গত শনিবার সকালে কলকাতার বুকে আয়োজিত হয়েছিল গোট কনসার্ট (GOAT concert Kolkata)। যার জন্য গত কয়েক মাস ধরেই মুখিয়ে ছিল বাংলার ফুটবলপ্রেমীরা। বিশেষ করে শনিবার গভীর রাতে লিওনেল মেসি দ্বিতীয়বারের জন্য শহরে পা রাখার পর থেকেই উত্তেজনার পারদ চরমে উঠেছিল শহরের। ক্লাব, ধর্ম, বর্ন নির্বিশেষে ভিড় জমিয়েছিলেন হাজার হাজার মানুষ। তারপর নির্ধারিত সময় যুবভারতীতে পা রাখেন মেসি সহ রদ্রিগো ডি পল এবং লুইজ সুয়ারেজ। তারপর মানুষের উচ্ছাস ছিল আকাশ ছোঁয়া। কিন্তু মনের মতো করে তারকাদের দেখতে পেলেন হাতে গোনা কিছু মানুষ।
স্বাভাবিকভাবেই ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙতে শুরু করেছিল আগত ফুটবলপ্রেমীদের। পরবর্তীতে হুলুস্থুল কাণ্ড ঘটে যায় যুবভারতীতে। মাঠ লক্ষ্য করে বোতল ছোড়ার পাশাপাশি উড়ে আসতে থাকে চেয়ার। ধীরে ধীরে যা মাত্রা ছাড়ায়। পুলিশি নিরাপত্তা কার্যত বিকল করে দিয়ে মাঠে ঢুকতে থাকেন কাতারে কাতারে মানুষ। পরিস্থিতির আন্দাজ পেয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই মেসি সহ বাকি ফুটবলারদের বের করে নিয়ে যাওয়া হয় স্টেডিয়াম থেকে। সময় যত এগোয় অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে সল্টলেক স্টেডিয়াম। ভাঙচুর চলতে থাকে ব্যাপকভাবে। বাদ যায়নি প্লেয়ার্স টানেল।
এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই গতকাল নিজেদের অনুশীলন স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। আজ ও দেখা গেল সেই একই পরিস্থিতি। বর্তমানে সিল করে দেওয়া হয়েছে স্টেডিয়াম। স্বাভাবিকভাবেই আজ ও নিজেদের অনুশীলন বাতিল করতে বাধ্য হয় কলকাতা ময়দানের এই প্রধান। যা নিঃসন্দেহে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে ম্যানেজমেন্টকে। হাতে মাত্র কিছুটা সময়। তারপরেই হয়তো শুরু হয়ে যাবে দেশের প্রথম ডিভিশন ফুটবল লিগ। তার আগে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের এমন বেহাল দশা নিশ্চিতভাবেই চিন্তায় ফেলে দিয়েছে সকলকে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগেই শহরে এসেছিলেন মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের বর্তমান কোচ সার্জিও লোবেরা। তাঁর তত্ত্বাবধানে অনুশীলন ও শুরু করেছিলেন জেসন কামিন্স-দিমিত্রি পেত্রাতোসরা। কিন্তু এবার মাঠ সমস্যায় ব্যাহত হলে দলের অনুশীলন।
