
কলকাতা এখন ফুটবল-উন্মাদনার কেন্দ্রে। শহরের বাতাসে ভাসছে একটাই নাম লিওনেল মেসি (Lionel Messi)। আর্জেন্টাইন মহাতারকার আগমনের আগে থেকেই উত্তেজনায় ফুঁসছে সমর্থক থেকে শুরু করে আইএসএল ফুটবলাররা। সেই উন্মাদনার আঁচ লেগেছে মোহনবাগান সুপার জায়েন্টের অনুশীলনেও।
মেসির সামনে মোহনবাগান অল স্টারসের নেতৃত্ব কে? নাম প্রত্যাহার ব্রাজিলিয়ান তারকার!
বৃহস্পতিবার অনুশীলন শেষে ট্রেনিং গ্রাউন্ডের বাইরে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের দিকে তাকিয়ে মজা করে জেসন কামিংসের প্রশ্ন, “মেসি কি এসে গিয়েছে?” তার সঙ্গে তাল মিলিয়েছেন আরও অনেক বাগান ফুটবলার। কারণ যে হোটেলে বাগান দলের বিদেশিরা থাকেন, সেখানেই উঠবেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার। শুনেই আরেক অজি ফুটবলার দিমিত্রি পেত্রোত্রস পর্যন্ত হেসে বলেছেন, “মেসির সঙ্গে রুম শেয়ার করার সুযোগ যদি পেতাম!”
এই একই দিনে মোহনবাগানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল সের্জিও লোবেরা-র নতুন অধ্যায়। প্রথম দিনেই ঘণ্টা দেড়েকের কড়া অনুশীলন করালেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত কারণে উপস্থিত ছিলেন না লিস্টন কোলাসো ও সাহাল আব্দুল সামাদ। জ্বরের কারণে অনুশীলন করতে পারেননি আপুইয়াও।
মজার বিষয়, অন্যরা যেখানে মেসিকে ঘিরে কৌতূহলী, সেখানে লোবেরা পুরোপুরি নিরুত্তাপ। বার্সেলোনার সহকারী কোচ হিসেবে তিনি অতীতে মেসিকে কোচিং করিয়েছেন। কিন্তু প্রাক্তন ছাত্রের কলকাতা সফর নিয়ে কিছু বলতে নারাজ বাগানের নতুন হেড কোচ।
১১ ডিসেম্বর মধ্যরাতে কলকাতায় আসছেন মেসি, তাই অবশেষে অপেক্ষার পালা শেষ হতে চলেছে। শুক্রবার মধ্যরাতে রাতেই শহরে পৌঁছবেন আর্জেন্টাইন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসি। দীর্ঘদিন পরে কলকাতা ফুটবলে এমন বিশ্বমানের তারকার আগমনকে ঘিরে শহর জুড়ে উৎসবের আবহ।
শনিবার মেসিকে ঘিরে তিলোত্তমার উন্মাদনা চরমে উঠবে। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন সাজানো হচ্ছে উৎসবের সাজে। তাই কয়েকদিন ধরে জল্পনা চলছিল, মেসির কলকাতা সফরে কি শাহরুখ খানের উপস্থিতি থাকবে? বৃহস্পতিবার নিজেই সেই জল্পনার অবসান ঘটালেন বলিউড বাদশা।মাজমাধ্যমে শাহরুখ লিখেছেন, “এইবার কলকাতায় নাইটদের নিয়ে কোনও পরিকল্পনা নেই। দিনটা পুরোপুরি মেসির। দেখা হচ্ছে ১৩ তারিখ সল্টলেক স্টেডিয়ামে।”
এর ফলে মেসি ও শাহরুখকে এক মঞ্চে দেখতে চলেছে কলকাতা। এক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে সমর্থকদের কাছে বড়দিনের আগেই বড় উপহার। এছাড়া উপস্থিত থাকবেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, লিয়েন্ডার পেজ এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ আরও বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। মেসির আগমন শুধু এক ফুটবল-মুহূর্ত নয়, বরং কলকাতার সংস্কৃতি, আবেগ এবং ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক অনন্য উৎসব।










