রাঁচি: রাঁচিতে ভারত দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম একদিনের ম্যাচে ম্যাজিক দেখিয়েছে রোকো জুটি। কোহলির সেঞ্চুরি এবং রোহিত-রাহুলের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ভর করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৩৫০ রানের লক্ষ্য মাত্রা দিয়েছিল মেন্ ইন ব্লু ব্রিগেড। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি দক্ষিণ আফ্রিকার। নির্ভরযোগ্য তিন ব্যাটার ডি কক, মারকরাম এবং রিকেলটন রান পাননি।
তবুও ব্রিটজে ৭২ এবং জানসেনের ঝোড়ো ৭০ এ ভর করে জয়ের স্বপ্নও দেখতে শুরু করেছিল প্রোটিয়ারা। কিন্তু ভারতের বোলিং ইউনিট শেষ পর্যন্ত মান বাঁচাল ভারতের। জানসেন এবং ব্রিটজে যখন ম্যাচ জিততে বদ্ধপরিকর ঠিক তখনই আঙ্গুলের জাদু দেখাতে শুরু করেন কুলদীপ যাদব। তার বৈচিত্র্যময় টার্ন ও গুগলি’তে বিপদে পড়ে একের পর এক প্রোটিয়া ব্যাটার। সুনিপুণ বোলিংয়ে তিনি তুলে নেন ৪ উইকেট, আর ম্যাচের মোমেন্টাম আবার ভারতীয়দের দিকে ফিরে আসে।
গোয়ায় সেমিফাইনাল বিনামূল্যে! সমর্থকদের জন্য বড় ঘোষণা
এদিন দারুণ নজর কাড়লেন হরষিত রানাও। চাপে থাকা অবস্থায় তার ৩ উইকেট ম্যাচের গতিপথ ঠিক করে দেয়। ইয়র্কার, বাউন্সার আর অফ-কাটারের মিশেলে প্রোটিয়াদের ব্যাটিং লাইন-আপকে একঝটকায় ভেঙে দেন। অন্যদিকে অর্শদীপ সিংহ ১০ ওভারে ২ উইকেট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্রেকথ্রু এনে ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেন। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা ১ উইকেট নিলেও তার ডেথ ওভারের শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং প্রোটিয়াদের গতি থামিয়ে দেয়।
ভারতের স্পিন-যুগল কুলদীপ ও রবীন্দ্র জাদেজা মাঝের ওভারে রান চেপে ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার চাপ বাড়ান। জাদেজা নিজে উইকেট না পেলেও তার ইকোনমি ম্যাচের মোড় ঘোরাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই থামে ৩৩২ রানে। দাপটের সঙ্গে না জিতলেও ধোনির শহরে শেষ পর্যন্ত ভারতের বোলাররা মান বাঁচাল।
তবে প্রোটিয়া শিবিরের করবিন বশ মারাত্মক আক্রমণাত্মক ছিলেন কিন্তু তার ৬৭ রানের লড়াই তাদের ম্যাচে ফিরিয়ে আনতে পারেনি। রাঁচি এমন এক ম্যাচের সাক্ষী রইল, যেখানে ভারত শুধু জেতেনি—প্রমাণ করেছে যে চাপের মুহূর্তে তারা নিজেদের ধরে রাখার ক্ষমতা রাখে, আর তৈরির পথে থাকা নতুন ক্রিকেটারদের ওপরও ভরসা রাখতে পারে।
