
গতবার পরিকল্পনা মাফিক ভাবে আয়োজিত হয়েছিল ইন্ডিয়ান সুপার লিগ। তবে এবার পরিস্থিতি একেবারেই ভিন্ন (Indian football crisis)। চলতি মাসের শুরুতেই এফএসডিএল এর সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়েছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের। যারফলে আদৌও কবে শুরু হবে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ সহ দেশের অন্যান্য ফুটবল টুর্নামেন্ট গুলি সেটা নিয়ে এখনও রয়েছে বেশ কিছুটা ধোঁয়াশা। যারফলে ব্যাপক সমস্যার মধ্যে পড়েছে ক্লাব গুলি। সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে এই নিয়ে একের পর এক বৈঠক আয়োজিত হলেও খুলছিল না জট। এসবের মাঝেই গত সপ্তাহ থেকেই মেসি ফিভারে কাবু হয়েছিল গোটা দেশ।
গত শনিবার সকালে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত হয়েছিল গোট কনসার্ট শতদ্রু দত্তের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টাইন তারকা তথা গতবারের বিশ্বজয়ী ফুটবলার লিওনেল মেসি। এছাড়াও ছিলেন রদ্রিগো ডি পল সহ লুইস সুয়ারেজের মতো তারকারা। কিন্তু নিরাপত্তাজনিত সমস্যা দেখা দেওয়ায় পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন করা যায়নি সেই অনুষ্ঠান। যারফলে কিছু সময়ের মধ্যেই স্টেডিয়াম থেকে বের করে আনতে হয়েছিল এই তিন তারকাকে। সেই নিয়ে পরবর্তীতে হুলুস্থুল কাণ্ড দেখা গিয়েছিল স্টেডিয়াম চত্বরে। তবে সেই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তীতে বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করতে দেখা গিয়েছিল আয়োজকদের।
যারফলে হায়দরাবাদ থেকে শুরু করে মুম্বাই ও রাজধানী দিল্লিতে সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়েছে গোট কনসার্ট। যা নজর কেড়েছে সকলের। দেশের ফুটবলপ্রেমীদের এই উন্মাদনাকে শ্রদ্ধা জানিয়েই এবার ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তুলে ধরলেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবল ক্লাবের গোলরক্ষক দেবজিত মজুমদার। কিছুক্ষণ আগেই নিজের সোশ্যাল সাইটে তিনি লেখেন, ‘ একজন খেলোয়াড় হিসেবে আইএসএল অনুষ্ঠিত না হতে দেখাটা সত্যিই হতাশাজনক। এই নীরবতার আড়ালে রয়েছেন অসংখ্য খেলোয়াড়, কোচ, স্টাফ এবং তাঁদের পরিবার, যারা হঠাৎ করেই তাঁদের জীবিকা হারিয়েছেন। ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি একটি পেশা, একটি স্বপ্ন এবং অনেকের জন্য বেঁচে থাকার অবলম্বন।’
আর ও বলেন, ‘ একমাত্র মেসির সফরের জন্য প্রায় ১৫০ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছিল, অথচ সেই একই পরিমাণ অর্থ দিয়ে আমরা দুটি লিগ চালু রাখতে পারতাম, কর্ম সক্রিয় রাখতে পারতাম এবং ফুটবলের ইকোসিস্টেমকে বাঁচিয়ে রাখতে পারতাম। বিশ্বখ্যাত তারকাদের নিয়ে উচ্ছ্বাস করাটা স্বাভাবিক, কিন্তু আমাদের নিজেদের ফুটবলকে অবহেলা করাটা গভীরভাবে কষ্ট দেয়। যদি আমরা সত্যিই এই খেলাটিকে ভালোবাসি, তবে সেই ভালোবাসা শুধু ক্ষণিকের জাঁকজমকের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশ্রুতির রূপ নিতে হবে। ভারতীয় ফুটবলের এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্থিতিশীলতা, সম্মান এবং বিশ্বাস প্রাপ্য।’










