মাত্র ১৭ বছর বয়সেই রিয়াল মাদ্রিদে আর্জেন্টিনার বিস্ময়বালক ফ্রাঙ্কো

Franco Mastantuono contract with Real Madrid

বিশ্ব ফুটবলে (World Football) নতুন এক উচ্ছ্বাসের নাম ফ্রাঙ্কো মাস্তান্তুয়ানো (Franco Mastantuono)। মাত্র ১৭ বছর বয়সে ইউরোপের অন্যতম সফল ও ঐতিহ্যবাহী ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদের (Real Madrid) জার্সি গায়ে জড়াতে চলেছেন এই আর্জেন্টাইন বিস্ময়বালক ( Argentina Footballer)। রিভার প্লেটের উঠতি এই তারকার প্রতিভা নিয়ে আগেই গুঞ্জন ছড়িয়েছিল আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। এবার সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তার রিয়ালে যোগ দেওয়া নিশ্চিত হয়েছে।

বিশ্বখ্যাত ফুটবল সাংবাদিক সেবাস্তিয়ান স্রুর বরাতে জানা গিয়েছে, রিয়াল মাদ্রিদ এবং রিভার প্লেটের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে ৪৫ মিলিয়ন ইউরোতে। একই সঙ্গে মাস্তান্তুয়ানো রিয়ালের সঙ্গে ছয় বছরের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন। এই চুক্তি অনুযায়ী তিনি ২০৩১ সাল পর্যন্ত থাকবেন স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটির সঙ্গে।

   

সাধারণত ১৮ বছর বয়স না হলে ইউরোপিয়ান ক্লাবগুলো বাইরের খেলোয়াড়দের রেজিস্টার করতে পারে না। তবে মাস্তান্তুয়ানোর ইতালিয়ান পাসপোর্ট থাকায় সেই নিয়মের বাধা পার হয়ে গেছেন তিনি। ফলে বয়স নয়, প্রতিভাই হয়ে উঠেছে তার রিয়ালে যাওয়ার প্রধান সোপান।

এই প্রতিভাবান অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারকে নিয়ে প্রথমে ধারণা করা হচ্ছিল, তিনি রিভার প্লেটের হয়ে চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপে অংশ নেবেন এবং তারপর রিয়ালে যোগ দেবেন। কিন্তু পরিস্থিতি বদলেছে দ্রুত। মাস্তান্তুয়ানো এখনই রিভার প্লেট ছাড়ছেন এবং সরাসরি রিয়াল মাদ্রিদের মূল দলে জায়গা করে নিচ্ছেন।

রিয়ালের নতুন কোচ সাবেক কিংবদন্তি মিডফিল্ডার জাবি আলোনসোর অধীনে মাস্তান্তুয়ানো আগামী সপ্তাহেই অনুশীলন শুরু করবেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য ক্লাব বিশ্বকাপে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে অভিষেক হতে পারে তার। তরুণ এই ফুটবলারকে ঘিরে মাদ্রিদের ভক্তদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

মাস্তান্তুয়ানো কেবল প্রতিভার ঝলক দেখাননি, বরং রিভার প্লেটের হয়ে অল্প সময়েই প্রমাণ করেছেন যে, তিনি ভবিষ্যতের একজন বড় তারকা হতে চলেছেন। মাঠে তার উপস্থিতি, বল কন্ট্রোল, ড্রিবলিং দক্ষতা এবং গোল করার ক্ষমতা ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে ইউরোপের বড় বড় স্কাউটদের। বিশেষ করে তার খেলার মধ্যে রয়েছে লিওনেল মেসির মতো স্বতঃস্ফূর্ততা ও কৌশলের ছাপ।

 
 
 
 
 
View this post on Instagram
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

A post shared by Fabrizio Romano (@fabriziorom)

