আইপিএল ২০২৫-এর ১৪তম ম্যাচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) এবং গুজরাট টাইটান্স (জিটি)-এর মধ্যে একটি রোমাঞ্চকর লড়াই দেখা গেল এম. চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। শুভমন গিলের নেতৃত্বে গুজরাট টাইটান্স টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় এবং তাদের প্রাক্তন তারকা পেসার মহম্মদ সিরাজের (Mohammed Siraj) দুর্দান্ত বোলিংয়ের সৌজন্যে আরসিবিকে ২০ ওভারে ১৬৯/৮-এ আটকে দেয়। সিরাজ তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে পুরোনো দলের বিরুদ্ধে জ্বলে ওঠেন, যেখানে বিরাট কোহলি মাত্র ৭ রানে আউট হয়ে স্তব্ধ করে দেন সমর্থকদের। তবে, লিয়াম লিভিংস্টোনের ৫৪ রানের লড়াকু ইনিংস আরসিবিকে একটি সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছে দেয়। এখন জিটি-র হয়ে শুভমন গিল এবং সাই সুদর্শন ১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেছেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই গুজরাট টাইটান্স বোলিংয়ে আধিপত্য বিস্তার করে। মোহাম্মদ সিরাজ, যিনি একসময় আরসিবির পেস আক্রমণের মূল স্তম্ভ ছিলেন, এদিন তাঁর পুরোনো দলের বিরুদ্ধে আগুন ঝরান। প্রথম ওভারেই তিনি ফিল সল্টকে (১৩) আউট করেন। এরপর দ্বিতীয় ওভারে আরশাদ খান বিরাট কোহলিকে (৭) ফিরিয়ে দেন। সিরাজ আবার আঘাত হানেন দেবদত্ত পড়িক্কলকে (০) বোল্ড করে। পাওয়ারপ্লেতে আরসিবি ৪২/৪-এ ধসে পড়ে, যা সমর্থকদের মধ্যে হতাশা ছড়ায়। সিরাজের গতি এবং নিয়ন্ত্রণ এদিন আরসিবির শীর্ষস্থানীয় ব্যাটারদের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। তিনি মোট ৩/১৯-এর দুর্দান্ত স্পেল দিয়ে ম্যাচে গুজরাটের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন।
এরপর আরসিবির ইনিংসের দায়িত্ব নেন লিয়াম লিভিংস্টোন। ৪০ বলে ৫৪ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে তিনি দলকে লড়াইয়ে ফেরান। তাঁর ইনিংসে ছিল ৫টি ছক্কা এবং ১টি চার, যা রশিদ খানের মতো স্পিনারের বিরুদ্ধেও আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখায়। জিতেশ শর্মাও ২১ বলে ৩৩ রান করে মিডল অর্ডারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। শেষ দিকে টিম ডেভিড ১৮ বলে ৩২ রানের একটি দ্রুতগতির ইনিংস খেলে আরসিবিকে ১৬৯-এ পৌঁছে দেন। তবে, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ শেষ ওভারে ডেভিডকে আউট করে গুজরাটের জন্য বড় ধাক্কা এড়ান। সাই কিশোরও ২ উইকেট নিয়ে সিরাজের প্রচেষ্টায় সঙ্গ দেন।
গুজরাটের বোলিং আক্রমণ এদিন অত্যন্ত শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিল। সিরাজের পাশাপাশি প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ (১/২৬) এবং ইশান্ত শর্মা (১ উইকেট) নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে আরসিবিকে চাপে রাখেন। রশিদ খান এদিন উইকেট না পেলেও, লিভিংস্টোনের আক্রমণে তিনি ২০ রানে একটি ওভারে খরচ করেন, যা তাঁর জন্য বিরল। তবে, সাই কিশোরের স্পিন এবং সিরাজের গতি মিলে আরসিবির ব্যাটিং লাইনআপকে ভেঙে দেয়।
এখন গুজরাট টাইটান্সের সামনে ১৭০ রানের লক্ষ্য। শুভমন গিল এবং সাই সুদর্শন ওপেনিং করতে নেমেছেন। জিটি-র এই জুটি এই মরশুমে দারুণ ফর্মে রয়েছে। সুদর্শন ইতিমধ্যে দুটি ম্যাচে ৭৪ এবং ৬৩ রানের ইনিংস খেলেছেন, যখন গিলও ৩৮ রানের একটি ইনিংস দিয়ে নিজের ক্ষমতা দেখিয়েছেন। আরসিবির বোলিং আক্রমণে জশ হ্যাজলউড, ভুবনেশ্বর কুমার এবং যশ দয়ালের মতো পেসাররা গিল-সুদর্শন জুটিকে প্রথমে আটকানোর চেষ্টা করবেন। তবে, স্পিনে ক্রুণাল পান্ডিয়া এবং সুয়াশ শর্মার উপর বড় দায়িত্ব থাকবে, যারা এখনও এই মরশুমে নিজেদের প্রমাণ করতে পারেননি।
এই ম্যাচে আরসিবির জন্য বিরাট কোহলির ব্যর্থতা একটি বড় ধাক্কা। চিন্নাস্বামীতে ৩৫০০-র বেশি রান করা এই তারকা ব্যাটার এদিন আরশাদ খানের শর্ট ডেলিভারিতে স্কোয়ার লেগে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। অধিনায়ক রজত পটীদারও (১০) বেশি দূর এগোতে পারেননি। তবে, লিভিংস্টোন এবং ডেভিডের শেষ দিকের আক্রমণে আরসিবি একটি লড়াইয়ের স্কোর তুলতে সক্ষম হয়েছে।
গুজরাট টাইটান্স এই মরশুমে মিশ্র ফলাফল দেখেছে। পাঞ্জাব কিংসের কাছে হারের পর তারা মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে ৩৬ রানে জয় পেয়েছে। সিরাজ এবং প্রসিদ্ধ কৃষ্ণের পেস আক্রমণ এই ম্যাচেও তাদের শক্তি হবে। অন্যদিকে, আরসিবি টানা দুটি জয়ের পর ঘরের মাঠে প্রথম ম্যাচে জিততে মরিয়া। এই স্কোর তাড়া করা সহজ না হলেও, চিন্নাস্বামীর ছোট বাউন্ডারি এবং শিশিরের প্রভাব জিটি-কে সুবিধা দিতে পারে।
এই ম্যাচ বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের জন্যও আকর্ষণীয়, কারণ সিরাজের পারফরম্যান্স ভারতীয় পেস বোলিংয়ের শক্তি তুলে ধরেছে। এখন সবার নজর গিল এবং সুদর্শনের ওপর, যারা এই লক্ষ্য তাড়া করে জিটি-কে জয়ের পথে নিয়ে যেতে পারে কিনা।