
আইপিএল মিনি নিলামে (IPL 2026) ৬৪.৩০ কোটি টাকার বিশাল পার্স নিয়ে নেমেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। লক্ষ্য ছিল একটাই, গত মরশুমের ব্যর্থতা ভুলে দলকে নতুন করে গুছিয়ে নেওয়া। নিলামের শেষে তাকালে স্পষ্ট, সেই লক্ষ্যপূরণে অনেকটাই সফল শাহরুখ খানের দল। বিশেষ করে বোলিং বিভাগে যে কেকেআর বড়সড় শক্তিবৃদ্ধি করেছে। এই নিয়ে প্রশংসায় ভাসালেন প্রাক্তন ভারতীয় পেসার ইরফান পাঠান।
শ্রীলঙ্কার তারকা পেসার মাথিশা পাথিরানাকে দলে টানার পর কেকেআরের বোলিং আক্রমণ যে আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে, সে বিষয়ে দ্বিমত নেই ক্রিকেটমহলের। ‘জুনিয়র মালিঙ্গা’ নামে পরিচিত এই পেসারকে ৯.২০ কোটি টাকায় দলে নিয়েছে নাইটরা। ডেথ ওভারে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে পাথিরানার। আইপিএলে অতীতেও তার ঝলক দেখিয়েছেন তিনি।
এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া পোস্টে ইরফান পাঠান লেখেন, “মাথিশা পাথিরানা কেকেআরে যোগ দেওয়ায় দল আরও শক্তিশালী হয়েছে। ২০ ওভারের সব পর্যায় এখন পরিপূর্ণ। কার্যত কোনও ফাঁকফোকর নেই।”
নাইটদের বোলিং কম্বিনেশন বিশ্লেষণ করে পাঠান আরও জানান, পাওয়ারপ্লেতে হর্ষিত রানা ও বৈভব অরোরার মতো পেসাররা রয়েছেন। হর্ষিত ডেথ ওভারেও কার্যকর বোলিং করতে সক্ষম। মিডল ওভারে চাপ সামলানোর জন্য আছে সুনীল নারাইন, বরুণ চক্রবর্তী এবং ক্যামেরন গ্রিনের মতো অভিজ্ঞ ও বৈচিত্র্যময় বোলার। তার সঙ্গে পাথিরানাকে পাওয়ারপ্লে থেকে ডেথ—যেকোনও পর্যায়েই ব্যবহার করা যাবে বলে মত ইরফানের।
পরিসংখ্যান বলছে, আইপিএলে ৩২ ম্যাচে ৪৭টি উইকেট নিয়েছেন পাথিরানা, ইকোনমি ৮.৬৮। যদিও গত মরশুমে তাঁর পারফরম্যান্স খুব একটা নজরকাড়া ছিল না। ১২ ম্যাচে ১৩ উইকেট, ইকোনমি ছিল ১০ ওপরে। তবুও বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা এবং ডেথ ওভারে ইয়র্কার-নৈপুণ্যই কেকেআর ম্যানেজমেন্টকে তাঁর দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করেছে।
এছাড়াও বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের অভিজ্ঞতা হর্ষিত রানা ও বৈভব অরোরার মতো তরুণ বোলারদের গাইড করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সব মিলিয়ে, এবারের মিনি নিলামে কেকেআরের পরিকল্পনা যে শুধু নামী ক্রিকেটার কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং দলগত ভারসাম্য ও ম্যাচের প্রতিটি পর্যায়ের জন্য নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইরফান পাঠানের মন্তব্যে সেটাই আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠল। নাইট সমর্থকদের আশা, এই শক্তিশালী বোলিং আক্রমণই আগামী মরশুমে কেকেআরকে আবার শিরোপা-দৌড়ে ফেরাবে।