রিয়াল মাদ্রিদের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট করা হয়েছে, মাস্তান্তুয়ানোকে ভবিষ্যতের ‘গ্যালাকটিকো’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ক্লাবটি এর আগেও তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে, যার উদাহরণ হিসেবে রয়েছে ভিনিসিউস জুনিয়র, রদ্রিগো কিংবা কামাভিঙ্গার মতো খেলোয়াড়রা।

তবে মাস্তান্তুয়ানো একা নন। আসন্ন ক্লাব বিশ্বকাপে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে অভিষেক হতে চলেছে আরও দুই নতুন মুখের—ডিন হুয়িসেন এবং ইংলিশ তারকা ট্রেন্ট আলেক্সান্ডার-আর্নল্ডের। একেবারে নতুন ও শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছে ‘লস ব্ল্যাঙ্কোস’। ফলে টুর্নামেন্টটি শুধু শিরোপার লড়াই নয়, বরং তরুণ প্রতিভাদের মেলে ধরারও বড় মঞ্চ হয়ে উঠবে।

এছাড়া আলোচনায় রয়েছেন বেনফিকার উঠতি তারকা আলভারো ক্যারাসকো। রিয়াল তাকে দলে টানার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে বলে শোনা যাচ্ছে। যদি তা সফল হয়, তবে রিয়ালের মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগ হবে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক।

সবমিলিয়ে ফুটবলবিশ্বের চোখ এখন মাস্তান্তুয়ানোর দিকে। বয়সে তরুণ হলেও দক্ষতা ও মেধায় তিনি ইতোমধ্যেই নিজের জাত চিনিয়েছেন। এবার রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে তাকে কতটা উজ্জ্বল দেখা যায়, সেটাই দেখার বিষয়। তার যাত্রা শুরু হচ্ছে সবচেয়ে বড় মঞ্চের একটিতে—ক্লাব বিশ্বকাপ দিয়ে। ফুটবলপ্রেমীরা অপেক্ষা করছেন, কবে মাঠে নামবেন এই ‘নতুন মেসি’।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন
Previous articleভারতীয় সেনাবাহিনীর রয়েছে ‘ভীষ্ম’ শক্তির ট্যাঙ্ক, যার শক্তি শত্রুদের পরাজিত করে
Next articleনকল টিকিট পরীক্ষক সেজে প্রতারণার জাল যোগী রাজ্যে
Subhasish Ghosh
শুভাশীষ ঘোষ এক প্রাণবন্ত ক্রীড়া সাংবাদিক, বর্তমানে Kolkata24X7.in ক্রীড়া বিভাগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ। ক্রিকেট থেকে ফুটবল, হকি থেকে ব্যাডমিন্টন প্রতিটি খেলাতেই তাঁর দখল প্রশংসনীয়। তিনি নিয়মিত ফিল্ড রিপোর্টিং করেন এবং ISL, I-League, CFL, AFC Cup, Super Cup, Durand Cup কিংবা Kolkata Marathon মতো মর্যাদাসম্পন্ন ইভেন্টে Accreditation Card প্রাপ্ত সাংবাদিক।২০২০ সালে সাংবাদিকতার জগতে আত্মপ্রকাশ, আর তখন থেকেই বাংলার একাধিক খ্যাতিমান সাংবাদিকের সাহচর্যে তালিম গ্রহণ। সাংবাদিকতার পাশাপাশি ইতিহাস ও রাজনীতির প্রতি রয়েছে অগাধ টান, যার প্রমাণ তাঁর অফবিট যাত্রাপথ ও অনুসন্ধিৎসু মন। পেশাগত প্রয়োজনে কিংবা নিতান্ত নিজস্ব আগ্রহে ছুটে যান অজানার সন্ধানে, হোক পাহাড়ি আঁকাবাঁকা গলি কিংবা নিঃসঙ্গ ধ্বংসাবশেষে ভরা প্রাচীন নিদর্শন। ছবি তোলার নেশা ও লেখার প্রতি দায়বদ্ধতা মিলিয়ে শুভাশীষ হয়ে উঠেছেন সাংবাদিক।