কলকাতা: ভারতীয় ফুটবলের এক বর্ণময় অধ্যায়ের অবসান ঘটল। বৃহস্পতিবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রাক্তনী তথা নব্বইয়ের দশকের প্রবাদপ্রতিম রাইট-ব্যাক ইলিয়াস পাশা। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই শয্যাশায়ী ছিলেন তিনি। ২২ জানুয়ারি সকালে বেঙ্গালুরুতে নিজ বাসভবনে জীবনাবসান হয় এই ফুটবল-সাধকের।
রক্ষণভাগের copy-book শৈলী ও ডার্বির স্মৃতি
বেঙ্গালুরুর আইটিআই (ITI) থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার ১৯৮৯ সালে মহামেডান স্পোর্টিংয়ের হয়ে কলকাতা ময়দানে পা রাখেন। তবে তাঁর ফুটবল প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ ঘটে লাল-হলুদ তাঁবুতে। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৮, দীর্ঘ আট বছর ১৭ নম্বর জার্সি গায়ে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণের বিশ্বস্ত সেনানী ছিলেন তিনি। মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য বা তরুণ দে-দের মতো কিংবদন্তিদের ভিড়েও নিজের জায়গা করে নেওয়া ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু অসামান্য ম্যাচ রিডিং এবং ‘ওভারল্যাপিং’-এর দক্ষতায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন কোচেদের প্রথম পছন্দ। লাল-হলুদ জার্সিতে তাঁর করা দুটি গোলের মধ্যে একটি ছিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানের বিরুদ্ধে কলকাতা ডার্বিতে, যা আজও সমর্থকদের স্মৃতিতে অমলিন।
সাফল্যের খতিয়ান ও আক্ষেপ East Bengal legend Ilias Pasha passed away
ইস্টবেঙ্গলের হয়ে কলকাতা লিগ, আইএফএ শিল্ড, ডুরান্ড কাপ, ফেডারেশন কাপ এবং ডিসিএম ট্রফি-সহ ভারতের তাবড় সব ট্রফি জয়ের কারিগর ছিলেন পাশা। বাংলার হয়ে সন্তোষ ট্রফি জয়ের গৌরবও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে। তাঁর প্রাক্তন সতীর্থ তরুণ দে শোকাতুর কণ্ঠে বলেন, “পাশা ছিল কপি-বুক ফুটবলের আদর্শ উদাহরণ। ও ঝুঁকিহীন এবং পরিচ্ছন্ন ফুটবল খেলত। মাঝেমধ্যেই আক্রমণভাগে উঠে এসে বিপক্ষকে ত্রস্ত করে দিত। আমরা শুধু একজন ফুটবলার নয়, এক অতি সজ্জন মানুষকে হারালাম।”
ফুটবল-প্রেম ও অন্তিম লড়াই
ফুটবলের প্রতি এতটাই নিষ্ঠা ছিল যে, কেরিয়ারের মধ্যগগনে থাকা অবস্থায় বহু সরকারি চাকরির প্রস্তাব অবলীলায় ফিরিয়ে দিয়েছিলেন কেবল খেলার জন্য। তবে জীবনের শেষ পর্বে তাঁকে চরম আর্থিক সঙ্কটের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। সেই সময় প্রিয় ক্লাব ইস্টবেঙ্গল তাঁর চিকিৎসায় এবং আর্থিক সাহায্যে এগিয়ে আসে। ময়দানের এই নিঃশব্দ নায়কের প্রয়াণে বাংলার ফুটবল মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে।
