FIFA-AIFF Academy Trials: ফিফা এবং অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন (এআইএফএফ) বাংলার তরুণ ফুটবল প্রতিভাদের খুঁজে বের করার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে। ভুবনেশ্বরে অবস্থিত ফিফা এআইএফএফ ফুটবল অ্যাকাডেমির অনূর্ধ্ব-১৩ এবং অনূর্ধ্ব-১৫ বিভাগের পুরুষ ও মহিলা ফুটবলারদের জন্য বাংলা থেকে প্রতিভা চয়নের লক্ষ্যে একটি ট্রায়ালের আয়োজন করা হচ্ছে। এই ট্রায়ালে অংশ নিতে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া এবং হুগলী – এই পাঁচটি জেলার তরুণ ফুটবলারদের আহ্বান জানানো হয়েছে। এআইএফএফ এবং ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (আইএফএ)-এর স্কাউটরা এই প্রতিভা বাছাইয়ের দায়িত্বে থাকবেন।
এই ট্রায়ালে অংশগ্রহণের জন্য ফুটবলারদের নাম নথিভুক্ত করার প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হবে। এআইএফএফ খুব শীঘ্রই তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে একটি লিঙ্ক শেয়ার করবে, যার মাধ্যমে আগ্রহী প্রার্থীরা নিজেদের নাম জমা দিতে পারবেন। এই উদ্যোগ বাংলার ফুটবলারদের ফিফার মানসম্পন্ন অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ করে দেওয়ার একটি বড় পদক্ষেপ। এটি এআইএফএফ এবং আইএফএ-র একটি পাইলট প্রকল্প, যার মাধ্যমে বাংলার গ্রাসরুট ফুটবল থেকে প্রতিভা তুলে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বাংলা ভারতীয় ফুটবলের একটি ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্র। কলকাতার মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল এবং মহমেডান স্পোর্টিংয়ের মতো ক্লাবগুলো দেশের ফুটবল ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তবে, গ্রাসরুট স্তরে প্রতিভা চিহ্নিত করা এবং তাদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে এখনও অনেক কাজ বাকি। এই ট্রায়ালের মাধ্যমে ফিফা এবং এআইএফএফ সেই শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করছে। কলকাতা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর তরুণ ফুটবলারদের জন্য এটি একটি স্বপ্ন পূরণের সুযোগ।
এই ট্রায়ালে ছেলে এবং মেয়ে উভয় বিভাগের খেলোয়াড়দের সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভারতীয় মহিলা ফুটবলের উন্নতির জন্য এআইএফএফ গত কয়েক বছরে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলার মেয়ে ফুটবলাররাও ফিফার অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে, যা তাদের ক্যারিয়ারে একটি বড় মোড় হতে পারে। ভুবনেশ্বরের ফুটবল অ্যাকাডেমি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা এবং বিশ্বমানের কোচিংয়ের জন্য পরিচিত, যেখানে নির্বাচিত খেলোয়াড়রা তাদের দক্ষতাকে আরও শাণিত করতে পারবে।
এই উদ্যোগের পাশাপাশি, এআইএফএফ এবং আইএফএ বাংলার ফুটবল স্কাউটদের জন্য একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে। বাংলা থেকে অনধিক একশো জন স্কাউটকে নিয়ে একটি অনলাইন ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হবে। এই ওয়ার্কশপের মূল লক্ষ্য হল প্রতিভা চয়নের ক্ষেত্রে স্কাউটদের দক্ষতা বাড়ানো। ফুটবলের আধুনিক কৌশল, খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক দিক বিশ্লেষণ এবং তাদের সম্ভাবনা মূল্যায়নের বিষয়ে এই কর্মশালায় আলোচনা হবে। এই প্রশিক্ষণ বাংলার ফুটবল ইকোসিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রতিভা আবিষ্কারে সহায়ক হবে।
এই পাইলট প্রকল্পটি সফল হলে, এটি বাংলার ফুটবলের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারে। এআইএফএফ-এর একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “বাংলায় ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা এবং প্রতিভার কোনও অভাব নেই। আমরা চাই এই তরুণরা ফিফার অ্যাকাডেমিতে গিয়ে নিজেদের প্রমাণ করুক এবং ভারতীয় ফুটবলকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিয়ে যাক।” আইএফএ-র কর্মকর্তারাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং বাংলার ফুটবল সম্প্রদায়কে এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এই ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার জন্য তরুণ ফুটবলারদের প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলী এবং দুই চব্বিশ পরগনার ফুটবল ক্লাব এবং স্কুলগুলোতে এখন থেকেই উৎসাহের সঞ্চার হয়েছে। অভিভাবক এবং কোচরাও তাদের খেলোয়াড়দের এই সুযোগের জন্য প্রস্তুত করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এই প্রকল্প বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে।
এই ট্রায়াল এবং ওয়ার্কশপ বাংলার ফুটবলের ভবিষ্যৎ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফিফার এই অ্যাকাডেমিতে সুযোগ পাওয়া খেলোয়াড়রা ভারতীয় ফুটবলের পরবর্তী প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে। বাংলার তরুণরা যদি এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে, তবে আগামী দিনে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাদের নাম উজ্জ্বল হবে। এখন অপেক্ষা শুধু ট্রায়ালের দিনটির জন্য, যেখানে বাংলার ফুটবল স্বপ্ন একটি নতুন পথে এগিয়ে যাবে।