ব্যারিকেড ভেঙে ঢোকার চেষ্টা, যুবভারতীর স্মৃতি উসকে বিশৃঙ্খলা ক্যানিংয়ে

ফের আতঙ্ক। ফের বিশৃঙ্খলা। ফুটবল (Football) ঘিরে উন্মাদনার ছবি আবারও রক্তচাপ বাড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং স্টেডিয়ামে। যুবভারতীর ঘটনার স্মৃতি এখনও টাটকা, তার মধ্যেই MLA…

football-crowd-chaos-canning-stadium-mla-cup-final

ফের আতঙ্ক। ফের বিশৃঙ্খলা। ফুটবল (Football) ঘিরে উন্মাদনার ছবি আবারও রক্তচাপ বাড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং স্টেডিয়ামে। যুবভারতীর ঘটনার স্মৃতি এখনও টাটকা, তার মধ্যেই MLA কাপ ফাইনালকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ হুড়োহুড়ি, পদপিষ্ট হয়ে জখম শিশু-সহ অন্তত সাতজন দর্শক।

Advertisements

শনিবার ক্যানিং পশ্চিমে আয়োজিত MLA কাপ ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল গড়িয়া ও নিউটাউন। খেলা শুরুর আগেই স্টেডিয়ামের বাইরে জমতে শুরু করে অস্বাভাবিক ভিড়। ৭,৫০০ আসন বিশিষ্ট স্টেডিয়ামে অভিযোগ, তার চেয়ে অনেক বেশি টিকিট বিক্রি করা হয়। জনপ্রতি মাত্র ২০ টাকার টিকিট হওয়ায় সাধারণ মানুষের ঢল নামে মাঠমুখী।

   

পুলিশ সূত্রে খবর, নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি দর্শক ঢুকতে না দেওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ব্যারিকেড ভেঙে গেট দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন বহু মানুষ। সেই সময়েই শুরু হয় ধাক্কাধাক্কি, হুড়োহুড়ি। মুহূর্তের মধ্যে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন একাধিক দর্শক। পদপিষ্ট হয়ে আহত হন শিশু-সহ অন্তত সাতজন।

ঘটনার সময় মাঠে চলছিল ফাইনালের আগে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় চিত্রতারকা অঙ্কুশ হাজরা ও ঐন্দ্রিলা সেন। তাঁদের দেখার আগ্রহ এবং ফাইনাল ম্যাচের উত্তেজনা, দু’য়ের মিলিত চাপেই ভিড় আরও বাড়ে বলে অনুমান পুলিশের।

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ। অতিরিক্ত টিকিট বিক্রি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে গাফিলতির অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে ক্যানিং পশ্চিমের তৃণমূল বিধায়ক পরেশরাম দাস বলেন, “ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে মানুষের আবেগ ছিল তুঙ্গে। প্রায় ৭০-৮০ হাজার মানুষ এলাকায় হাজির হয়। স্টেডিয়ামের ভিতরে ১৫-১৭ হাজার মানুষের জায়গা থাকলেও তার বেশি কাউকে ঢুকতে দেওয়া সম্ভব হয়নি। ধাক্কাধাক্কিতে ৮-১০ জন পড়ে যান, কয়েকজন আহত হয়েছেন।”

যুবভারতীর স্মৃতি ফিরল কেন?

এই ঘটনার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবেই তুলনা টানা হচ্ছে কয়েক মাস আগের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনের তাণ্ডবের। মেসি-উন্মাদনায় ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতীতে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা এখনও শহরের স্মৃতিতে তাজা। মাঠ ছাড়ার পর মূহূর্তেই উত্তেজনা রূপ নেয় রোষে—জ্বলে ওঠে আগুন, ভাঙচুর হয় ক্যানোপি, মাঠে ছোড়া হয় জলের বোতল। সেদিনও ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছিল পুলিশকে। ক্যানিংয়ের ঘটনা যেন আবারও সেই একই প্রশ্ন তুলে ধরছে. ফুটবলপ্রেম না কি ব্যবস্থার ব্যর্থতা?

Advertisements