প্রাক্তন মুম্বই অধিনায়ক প্রয়াত

মুম্বই ক্রিকেটের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র মিলিন্দ রেগে (Milind Rege) বুধবার হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি তার ৭৬ তম জন্মদিন পালন করেছিলেন। বিসিসিআইয়ের এক অফিসিয়াল বিবৃতির মাধ্যমে এই শোক সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে।

মিলিন্দ রেগে ছিলেন একজন প্রখ্যাত অফ-স্পিনার এবং তার ঘরোয়া ক্রিকেট ক্যারিয়ার অত্যন্ত সফল ছিল। ১৯৬৬-৬৭ থেকে ১৯৭৭-৭৮ পর্যন্ত প্রথম শ্রেণির ৫২টি ম্যাচে তিনি ১২৬টি উইকেট নেন। পাশাপাশি তিনি ১৫৩২ রান সংগ্রহ করেন, যার গড় ছিল ২৩.৫৬। তার অসাধারণ পারফরম্যান্স মুম্বই ক্রিকেটের ইতিহাসে এক অমূল্য সম্পদ হয়ে থাকবে।

   

ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরও রেগে মুম্বই ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের () সাথে গভীরভাবে জড়িত ছিলেন। তিনি নানা ভূমিকায় কাজ করেছেন, তার মধ্যে প্রধান সিলেক্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার নেতৃত্বে অনেক প্রতিভাবান ক্রিকেটার উঠে এসেছিলেন।

বিসিসিআই তাদের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডলে রেগের মৃত্যুতে শোক জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে, ‘‘বিসিসিআই মিলিন্দ রেগের প্রয়াণে শোকাহত। তিনি মুম্বই ক্রিকেটের এক অমূল্য রত্ন ছিলেন এবং তার অবদান ক্রিকেট বিশ্বে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর দৃষ্টিশক্তি এবং প্রতিভার প্রতি আগ্রহ ক্রিকেট দুনিয়ায় বিশেষ প্রশংসিত ছিল।’’

রেগে বিশেষভাবে খ্যাত ছিলেন মুম্বইয়ের রঞ্জি ট্রফি স্কোয়াডে এক তরুণ সাচিন তেন্ডুলকারকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সিলেকশন প্যানেলে থাকার জন্য। ১৯৮৮ সালে তেন্ডুলকারের প্রথম রঞ্জি ট্রফির অভিষেক ঘটে রেগের সিলেকশন প্যানেলের মাধ্যমে। এছাড়া তিনি মুম্বই ক্রিকেটে ভিডিও বিশ্লেষণের ব্যবহার সমর্থন করেছিলেন যা ২০০৬ সাল থেকে মুম্বইয়ের সিস্টেমে প্রবর্তন হয়েছিল।

রেগের অবদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে মুম্বই এবং বিদর্ভ দল রঞ্জি ট্রফি সেমিফাইনালে তাদের তৃতীয় দিনের খেলা শুরুর আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করেছে। এছাড়া বেশ কয়েকজন মুম্বই ক্রিকেটার, যারা রেগের অধীনে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন, তিনি স্মরণে কালো আর্মব্যান্ড পরেছিলেন।

এমসিএ সভাপতি অজিঙ্কা নায়েক বলেন, ‘‘মিলিন্দ রেগে স্যারের প্রয়াণে আমি গভীরভাবে শোকিত। মুম্বই ক্রিকেটের একজন অমূল্য রত্ন, তার অবদান, পরামর্শ এবং দিকনির্দেশনা প্রজন্মের পর প্রজন্মের ক্রিকেটারদের তৈরি করেছে। তার ছোঁয়া ছাড়া মুম্বই ক্রিকেটের ইতিহাস অসম্পূর্ণ। তার আত্মা শান্তি পাক। পরিবার এবং প্রিয়জনদের প্রতি আমার গভীর শোক প্রকাশ করছি।’’

রেগে এবং সুনীল গাভাসকারের মধ্যে ছিল একটি দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব। তারা একসঙ্গে একই স্কুল এবং কলেজে পড়াশোনা করেছিলেন এবং দাদার ইউনিয়ন স্পোর্টিং ক্লাবে একসাথে ক্রিকেট খেলেছেন। তাদের বন্ধুত্ব এবং ক্রিকেটে একসাথে কাটানো সময় মুম্বই ক্রিকেটের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

মিলিন্দ রেগের অবদান মুম্বই ক্রিকেটের ইতিহাসে চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং তার শূন্যস্থান পূরণ করা এক কঠিন কাজ হবে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন