
এশিয়া কাপে ভারত-পাকিস্তান (India vs Pakistan) দ্বৈরথ মানেই আলাদা উত্তেজনা। পরিসংখ্যানের পাতায় এগিয়ে থাকলেও ফাইনালের মঞ্চে এসে বারবারই বদলে যাচ্ছে ছবিটা। ২০২৫ সালে সেই বাস্তবতারই আরও এক অধ্যায় লেখা হলো। অনূর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপ ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ১৯১ রানে হেরে শিরোপা হাতছাড়া করল ভারত।
শীতের ভোরে দৌড়ের উৎসব, ২৫কে ম্যারাথনে রঙিন কলকাতা
ব্যাটে-বলে কোনও বিভাগেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারল না টিম ইন্ডিয়া। মাত্র ২৬.২ ওভারে গুটিয়ে গেল ভারতের ইনিংস—ফাইনালের মতো মঞ্চে যা নিঃসন্দেহে হতাশাজনক।
গ্রুপ পর্বের দাপট, ফাইনালে ছন্দপতন
এই টুর্নামেন্টে ভারত ভালো ছন্দেই ছিল। গ্রুপ পর্বে চারটি ম্যাচই জিতে তারা ফাইনালে ওঠে। এমনকি পাকিস্তানকেও গ্রুপ পর্বে ৯০ রানে হারিয়েছিল আয়ুষ মাত্রের দল। কিন্তু ফাইনালে এসে সেই আত্মবিশ্বাস আর মাঠে নামল না।
টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারত অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায়।
সমীর মিনহাসের রেকর্ড গড়া ইনিংস
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান তোলে বিশাল ৩৪৭ রান, ৮ উইকেট হারিয়ে। এই বড় রানের নেপথ্যে ছিলেন সমীর মিনহাস। ১১৩ বলে ১৭২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি—১৭টি চার ও ৯টি ছক্কায় সাজানো সেই ইনিংস কার্যত ম্যাচ একাই ঘুরিয়ে দেয়।
সমীরের সঙ্গে ১৩৭ রানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপ গড়েন আহমেদ হোসেন (৭২ বলে ৫৬)। ভারতের বোলিং আক্রমণে এ দিন প্রয়োজনীয় ধার বা ‘বারুদ’ দেখা যায়নি। দীপেশ দেবেন্দ্র নেন তিনটি উইকেট, খিলান প্যাটেল ও হেনিল প্যাটেল দু’টি করে এবং কনিষ্ক চৌহান একটি উইকেট নিলেও তাতে বড় রান আটকানো যায়নি।
রান তাড়ায় ধস
৩৪৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ধস নামে ভারতের ইনিংসে। ওপেনার ও অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে ফেরেন মাত্র ২ রানে। বহু চর্চিত বৈভব সূর্যবংশী ১০ বলে ২৬ রান করে আউট হন—একটি চার ও তিনটি ছক্কা মারলেও ইনিংস গড়ে তুলতে পারেননি।
মাঝের সারিতে ব্যর্থতার ছবি আরও স্পষ্ট। টিম ইন্ডিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন অ্যারন জর্জ, মাত্র ১৬। অভিজ্ঞান কুণ্ডু করেন ১৩ রান, যা দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শেষ উইকেটে কিষান কুমার সিং ও দীপেশ দেবেন্দ্র ৩৬ রানের জুটি গড়লেও তাতে ফল বদলায়নি। কোনও ভারতীয় ব্যাটারের ইনিংসই ৫০ ছুঁতে পারেনি। ২৬.২ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ম্যাচ শেষ করে ভারত।
পাকিস্তানের বোলিংয়ের দাপট
পাকিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল আলি রাজা, চারটি উইকেট নেন তিনি। দু’টি করে উইকেট নেন মহম্মদ সায়ম, আবদুল সুভান ও হুজ়াইফা আহসান। পরিকল্পিত বোলিংয়ে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে কার্যত ভেঙে দেয় তারা।
সিনিয়র স্তরে সাফল্যের পর জুনিয়র স্তরে এই হার নিঃসন্দেহে ভারতীয় শিবিরের জন্য বড় ধাক্কা। গ্রুপ পর্বের দাপট ফাইনালে ধরে রাখতে না পারাই পার্থক্য গড়ে দিল। অন্যদিকে, চাপের ম্যাচে ঠান্ডা মাথায় পারফরম্যান্স করে অনূর্ধ্ব ১৯ এশিয়া কাপের মুকুট ঘরে তুলল পাকিস্তান—আর ভারতকে ভাবনার খোরাক দিয়ে গেল এই হারের গল্প।
A defeat for India U19 in the #Final by 191 runs.
Scorecard ▶️ https://t.co/ht0DLU8XQ3#MensU19AsiaCup2025 pic.twitter.com/FTmHWPbkVD
— BCCI (@BCCI) December 21, 2025










