
অনেক অনিশ্চয়তা, টালবাহানা আর অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হতে চলেছে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL)। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে বল গড়ানোর ঘোষণায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। তবে এই মরশুমের আইএসএল বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। অন্যতম কারণ, বাংলার ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব। এ বার কার্যত ভারতীয় ফুটবলের ‘এপিসেন্টার’ হয়ে উঠল বাংলা।
শামির পর SIR শুনানিতে ডাক প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটারের
ইস্টবেঙ্গল এফসি, মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট এবং মহামেডান স্পোর্টিং, কলকাতার তিন ঐতিহ্যবাহী ক্লাব তো ছিলই। এ বার সেই তালিকায় নতুন সংযোজন ইন্টার কাশী এফসি। গত মরশুমের আই-লিগ চ্যাম্পিয়ন ক্লাব তাদের হোম গ্রাউন্ড হিসেবে পুনরায় বেছে নিয়েছে সেই বাংলাকেই। গতবার তারা আইলিগের সব ম্যাচ খেলেছিল কল্যাণী স্টেডিয়ামে। কিন্তু এবার বারাসত ও কল্যাণী স্টেডিয়ামে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে হোম ম্যাচ আয়োজন করতে ইচ্ছুক ইন্টার কাশী। ফলে চলতি আইএসএলে চার ক্লাব বাংলাকে নিজেদের ‘হোম’ হিসেবে দেখাল, যা ভারতীয় ফুটবলের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রত্যাশামতোই ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট তাদের হোম ম্যাচ খেলবে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। অন্য দিকে, মহামেডান স্পোর্টিং আগের মরশুমের মতো এ বারও কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনকে ঘরের মাঠ হিসেবে দেখিয়েছে, যদিও তা এখনও চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়।
বিশ্বকাপের আগে ফের ধাক্কা ভারতের, ছিটকে গেলেন ম্যাচ উইনার তারকা
বাংলার বাইরে বাকি ক্লাবগুলিও নিজেদের পুরনো হোম গ্রাউন্ডেই ফিরছে বলে সূত্রের খবর। বেঙ্গালুরু এফসি খেলবে কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে, কেরালা ব্লাস্টার্স বরাবরের মতো কোচির জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে নামবে। মুম্বই সিটি এফসি তাদের ম্যাচ আয়োজন করবে মুম্বই ফুটবল এরিনায়, চেন্নাইয়িন এফসি খেলবে চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে। হায়দরাবাদ এফসি, নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি এবং ওডিশা এফসিও নিজেদের ঘরের মাঠে সমর্থকদের সামনে খেলতে প্রস্তুত। উল্লেখযোগ্যভাবে, এতদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা ওডিশা এফসি অবশেষে ISL অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তবে মাঠে খেলা শুরু হলেও প্রশ্নচিহ্ন থেকেই যাচ্ছে লিগের বিভিন্ন দিক নিয়ে। ISL কতদিন চলবে বা কবে শেষ হবে, তা এখনও জানানো হয়নি। কোথায় সম্প্রচারিত হবে লিগ, তা নিয়েও কোনও সরকারি ঘোষণা নেই। কর্পোরেট স্পনসর, বাজেট এবং আর্থিক কাঠামো নিয়েও ধোঁয়াশা কাটেনি।
এই অনিশ্চয়তার প্রভাব পড়েছে ক্লাবগুলোর আর্থিক অবস্থায়। প্রায় সব ক্লাবই ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে, ফুটবলারদের বেতনে কাটছাঁট করা হচ্ছে। দেরিতে লিগ শুরু হওয়ায় যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার বোঝা গিয়ে পড়েছে খেলোয়াড়দের কাঁধে। এর জেরে একাধিক বিদেশি ফুটবলার দেশ ছেড়েছেন বা অন্য ক্লাবে লোনে চলে গিয়েছেন। তিরি, নোয়া, বোরহা হেরেরা, হামিদ আহদাদের মতো পরিচিত নামদের বিদায় নিঃসন্দেহে লিগের মানের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
সব মিলিয়ে চ্যালেঞ্জের পাহাড় সামনে রেখেই শুরু হচ্ছে এ বারের ISL। তবে বাংলার মাঠে মাঠে চারটি ক্লাবের ঘরের ম্যাচ। এই ছবিই নতুন করে আশা জাগাচ্ছে ফুটবলপ্রেমীদের মনে। অনিশ্চয়তার মধ্যেও যদি সমর্থকদের উন্মাদনা আর মাঠের আবহ ফিরে আসে, তবে এই ISL হয়তো আবার নতুন করে প্রাণ পাবে।










