
সপ্তাহখানেক পরই পর্দা উঠছে বাংলাদেশ (Bangladesh) প্রিমিয়ার লিগের (BPL) দ্বাদশ আসরের। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ২৬ ডিসেম্বর সিলেট থেকেই শুরু হচ্ছে টুর্নামেন্ট। তবে উদ্বোধনী ম্যাচের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে বিপিএল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে আগেই বাতিল করা হয়েছে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।
শুভেন্দুর হাত ধরে তৃণমূলে, এবার অধীরের হাত ধরে হুঙ্কার এই নেত্রীর
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক সিলেট টাইটান্সের মুখোমুখি হবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। ম্যাচটি দুপুর ২টার বদলে শুরু হবে বিকেল ৩টায়। প্রথম সেশন চলবে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত। এরপর ২০ মিনিটের বিরতি দিয়ে দ্বিতীয় সেশন শুরু হবে ৪টা ৫০ মিনিটে, যা শেষ হবে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে।
দিনের দ্বিতীয় ম্যাচের সময়ও পিছিয়েছে। ম্যাচটি শুরু হবে রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে। প্রথম সেশন চলবে রাত ৯টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত। ২০ মিনিটের বিরতির পর দ্বিতীয় সেশন শুরু হবে রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে এবং শেষ হবে রাত ১১টা ৫ মিনিটে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতার কথা মাথায় রেখেই এই সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সেই অনুষ্ঠান শেষ পর্যন্ত বাতিল করা হয়। বাকি ম্যাচগুলো পূর্বনির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
দেশজুড়ে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিপিএল আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) স্পষ্ট করেছে, নির্ধারিত সময়েই টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে। বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “২৬ ডিসেম্বর থেকেই প্রতিযোগিতা শুরু হওয়া নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে না। এ সিদ্ধান্ত নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই নেওয়া হয়েছে। মাঠসহ আয়োজনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন।”
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিও আত্মবিশ্বাসী। ঢাকা ক্যাপিটাল ফ্র্যাঞ্চাইজির চিফ এক্সিকিউটিভ আতিক ফাহাদ জানান, টুর্নামেন্ট পিছিয়ে গেলে বা বাতিল হলে বড় ধরনের সমস্যায় পড়বে দলগুলো। “প্রায় সব ব্যবস্থাই সম্পন্ন। এখন পর্যন্ত স্থগিতের আশঙ্কা দেখছি না। কিছু ব্যবস্থাপনা জটিলতা হতে পারে, তবে তা সামাল দেওয়া সম্ভব,” বলেন তিনি। ফাহাদের কথায়, নির্ধারিত সময়েই অনুশীলন শুরু করবে দল—২১ ডিসেম্বর থেকেই প্রস্তুতি পর্ব শুরু হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, আগেই ঘোষণা ছিল ২৬ ডিসেম্বর সিলেটে বিপিএল শুরু হবে এবং ২৪ ডিসেম্বর ঢাকায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বোর্ড সেই অনুষ্ঠান স্থগিত করে। বৃহস্পতিবার রাত থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে; শুক্রবার শাহবাগ থেকে শুরু করে চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ নানা স্থানে বিক্ষোভ দেখা যায়। ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাস ও রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রামের উপদূতাবাস ঘিরেও বিক্ষোভ হয়। এই প্রেক্ষাপটেই বাড়তি সতর্কতা নেয় আয়োজকরা।
সব মিলিয়ে উদ্বোধনী আয়োজন না থাকলেও মাঠের লড়াই থামছে না। অস্থির সময়ের মধ্যেও বিপিএলকে নির্ধারিত পথে এগিয়ে নিতে প্রস্তুত বিসিবি ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। ক্রিকেটপ্রেমীদের নজর এখন সিলেটের মাঠে। সময় বদলালেও উৎসবের উত্তাপ থাকবে কি না, সেটাই দেখার।










