মঙ্গল গ্রহে ভালুক দেখে হতবাক বিজ্ঞানীরা, অদ্ভুত ছবি পাঠাল নাসার স্যাটেলাইট

ওয়াশিংটন, ১৯ জানুয়ারি: বিজ্ঞানীরা মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে এমন একটি ছবি খুঁজে পেয়েছেন যা দেখে মনে হচ্ছে যেন একটি খেলনা তাদের দিকে তাকিয়ে হাসছে। ছবিতে দুটি…

Teddy Bear on Mars

ওয়াশিংটন, ১৯ জানুয়ারি: বিজ্ঞানীরা মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে এমন একটি ছবি খুঁজে পেয়েছেন যা দেখে মনে হচ্ছে যেন একটি খেলনা তাদের দিকে তাকিয়ে হাসছে। ছবিতে দুটি ছোট চোখ, একটি গোলাকার নাক এবং একটি হাসিখুশি মুখ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। এটি দেখতে ঠিক টেডি বিয়ারের (Teddy Bear on Mars) এই আশ্চর্যজনক ছবিটি নাসার বিশেষ ক্যামেরা, এমআরও দ্বারা তোলা হয়েছে। এই ক্যামেরাটি যখন মঙ্গল গ্রহের প্রায় ২৫১ কিলোমিটার উপরে উড়ছিল তখন এটি এই দৃশ্য ধারণ করে। আসুন এর পিছনের সম্পূর্ণ সত্যটি জেনে নেওয়া যাক।

Advertisements

এটা কি সত্যিই একটা ভালুক?

   

বিজ্ঞানীরা বলছেন যে এটি আসল চেহারা নয়, বরং একটি প্রাচীন পাহাড় যা ভেঙে গেছে এবং দেখতে এরকম। ধুলো এবং পাথর একটি বিশেষ উপায়ে জমা হওয়ার কারণে, এটি একটি হাসিখুশি মুখের মতো দেখাচ্ছে। মহাকাশে পাহাড় এবং গর্তের সংমিশ্রণ কখনও কখনও এমন আকৃতি তৈরি করে যা আমাদের কাছে পরিচিত বলে মনে হয়, যাকে প্যারিডোলিয়া বলা হয়।

এই মুখটি কীভাবে তৈরি হল?

বিজ্ঞানীরা বলছেন এটি কোনও জাদু বা কৌশল নয়, বরং পাহাড় এবং গর্তের একটি কাকতালীয় ঘটনা। মাঝখানে একটা পাহাড় ভেঙে গেছে, যা নাকের মতো V আকৃতির। মুখের উপর চোখ দুটি আসলে দুটি ছোট গর্ত। মুখের চারপাশে বৃত্তাকার বলয়টি মাটিতে ফাটল ধরে তৈরি হয়েছে।

মহাকাশে অদ্ভুত মুখ কেন দেখা যায়?
মহাকাশে এমন একটি জায়গা আছে যেখানে গ্যাস, ধুলো এবং পাথর প্রায়শই একত্রিত হয়ে অদ্ভুত আকৃতি তৈরি করে। কখনও কখনও এটি একটি দানব বা একটি কার্টুন চরিত্রের মতো দেখায়। উদাহরণস্বরূপ, মহাকাশে গ্যাসের মেঘ দেখতে হুবহু গডজিলার মতো। বিজ্ঞানের ভাষায়, এই বিভ্রমকে প্যারিডোলিয়া বলা হয়, যার কারণে আমাদের মস্তিষ্ক অজানা জিনিসের মধ্যেও পরিচিত মুখ খুঁজে পায়।

এই ছবিটি কে তুলেছে?
মঙ্গল গ্রহে দেখা এই টেডি বিয়ার এবং অন্যান্য আকৃতির ছবি তোলা হয়েছে HiRISE নামক একটি শক্তিশালী ক্যামেরা দ্বারা। এই ক্যামেরাটি নাসার এমআরও স্যাটেলাইটে লাগানো আছে এবং ২০০৬ সাল থেকে মঙ্গলে রয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এটি অন্য গ্রহে পাঠানো সবচেয়ে শক্তিশালী ক্যামেরা।

Advertisements