HomeSports Newsডার্বিতে বাজিমাত করে লাল-হলুদ সমর্থকদের নয়নের মণি হবে এই ফুটবলার?

ডার্বিতে বাজিমাত করে লাল-হলুদ সমর্থকদের নয়নের মণি হবে এই ফুটবলার?

- Advertisement -

আগামী ১১ জানুয়ারি, অসমের গুয়াহাটি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হতে চলেছে কলকাতার (Kolkata) দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট (Mohun Bagan SG) এবং ইস্টবেঙ্গল এফসি (East Bengal FC)। এই ম্যাচটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের জন্য উৎসবের দিন। একদিকে, মগডালে (ISL) থাকা শক্তিশালী বাগান শিবির। অন্যদিকে মশাল ব্রিগেড যারা কিছুদিন আগেই নিজেদের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এই সবের মধ্যেও ডার্বির আগে আলোচনায় অস্কার ব্রুজোর (Oscar Bruzon) নতুন ছাত্র রিচার্ড সেলিস (Richard Celis)।

ডার্বির আগেই কলকাতায় লাল-হলুদের বিদেশি ফুটবলার, নেমে পড়লেন অনুশীলনে

   

ইস্টবেঙ্গল ক্লাব, যা দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্য এবং গৌরবের ইতিহাস বহন করে এসেছে, এবার একটি বড় চমক দিয়েছে তাদের সমর্থকদের। ক্লাবটি গত ৭ জানুয়ারি এক নতুন বিদেশি ফুটবলার রিচার্ড সেলিসকে সই করিয়েছে, যিনি ভেনেজুয়েলার জাতীয় দলের সদস্য। রিচার্ড সেলিসের আগমন লাল-হলুদ সমর্থকদের মধ্যে নতুন আশা ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তার আগমনে সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে আসন্ন কলকাতা ডার্বি নিয়ে যখন আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই নতুন ফরোয়ার্ড কি ডার্বিতে খেলতে পারবেন?

ইস্টবেঙ্গলের জন্য এই মুহূর্তে কিছুটা চাপের পরিস্থিতি চলছে। চলতি আইএসএল মরসুমে তাদের পারফরমেন্স তেমন ভাল না হলেও, গত ১৪ ম্যাচে মাত্র ১৪ পয়েন্ট সংগ্রহ করতে সক্ষম করেছে তারা। এর ফলে সুপার সিক্সে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন কোন তারকা খেলোয়াড়ের আগমন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের জন্য বড় একটি আশার সংকেত। তবে, রিচার্ড সেলিসকে নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে, বিশেষ করে তার ফিটনেস ও প্রস্তুতির বিষয়টি।

নামধারির চমকপ্রদ জয়, পরাজিত হয়েও শীর্ষে চার্চিল

ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজো অবশ্য জানাচ্ছেন, তিনি রিচার্ডকে ডার্বিতে মাঠে নামানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তার ম্যাচ ফিটনেস পরীক্ষা করবেন। বর্তমানে রিচার্ড সেলিসের ম্যাচ ফিটনেস নিয়ে কিছুটা সংশয় রয়েছে। ফুটবলপ্রেমীদের মনে এক ধরনের উদ্বেগ রয়েছে, কারণ এত বড় একটি ম্যাচে নতুন খেলোয়াড়ের দিকে পুরো দলকে ভরসা করে রাখা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তবে, যদি রিচার্ড ১০০ শতাংশ ফিট হন, তাহলে তাকে রিজার্ভ বেঞ্চে রাখা হতে পারে এবং ম্যাচের মাঝামাঝি সময় মাঠে নামানো যেতে পারে।

ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা এখন রিচার্ড সেলিসের দিকে নজর রাখছেন। কারণ তার আগমন শুধু মাঠে পারফরমেন্সের সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং দলের মনোবলও বাড়াতে পারে। রিচার্ড সেলিস তার প্রথম প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, “ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে যোগ দিয়ে আমি রোমাঞ্চিত। এই ক্লাবের ঐতিহ্যবাহী ইতিহাস এবং সমর্থকদের ব্যাপারে অনেক কথা শুনেছি। আমি নিজের কেরিয়ারে এক নতুন অধ্যায় যোগ করতে চলেছি। নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করার জন্য আমি মুখিয়ে রয়েছি। জয় ইস্টবেঙ্গল।” তার এই বক্তব্য দলের জন্য এক ধরনের অনুপ্রেরণা হতে পারে, যা খেলোয়াড়দের মনোবলকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।

আসন্ন বিশ্বকাপেই ইতি! জানালেন ব্রাজিলের সর্বোচ্চ গোলদাতা

এদিকে, মোহনবাগান সুপার জায়ান্টের দলও অনেক শক্তিশালী। তাদের সামনে দাঁড়িয়ে ইস্টবেঙ্গলকে খুবই কঠিন এক লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তবে, এদিনের ডার্বি শুধুমাত্র ফুটবলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং দুটি ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের মধ্যে এক সাংস্কৃতিক দ্বন্দ্বও বটে। যে ক্লাবটি জয়ী হবে, তাদের জন্য একটি বড় মর্যাদা অপেক্ষা করছে।

এই ভারতীয় রাইট ব্যাকের দিকে নজর কেরালার

এই কঠিন পরিস্থিতি এবং ভেনেজুয়েলার ফরোয়ার্ড রিচার্ড সেলিসের অভ্যর্থনায় এক নতুন আশার আলো দেখা যাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত তিনি ডার্বিতে খেলতে পারেন, অথবা তার ভূমিকা ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। তবে, ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকরা প্রত্যাশা করছেন, এই তারকা ফুটবলার তাদের ক্লাবের জন্য নতুন দিশা দেখাবেন এবং ডার্বিতে জয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।

- Advertisement -
Subhasish Ghosh
Subhasish Ghoshhttps://kolkata24x7.in/author/sports-news-desk
শুভাশীষ ঘোষ এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া সাংবাদিক, বর্তমানে Kolkata24X7.in ক্রীড়া বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ক্রিকেট থেকে ফুটবল, হকি থেকে ব্যাডমিন্টন প্রতিটি খেলাতেই তাঁর দখল প্রশংসনীয়। তিনি নিয়মিত ফিল্ড রিপোর্টিং করেন এবং ISL, I-League, CFL, AFC Cup, Super Cup, Durand Cup কিংবা Kolkata Marathon মতো মর্যাদাসম্পন্ন ইভেন্টে Accreditation Card প্রাপ্ত সাংবাদিক। ২০২০ সালে সাংবাদিকতার জগতে আত্মপ্রকাশ, আর তখন থেকেই বাংলার একাধিক খ্যাতিমান সাংবাদিকের সাহচর্যে তালিম গ্রহণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইতিহাস ও রাজনীতির প্রতি রয়েছে অগাধ টান, যার প্রমাণ তাঁর অফবিট যাত্রাপথ ও অনুসন্ধিৎসু মন। পেশাগত প্রয়োজনে কিংবা নিতান্ত নিজস্ব আগ্রহে ছুটে যান অজানার সন্ধানে, হোক পাহাড়ি আঁকাবাঁকা গলি কিংবা নিঃসঙ্গ ধ্বংসাবশেষে ভরা প্রাচীন নিদর্শন। ছবি তোলার নেশা ও লেখার প্রতি দায়বদ্ধতা মিলিয়ে শুভাশীষ হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক।
এই সংক্রান্ত আরও খবর
- Advertisment -

Most Popular