
২০২৫ সাল এখন শেষের পথে। আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই আমরা প্রবেশ করতে চলেছি ২০২৬ সালে। নতুন বছরের শুরুতেই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে প্রবল উৎসাহ ও কৌতূহল দেখা যাচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো ৭ম বেতন কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়া এবং বহু প্রতীক্ষিত ৮ম বেতন কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে জোর আলোচনা। তবে এই আনন্দের মাঝেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন সেই হাজার হাজার কর্মচারী, যারা ২০২৫ সালে অবসর নিয়েছেন বা কয়েক দিনের মধ্যেই অবসর নিতে চলেছেন। তাঁদের একটাই প্রশ্ন—অবসর নেওয়ার পর কি তাঁরা ৮ম বেতন কমিশনের সুবিধা পাবেন, নাকি পুরনো পেনশনেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে?
অবসরের পর ৮ম বেতন কমিশনের কী হবে
অনেকের মধ্যেই একটি ভুল ধারণা রয়েছে যে চাকরি ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বেতন কমিশনের সমস্ত সুবিধা শেষ হয়ে যায়। বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই তা নয়। যারা ২০২৫ সালে অবসর নিচ্ছেন, তাঁদের হতাশ হওয়ার কোনও কারণ নেই। অর্থ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই ৮ম বেতন কমিশনকে রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য ১৮ মাস সময় দিয়েছে, যা নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত বিস্তৃত। অর্থাৎ কমিশনের সুপারিশ মধ্য ২০২৭ সালের মধ্যে প্রস্তুত হবে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে তা কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই কমিশন কার্যকর হতে সময় লাগলেও, ২০২৫ সালে অবসর নেওয়া কর্মচারীরা এর বাইরে থাকবেন না। ৮ম বেতন কমিশনের সুপারিশ শুধুমাত্র কর্মরত কর্মচারীদের বেতন নয়, পেনশনভোগীদের পেনশনেও প্রভাব ফেলবে। সরকার বরাবরই বেতন সংশোধনের সঙ্গে সঙ্গে পেনশনভোগীদের ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ পেনশনও অনুপাতে বাড়িয়ে এসেছে।
লক্ষ লক্ষ টাকার অ্যারিয়ার পাবেন অবসরপ্রাপ্তরা:
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো অ্যারিয়ার নিয়ে। ধরুন, আপনি ২০২৫ সালে অবসর নিলেন এবং ৮ম বেতন কমিশন কার্যকর হলো ২০২৮ সালে। পূর্ববর্তী বেতন কমিশনের ধারা অনুযায়ী, নতুন কমিশনের হিসাব সাধারণত আগের কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ থেকেই ধরা হয়। ফলে ২০২৬ থেকে ২০২৮ পর্যন্ত সময়ের জন্য বাড়তি পেনশনের সম্পূর্ণ টাকা অ্যারিয়ার হিসেবে পাওয়া যাবে।
এই অ্যারিয়ারের পরিমাণ কয়েক লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারে, যা এককালীনভাবে সরাসরি আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। কোনও অফিসে দৌড়ঝাঁপ করার প্রয়োজন হবে না। ৭ম বেতন কমিশনের সময়ও ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের অ্যারিয়ার সম্মানের সঙ্গে প্রদান করা হয়েছিল।
অবসরপ্রাপ্তদের জন্য ৮ম বেতন কমিশনের বড় সুবিধা:
৮ম বেতন কমিশন পেনশনভোগীদের জন্য এক বিশাল আশীর্বাদ হতে চলেছে। সম্ভাব্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের ভিত্তিতে মৌলিক পেনশন ২০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি, মূল্যবৃদ্ধি ভাতা (ডিএ) নতুন করে মৌলিক পেনশনের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে, যাতে ক্রয়ক্ষমতা বজায় থাকে। গ্র্যাচুইটির সীমাও বাড়তে পারে, যা সরাসরি অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের আর্থিক সুরক্ষা আরও মজবুত করবে। এছাড়াও স্বাস্থ্য পরিষেবা ও বিভিন্ন ভাতায় উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বার্ধক্যে বড় স্বস্তি দেবে।










