যুবভারতী বিশৃঙ্খলা: ‘মমতার রাজত্ব মানেই নৈরাজ্য’ কটাক্ষ বিজেপির

Yuva Bharati Krirangan Chaos Investigation

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির উপস্থিতিকে করে বিশৃঙ্খল৷ চরম লজ্জাজনক পরিস্থিতিতে কলকাতা৷ এবার সরাসরি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আত্রমণ শানাল বিজেপি। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার এই ঘটনাকে সরাসরি ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শাসনের প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি’ বলে কটাক্ষ করেছেন। তাঁর দাবি, সম্পূর্ণ পরিকল্পনাহীনতা ও প্রশাসনের ব্যর্থতার কারণেই হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী তাঁদের প্রিয় তারকার এক ঝলক দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

সাড়ে এগারোটায় যুবভারতীতে আসেন মেসি

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পা রাখেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ় ও রদ্রিগো ডি’পল। সেই সময় স্টেডিয়ামের গ্যালারি ছিল কানায় কানায় ভর্তি। বহু দর্শক বিপুল অর্থ ব্যয় করে টিকিট কিনেছিলেন শুধুমাত্র মেসিকে সামনে থেকে দেখার আশায়।

   

কিন্তু মাঠে প্রবেশের পরই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, আয়োজক, মন্ত্রী ও বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির ভিড়ে কার্যত আটকে পড়েন মেসি। তাঁকে ঘিরে এমন হুড়োহুড়ি শুরু হয় যে, নিরাপত্তা বলয় ভেঙে পড়ে এবং স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলাই হয়ে ওঠে কঠিন। গ্যালারিতে বসা দর্শকরা মেসিকে চোখে দেখার সুযোগ পাননি। জায়ান্ট স্ক্রিনই হয়ে ওঠে তাঁদের একমাত্র ভরসা।

ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ঘোষণা সত্ত্বেও বিশৃঙ্খলা থামেনি BJP Blames Mamata for Yuba Bharati incident

পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং আয়োজকরা মাইকে একাধিকবার ঘোষণা করলেও উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। মাত্র ১৬–১৭ মিনিট মাঠে থাকার পরই মেসিকে নিরাপত্তার কারণে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। সেই সময় পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শাহরুখ খান বা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়— কেউই স্টেডিয়ামে পৌঁছোননি।

মেসি মাঠ ছাড়তেই দর্শকদের ক্ষোভ বিস্ফোরিত হয়। গ্যালারির চেয়ার ভেঙে মাঠে ছোড়া হয়, উড়তে থাকে বোতল। ফেন্সিং ভেঙে শতাধিক মানুষ মাঠে ঢুকে পড়েন। প্রথম দিকে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় বলে অভিযোগ। পরে লাঠিচার্জ, র‍্যাফ মোতায়েন এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ততক্ষণে যুবভারতী কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে।

ফুটবলপ্রেমীদের অভিযোগ

ফুটবলপ্রেমীদের একাংশের অভিযোগ, কয়েকজন নেতা-মন্ত্রীর আত্মপ্রচার এবং দর্শকদের সম্পূর্ণ উপেক্ষাই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। তাঁদের মতে, ফাঁকা মাঠে সামান্য সময় মেসিকে প্রদক্ষিণ করানো হলে প্রত্যেক দর্শকই তাঁকে দেখতে পেতেন। কিন্তু সাধারণ দর্শকদের বাদ দিয়ে তারকাকে ঘিরে রাখার প্রবণতাই কলকাতাকে এমন এক আন্তর্জাতিক লজ্জার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

এই ঘটনার জেরে রাজ্য প্রশাসন, আয়োজক সংস্থা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক চাপ ও দায় নির্ধারণের দাবি আগামী দিনে আরও জোরালো হবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন