ভারতীয় ফুটবল দল নিয়ে ‘বিস্ফোরক’ ভাইচুং, উসকে দিলেন ইস্ট-মোহন প্রসঙ্গ

Bhaichung Bhutia on Indian Football Team

ভারতীয় ফুটবলের (Indian Football) অন্যতম কিংবদন্তি ভাইচুং ভুটিয়া (Bhaichung Bhutia) সম্প্রতি ভারতের ফুটবল দলের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তার দৃঢ় মতামত প্রকাশ করেছেন। ভারতের জাতীয় ফুটবল দলের (Indian Football Team) সাবেক অধিনায়ক ও সর্বোচ্চ গোলদাতা ভাইচুং ভুটিয়া বিশ্বাস করেন যে, ২০২৫ সাল ভারতীয় ফুটবলের জন্য একটি অত্যন্ত সফল বছর হবে। তবে, তিনি ভারতীয় ফুটবল ক্লাব ইস্টবেঙ্গল (East Bengal) এবং মোহনবাগান (Mohun Bagan) বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেছেন।

২০২৪ সালে ভারতীয় ফুটবল দলের পারফরম্যান্স ছিল বেশ হতাশাজনক, যেখানে তারা কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি। এএফসি এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জনের ম্যাচে ভারতীয় দলের দুঃখজনক পারফরম্যান্সের পর হেড কোচ ইগর স্টিমাককেও ছাঁটাই করা হয়। তবে, ভাইচুং ভুটিয়া এই কঠিন সময়ে আশাবাদী। তার মতে, ভারতের জাতীয় ফুটবল দল ২০২৫ সালে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে এবং নতুন কোচ মানোলো মার্কুয়েজ ভারতের ফুটবল দলে নতুন আলোর ঝলক আনতে সক্ষম হবেন।

   

ভাইচুং এক সাখ্যাৎকারে বলেন, “২০২৫ সালে ভারতীয় ফুটবল অনেক ভালো করবে। ভারতীয় ফুটবলের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ রয়েছে। নতুন খেলোয়াড়রা ভালো পারফর্ম করছে। ভারতীয় ফুটবল এগিয়ে যাচ্ছে এবং ২০২৫ সাল ভারতীয় ফুটবলের জন্য এক নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।”

ভারতের জাতীয় ফুটবল দল বর্তমানে ফিফা বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে ১২৬ নম্বরে অবস্থান করছে। কিছু ফুটবল ভক্তের অভিযোগ, ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL) ভারতীয় জাতীয় দলের মান উন্নয়নে তেমন কোনো ভূমিকা রাখেনি। তবে ভাইচুং ভুটিয়া একে পুরোপুরি অস্বীকার করে বলেন যে, আইএসএল ভারতের ফুটবল উন্নয়নে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তার মতে, এই লিগ ভারতীয় ফুটবলারদের জন্য একটি ভালো প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যা তাদের পরবর্তী স্তরে উন্নীত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

ভাইচুং আরও বলেছেন, “ইন্ডিয়ান সুপার লিগের সূচনা থেকে ভারতীয় ফুটবল অনেক এগিয়েছে। অনেক নতুন খেলোয়াড় উঠে আসছে। এই সব নতুন ছেলে-মেয়েরা ২০২৫ সালে জাতীয় দলের জন্য ভালো পারফর্ম করবে। সবাইকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। ২০২৫ সালে এশিয়ান কাপ যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচে ভালো ফল পাওয়া যাবে।”

এমনকি, ভারতীয় জাতীয় দলের বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী, ভাইচুং ভুটিয়া এখনও একটি ক্লিনিক্যাল ফরওয়ার্ডের অভাব অনুভব করেন, যেমন তিনি নিজে ছিলেন। ভাইচুং ভুটিয়া ভারতের হয়ে ২৭টি আন্তর্জাতিক গোল করেছেন এবং দেশের জন্য অনেক শিরোপা জয় করেছেন। বর্তমানে, ভারতের কোচ মানোলো মার্কুয়েজ আশা করছেন যে, তারা এমন একজন কঠোর স্ট্রাইকার খুঁজে পাবেন, যিনি জাতীয় দলের আক্রমণকে শক্তিশালী করবেন।

