ক্লাবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঞ্চ কাঁপাবেন বিশ্ব তারকারা

FIFA Club World Cup 2025 Opening Ceremony

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (USA) মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ২০২৫ (FIFA Club World Cup 2025) জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান (Opening Ceremony)। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুধু ফুটবলের নয়, বিশ্ব সংস্কৃতি ও সঙ্গীতের এক অসাধারণ প্রদর্শনী উপস্থাপিত হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন বিশ্ববিখ্যাত সঙ্গীতশিল্পীরা। মরক্কো-জন্মগ্রহণকারী র‍্যাপার ফ্রেঞ্চ মন্টানা, আমেরিকান সংগীতশিল্পী স্বে লি, মায়ামি থেকে উঠে আসা জনপ্রিয় লাতিন গায়িকা ভিকিনা এবং উদীয়মান তারকা রিচেলিও। প্রথমবারের মতো এই চার শিল্পী একসঙ্গে একই মঞ্চে পারফর্ম করবেন।

   

বালিচ ওয়ান্ডার স্টুডিওর সৃজনশীল পরিচালনায় এই বছরের থিম “A New Era Begins”। অনুষ্ঠানটিকে এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে বিশ্বের ৩২টি অংশগ্রহণকারী ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করা হয় এবং ভক্তদের মাঝে একতার বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। ফিফার মতে, “স্টেডিয়ামটি ড্রামার, নৃত্যশিল্পী ও একটি বিশাল কোরাস দ্বারা প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে এবং এই বিশাল উৎসবের চূড়ান্ত মুহূর্তে ৩২ ক্লাবকে সম্মান জানানো হবে।”

পারফরম্যান্সের বিবরণ

অনুষ্ঠান শুরু হবে একটি ভিডিও কাউন্টডাউনের মাধ্যমে, যেখানে দেখা যাবে বিশ্বজুড়ে ক্লাব সমর্থকদের চিত্র। এরপর মঞ্চে আসবেন ভিকিনা, যিনি “মিস ৩০৫” নামেও পরিচিত এবং উদীয়মান আর্টিস্ট রিচেলিও। তাদের সঙ্গীত পরিবেশনা স্থানীয় ও লাতিন প্রভাবের মিশ্রণে ভক্তদের মুগ্ধ করবে।

এরপর মঞ্চে আসবেন ফ্রেঞ্চ মন্টানা এবং স্বে লি। তাদের র‌্যাপ এবং হিপ-হপ সংগীতের মাধ্যমে মাঠজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে এক অনন্য উন্মাদনা। ফ্রেঞ্চ মন্টানা ফিফার এক বিবৃতিতে বলেন, “এই মুহূর্তটি বিশাল। আমি অপেক্ষা করতে পারছি না স্টেজে উঠে সেই আসল শক্তিটা দেখাতে, বিশ্বজুড়ে ভক্তদের সঙ্গে সংযোগ করতে এবং প্রমাণ করতে সঙ্গীত আর ফুটবল একসঙ্গে কতটা শক্তিশালী হতে পারে।”

বাইচুং ভুটিয়াকে নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ অভিযোগ কল্যাণ চৌবের

ফাইনালের হাফটাইমে আফ্রিকার গর্ব

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর, ১৩ জুলাই ফাইনালের হাফটাইম শোতেও অপেক্ষা করছে এক দারুণ চমক। আফ্রিকার গর্ব, নাইজেরিয়ান গ্র্যামিজয়ী সঙ্গীতশিল্পী টেমসর সঙ্গে পারফর্ম করবেন কলম্বিয়ার সুপারস্টার জে বালভিন এবং আমেরিকান র‌্যাপার ডোজা ক্যাট। এই অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা ও কিউরেশন করেছেন ক্রিস মার্টিন (কোল্ডপ্লে ব্যান্ডের প্রধান গায়ক)।

এই হাফটাইম শো শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য নয়, এটি একটি মহৎ উদ্যোগের অংশ—FIFA Global Citizen Education Fund। এর মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ ব্যবহার করা হবে বিশ্বজুড়ে শিশুদের জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে। ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, “এই সহযোগিতা একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, যেখানে ফুটবল ও সঙ্গীত একত্রিত হয়ে এক বৃহৎ মানবিক লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।”

ঐতিহাসিক সূচনা: ইন্টার মিয়ামি বনাম আল আহলি

২০২৫ সালের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরই, যেখানে মুখোমুখি হবে মেসির ক্লাব ইন্টার মিয়ামি এবং মিশরের বিখ্যাত ক্লাব আল আহলি। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে ৩২টি ক্লাব, যা ছয়টি মহাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে। মোট ১১টি শহরে ৬৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যা এটিকে ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক ক্লাব টুর্নামেন্টে পরিণত করবে।

ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ২০২৫ শুধুমাত্র ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নয়, এটি একটি বিশ্বব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসবে পরিণত হতে যাচ্ছে। এই প্রথমবারের মতো সঙ্গীত ও ফুটবলের এমন এক সমন্বয় ঘটছে, যা বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম। ফ্রেঞ্চ মন্টানা, স্বে লি, ভিকিনা এবং রিচেলিওর পারফরম্যান্স কেবলই একটি শুরু। ভবিষ্যতের জন্য এটি এক নতুন যুগের বার্তা।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Previous article২৭ বছর পর ‘চোকার্স’ তকমা মুছল প্রোটিয়াদের
Next articleভারতে Mercedes-AMG G 63 Collector’s Edition-এর ডেলিভারি এবছরই, মাত্র 30জনের ভাগ্যে রয়েছে
Subhasish Ghosh
শুভাশীষ ঘোষ এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া সাংবাদিক, বর্তমানে Kolkata24X7.in ক্রীড়া বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ক্রিকেট থেকে ফুটবল, হকি থেকে ব্যাডমিন্টন প্রতিটি খেলাতেই তাঁর দখল প্রশংসনীয়। তিনি নিয়মিত ফিল্ড রিপোর্টিং করেন এবং ISL, I-League, CFL, AFC Cup, Super Cup, Durand Cup কিংবা Kolkata Marathon মতো মর্যাদাসম্পন্ন ইভেন্টে Accreditation Card প্রাপ্ত সাংবাদিক।২০২০ সালে সাংবাদিকতার জগতে আত্মপ্রকাশ, আর তখন থেকেই বাংলার একাধিক খ্যাতিমান সাংবাদিকের সাহচর্যে তালিম গ্রহণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইতিহাস ও রাজনীতির প্রতি রয়েছে অগাধ টান, যার প্রমাণ তাঁর অফবিট যাত্রাপথ ও অনুসন্ধিৎসু মন। পেশাগত প্রয়োজনে কিংবা নিতান্ত নিজস্ব আগ্রহে ছুটে যান অজানার সন্ধানে, হোক পাহাড়ি আঁকাবাঁকা গলি কিংবা নিঃসঙ্গ ধ্বংসাবশেষে ভরা প্রাচীন নিদর্শন। ছবি তোলার নেশা ও লেখার প্রতি দায়বদ্ধতা মিলিয়ে শুভাশীষ হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক।