দার ইউসুফের 24 নভেম্বরের ম্যাচে রিয়াল কাশ্মীরের হয়ে খেলা নিয়মবিরুদ্ধ। এই ম্যাচে রিয়াল কাশ্মীর ২-0 গোলে জিতেছিল, যা তাদের পয়েন্ট তালিকায় এগিয়ে রেখেছে।
রাজস্থান ইউনাইটেড এই ঘটনার জন্য এআইএফএফের কাছে কয়েকটি দাবি জানিয়েছে। তারা চায় এই বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হোক। তারা রিয়াল কাশ্মীরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা দাবি করেছে, যার মধ্যে রয়েছে ওই ম্যাচটিকে ফরফিট ঘোষণা করা। এছাড়াও, তারা রিয়াল কাশ্মীরকে পরবর্তী আই-লিগ মরশুম থেকে বাদ দেওয়া বা আগামী মরসুমে উল্লেখযোগ্য পয়েন্ট কাটার মতো শাস্তির কথাও বলেছে। তাদের মূল লক্ষ্য, আই-লিগের অখণ্ডতা রক্ষা করা।
শিরোপার দৌড়ে কী প্রভাব?
রিয়াল কাশ্মীর বর্তমানে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগে তৃতীয় স্থানে রয়েছে এবং শিরোপার দৌড়ে অন্যতম প্রতিযোগী। রাজস্থানের এই আবেদনের উপর এআইএফএফের সিদ্ধান্ত শিরোপার ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হবে। যদি ম্যাচটি ফরফিট ঘোষিত হয়, তাহলে রিয়াল কাশ্মীরের ৩ পয়েন্ট কমে ৩৩ হবে। এতে তারা পঞ্চম স্থানে নেমে যাবে, যা চার্চিল ব্রাদার্স, গোকুলাম কেরালা এবং ইন্টার কাশীর মতো দলের জন্য সুবিধা তৈরি করবে।
বর্তমানে শিরোপার দৌড় অত্যন্ত তীব্র। চার্চিল ব্রাদার্স শীর্ষে থাকলেও, রিয়াল কাশ্মীরের শক্তিশালী হোম রেকর্ড তাদের অন্যতম দাবিদার করে তুলেছে। কিন্তু এই অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে, তাদের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যেতে পারে। অন্যদিকে, রাজস্থান ইউনাইটেডের জন্য এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপও হতে পারে, যাতে তারা প্রতিপক্ষের পয়েন্ট কমিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে।
কী হবে এরপর?
এআইএফএফের ডিসিপ্লিনারি কমিটি এখনও এই অভিযোগের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেনি। তবে, আই-লিগের শেষ রাউন্ড ৫ এবং ৬ এপ্রিল ধার্য করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত যদি দ্রুত না নেওয়া হয়, তবে শিরোপা ঘোষণায় বিলম্ব হতে পারে। এর আগে, ইন্টার কাশী ও নামধারীর মধ্যে অনুরূপ বিতর্কে এআইএফএফ পয়েন্ট বাতিল করেছিল, যা পরে আপিল কমিটি স্থগিত করেছিল।
এই ঘটনা আই-লিগে নিয়ম মানার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। রিয়াল কাশ্মীরের জন্য এটি একটি চ্যালেঞ্জ, আর রাজস্থানের জন্য সুযোগ। ফুটবলপ্রেমীরা এখন অপেক্ষায়, এআইএফএফ কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা দেখার জন্য।