কিছুদিন আগেই নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে ইস্টবেঙ্গলের ওমেন্স টিম। নেপালের বুকে শক্তিশালী এপিএফ দলকে হারিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা দল হিসেবে মনোনীত হয়েছে কলকাতা ময়দানের এই প্রধান। পাশাপাশি পঞ্চম আন্তর্জাতিক ট্রফি এসেছে ঘরে। এখনও পর্যন্ত ভারতের একমাত্র দল হিসেবে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছে সৌম্যা গুগুলথরা। এছাড়াও গত কয়েক মরসুম ধরেই অনবদ্য পারফরম্যান্স করে আসছে মশাল কন্যারা। কোচ অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজ (Anthony Andrews) দলের দায়িত্ব গ্ৰহন করার পর থেকেই একেবারে অন্য ছন্দে ধরা দিয়েছে ইস্টবেঙ্গল।
দলের এমন অভূতপূর্ব সাফল্যের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল ভারতীয় তারকা সুলঞ্জনা রাউলের। ক্লাব ফুটবল হোক কিংবা জাতীয় দল। যখনই সুযোগ পাচ্ছেন উজাড় করে দিচ্ছেন নিজের সবটুকু। যারফলে খুব সহজেই কোচের অন্যতম ভরসাযোগ্য হয়ে উঠেছেন তিনি। এবারের সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ক্ষেত্রে ফাজিলা ইয়কপুতের পাশাপাশি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল সুলঞ্জনা রাউলের। তবে সেখানেই শেষ নয়। এবারের এই ইন্ডিয়ান ওমেন্স লিগের নয়া সিজনের শুরু থেকেই যথেষ্ট চনমনে রয়েছেন এই ভারতীয় ফুটবলার। গত শনিবার কল্যাণীর বুকে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেছিল দল।
সেখানে গাঢ়ওয়াল এফসির বিপক্ষে প্রথম গোল এসেছিল তাঁর পা থেকেই। এবং সেই গোলের মধ্যে দিয়েই নতুন রেকর্ড গড়েন এই মশাল কন্যা। লাল-হলুদের মহিলা ফুটবলারদের মধ্যে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে নিজের নাম নথিভুক্ত করেছেন। ইতিমধ্যেই দলের হয়ে করে ফেলেছেন প্রায় পঁয়তাল্লিশটি গোল। যা নিঃসন্দেহে বিরাট সাফল্য। আগামী দিনে ও সেই ছন্দ বজায় রাখতে চাইবেন তিনি। অন্যদিকে, গতবারের মতো এবারও ইন্ডিয়ান ওমেন্স লিগ জেতার পরিকল্পনা রয়েছে অ্যান্থনি অ্যান্ড্রুজের। এবার আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেছে ইস্টবেঙ্গল।
বহু বছরের অপেক্ষার পর এসেছে আন্তর্জাতিক ট্রফি। সেই নিয়ে যথেষ্ট খুশি সমর্থকরা। এসবের মাঝেই এবার সোশ্যাল মিডিয়ার স্টোরিতে বিশেষ পোস্ট করলেন অ্যান্থনি। যেখানে তিনি লেখেন, ‘ ২০২৫ সালটা ছিল একটা রোলারকোস্টার। কিন্তু আমি সফল হয়েছি। এটা আমাকে মানসিকভাবে ভেঙে দিয়েছে এবং শারীরিকভাবে পরীক্ষা করেছে। কিন্তু এটা আমাকে বিশ্বাস, ধৈর্য এবং স্থিতিস্থাপকতাও শিখিয়েছে। ঈশ্বরের পরিকল্পনা কখনও ব্যর্থ হয় না। খুব কম লোককেই বিশ্বাস করো। কঠোর পরিশ্রম করো। লক্ষ্যের উপর মনোযোগী থাকো। যা হওয়ার কথা ছিল না তার জন্য একটা করুণা অনুষ্ঠানের আয়োজন করিনি।’
আরও লেখেন, ‘ যা হতে পারে না তার জন্য বসে কাঁদিনি। আক্ষরিক এবং রূপকভাবে, ছাইয়ে ডুবে গেল এবং ফিনিক্সের মতো জেগে উঠল, আমি কখনই জানতাম না যে আমি হতে পারব। যারা আমার উপর বিশ্বাস রেখেছিলেন, তাদের সকলের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতার সাথে মাথা নত করছি। আগাম শুভ নববর্ষ।’
