রিকির জোড় গোল, দশজনের ইস্টবেঙ্গলের কাছে হার বাগানের

নৈহাটিতে জ্বলল মশাল। এবার মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে হেলায় হারাল বিনো জর্জের ইস্টবেঙ্গল। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুসারে এদিন দুপুরে নৈহাটির বঙ্কিমাঞ্চল স্টেডিয়ামে রিলায়েন্স ডেভেলপমেন্ট লিগের হাইভোল্টেজ…

east-bengal-beat-mohun-bagan-by-2-0-goal-rfdl-kolkata-derby

নৈহাটিতে জ্বলল মশাল। এবার মোহনবাগান সুপার জায়ান্টকে হেলায় হারাল বিনো জর্জের ইস্টবেঙ্গল। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুসারে এদিন দুপুরে নৈহাটির বঙ্কিমাঞ্চল স্টেডিয়ামে রিলায়েন্স ডেভেলপমেন্ট লিগের হাইভোল্টেজ ডার্বি ম্যাচে নেমেছিল লাল-হলুদ শিবির (East Bengal)। ডেগি কার্ডোজোর ছেলেদের বিপক্ষে লড়াইটা যে সহজ নয় সেটা ভালো মতোই জানা ছিল সকলের। তাই সবদিক মাথায় রেখেই খেলোয়াড়দের তৈরি করেছিলেন কোচ। সম্পূর্ণ সময় শেষে ২-০ গোলের ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিল ইস্টবেঙ্গল। জোড়া গোল করেন রিকি সিং।

Advertisements

   

উল্লেখ্য, এবারের এই ডেভলপমেন্ট লিগে দুরন্ত ছন্দে রয়েছে মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গল। শেষ কয়েকটি ম্যাচে কার্যত খরকুটোর মতো উড়ে গিয়েছে উভয় দলের প্রতিপক্ষ‌‌। স্বাভাবিকভাবেই আজ যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসের সাথে একে অপরের মুখোমুখি হয়েছিল দুই শিবির। তাই প্রথম থেকেই তুল্যমূল্য লড়াই দেখা যায় নৈহাটি স্টেডিয়ামে। বল দখলের লড়াইয়ের প্রথম থেকেই একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল ভানলালপেকা গুইতে থেকে শুরু করে মিংগমা শেরপাদের। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় কোয়ার্টারের শুরুতেই গোলের মুখ খোলার সুবর্ণ সুযোগ চলে এসেছিল সবুজ-মেরুনের কাছে। ১৮ মিনিটের মাথায় গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন সুহেল আহমেদ ভাট।

কিন্তু সেটা কাজে লাগাতে পারেননি। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের টেক্কা দিয়ে গোল বক্সে ঢুকে পড়লেও বলটি সঠিক ভাবে রাখা সম্ভব হয়নি। পোস্টের পাশ দিয়েই বেরিয়ে যায় বল। তারপর বেশ কিছুটা সাবধানের সাথেই রক্ষণভাগ থেকে বল সাজিয়ে উপরে উঠতে থাকে ইস্টবেঙ্গল। প্রায় ২১ মিনিটের মাথায় ভানলালপেকা গুইতে বাগান গোল পোষ্টের দিকে শট নিলেও সেটা লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। যারফলে অমীমাংসিত ফলাফলে শেষ হয়েছিল ম্যাচের প্রথমার্ধ। তবে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই গোলের মুখ খুলে ফেলে লাল-হলুদ শিবির। ৪৬ মিনিটের মাথায় বাগান গোলরক্ষক প্রীয়াংশু দুবেকে বোকা বানিয়ে বল গোলে ঠেলে দিয়ে যান রিকি সিং। যারফলে অনেকটাই চাপে পড়ে যায় মোহনবাগান দল। তবে সুযোগ বুঝেই প্রতি আক্রমণে উঠে আসতে শুরু করেছিল মেরিনার্সরা।

৫৪ মিনিটের মাথায় গোলের সহজ সুযোগ পেয়েছিলেন রোশন। কিন্তু সেটি লক্ষ্যে রাখা সম্ভব হয়নি‌। তারপর ৬৭ মিনিটের মাথায় ভেসে আসা ক্রস থেকে দূরপাল্লার শট নিয়েছিলেন পাসাং দর্জি তামাং। তবে অল্পের জন্য বার পোস্ট উঁচিয়ে চলে যায় সাত নম্বর জার্সি ধারীর এই শট। পরবর্তীতে বল দখলের লড়াই চলতে থাকে ব্যাপকভাবে। কিন্তু এসবের মাঝেই ৭৫ মিনিটের মাথায় লাল-হলুদ রক্ষণভাগে হানা দিয়ে দুরন্ত হেড নিয়েছিলেন সুহেল আহমেদ ভাট। তবে যথেষ্ট দক্ষতার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন লাল-হলুদ গোলরক্ষক। ঠিক মিনিট সাতেকের ব্যবধানে রেফারির সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে লাল কার্ড দেখেন গুইতে। ইস্টবেঙ্গল দশজনে হয়ে যাওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই ম্যাচে ফেরার সুযোগ চলে এসেছিল বাগানের কাছে।

কিন্তু প্রতিপক্ষের আক্রমণাত্মক মনোভাব থেকে গিয়েছিল সেই আগের মতই। যার ফলে অতিরিক্ত ৭ মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় গোল তুলে নিতে খুব একটা সমস্যা হয়নি। ৯৪ মিনিটের মাথায় মোহনবাগানের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দিয়ে যান সেই রিকি।

Advertisements