
সুপার কাপে ফাইনালে এসে আবারও ব্যর্থতার কাহিনি লিখল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal)। জেতা ম্যাচ টাইব্রেকারে ব্যবধানে হেরে ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হল লাল–হলুদের। গোয়ার ফতোরদা স্টেডিয়ামে এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ পকেটে পুরতে পারত অস্কার ব্রুজোর দল। কিন্তু সুযোগ নষ্টের বারবার পুনরাবৃত্তিতে শেষ পর্যন্ত হার নিয়েই ফিরতে হয় তাদের। আর এই ব্যর্থতার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন জাপানি স্ট্রাইকার হিরোশি ইবুসুকি।
ম্যাচজুড়ে একের পর এক গোল করতে ব্যর্থ হওয়া, টার্ন নিতে না পারা, রক্ষণ ভেদ করার সক্ষমতার অভাব। সব মিলিয়ে হিরোশির পারফরম্যান্সে ক্ষুব্ধ ইস্টবেঙ্গলের প্রাক্তন তারকা অ্যালভিটো ডি’কুনহা। কলকাতার এক অনুষ্ঠানে তিনি সরাসরি বলেন, “হিরোশির থেকে খেপের ফুটবলাররাও ভালো খেলবে।”
৬২ মিনিটে হিরোশি যে সুযোগটি নষ্ট করেন, তা নিয়েই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটান অ্যালভিটো। বিপিন সিংয়ের নিখুঁত পাস থেকেও গোল করতে না পারার ঘটনায় তিনি বলেন, “গোটা ম্যাচে ওর কোনও ভূমিকাই চোখে পড়েনি। যেই এদের দলে আনে, শেষ পর্যন্ত ভুগতে হয় ইস্টবেঙ্গলকেই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ইস্টবেঙ্গল যদি বড় কোনও টুর্নামেন্ট জিততে চায়, তবে অবিলম্বে হিরোশির বিকল্প খুঁজতে হবে। একটা হেডের সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ। কী করে এরা এত বড় ক্লাবে জায়গা পায় বুঝতে পারি না।”
সম্প্রতি দলের অন্যতম গোলদাতা হামিদও অ্যালভিটোর সমালোচনার মুখে পড়েছেন। প্রাক্তনী বলেন “হামিদ কয়েকটা ম্যাচে গোল করেছে ঠিকই, কিন্তু ও চোটপ্রবণ। একটা পেনাল্টি মারার পর কেউ যদি চোট পায়, সেটা তো হাস্যকর। তবে আমার কাছে এটি হাসির বিষয় নয়—এটা দুঃখের।”
অ্যালভিটোর মতে, গত সিজনে গ্রিক স্ট্রাইকার দিয়ামান্তোকোসকে ছেড়ে দেওয়াটাই ছিল ভুল সিদ্ধান্ত। ইস্টবেঙ্গলের বর্তমান স্কোয়াড সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য, “দল এবার খুবই ভালো। ডিফেন্স দুর্দান্ত। শুধু একটা জায়গায় বদল আনলেই সাফল্য আসবে, সেটা ফরোয়ার্ড লাইন।”
লাল–হলুদ সমর্থকেরা এখন প্রশ্ন তুলছেন, হিরোশির বদলি কে? কবে আসবে নতুন স্ট্রাইকার? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—সুযোগ নষ্টের অভিশাপ কাটিয়ে উঠতে পারবে তো ইস্টবেঙ্গল?