২০২৫ সালের মার্চে ভারতীয় জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলি শুরু হবে। প্রথমে, ভারত মালদ্বীপের বিরুদ্ধে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলবে ২০ মার্চ, এর পরে ২৫ মার্চ বাংলাদেশকে মোকাবিলা করবে এশিয়ান কাপ ২০২৭ কোয়ালিফায়ার ম্যাচে। জুন থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচটি কোয়ালিফায়ার ম্যাচ খেলবে ভারত। এই ম্যাচগুলিতে শীর্ষস্থান অর্জন করতে পারলে তারা পরবর্তী এশিয়ান কাপের জন্য নির্বাচিত হবে, যা সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া, ভাইচুং ভুটিয়া ২০২৪-২৫ মরসুমে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL) নিয়ে তার মতামত প্রকাশ করেছেন, বিশেষ করে ইস্টবেঙ্গল এবং মোহনবাগানের পারফরম্যান্স নিয়ে। তিনি মনে করেন, এই মুহূর্তে মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলের থেকে সামান্য এগিয়ে রয়েছে দলগত মানের দিক দিয়ে। যদিও ভাইচুং তাঁর প্রাক্তন ক্লাব ইস্টবেঙ্গলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বিগ্ন, তিনি বিশ্বাস করেন যে তারা শীঘ্রই তাদের পুরোনো গৌরব পুনরুদ্ধার করবে।

অন্যদিকে, মোহনবাগান বর্তমানে আইএসএলে বেশ ভালো ফর্মে রয়েছে এবং তারা ভারতীয় ফুটবল ক্লাব হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিসরে বেশ পরিচিত। তবে, ভাইচুং মনে করেন ইস্টবেঙ্গলের জন্য এটি একটি সময়ের বিষয়, এবং তারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী শীঘ্রই শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Previous articleBangladesh: ‘বাঙালি’-বিহীন হবে বাংলাদেশ? তোলপাড় পদ্মাপার
Next article‘ক্রিকেট ডে’তে কিরমানিকে আজীবন সদস্যপদ মোহনবাগানের
Subhasish Ghosh
শুভাশীষ ঘোষ এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া সাংবাদিক, বর্তমানে Kolkata24X7.in ক্রীড়া বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ক্রিকেট থেকে ফুটবল, হকি থেকে ব্যাডমিন্টন প্রতিটি খেলাতেই তাঁর দখল প্রশংসনীয়। তিনি নিয়মিত ফিল্ড রিপোর্টিং করেন এবং ISL, I-League, CFL, AFC Cup, Super Cup, Durand Cup কিংবা Kolkata Marathon মতো মর্যাদাসম্পন্ন ইভেন্টে Accreditation Card প্রাপ্ত সাংবাদিক।২০২০ সালে সাংবাদিকতার জগতে আত্মপ্রকাশ, আর তখন থেকেই বাংলার একাধিক খ্যাতিমান সাংবাদিকের সাহচর্যে তালিম গ্রহণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইতিহাস ও রাজনীতির প্রতি রয়েছে অগাধ টান, যার প্রমাণ তাঁর অফবিট যাত্রাপথ ও অনুসন্ধিৎসু মন। পেশাগত প্রয়োজনে কিংবা নিতান্ত নিজস্ব আগ্রহে ছুটে যান অজানার সন্ধানে, হোক পাহাড়ি আঁকাবাঁকা গলি কিংবা নিঃসঙ্গ ধ্বংসাবশেষে ভরা প্রাচীন নিদর্শন। ছবি তোলার নেশা ও লেখার প্রতি দায়বদ্ধতা মিলিয়ে শুভাশীষ হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক।