
নয়াদিল্লি, ২০ ডিসেম্বর: ISRO’র এই অভিযান মহাকাশে ভারতের বাড়তে থাকা দক্ষতার প্রমাণ। “বাহুবলী” নামেও পরিচিত LVM3 রকেট AST স্পেসমোবাইলের ব্লুবার্ড-6 স্যাটেলাইট বহন করবে। এই স্যাটেলাইটের প্রধান কাজ হল যেসব এলাকায় টাওয়ার স্থাপন করা সম্ভব নয়, বিশেষ করে সমুদ্রের মাঝখানে চলাচলকারী জাহাজ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরাসরি মোবাইল ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সরবরাহ করা। ২৪শে ডিসেম্বর বিকেলে এই উৎক্ষেপণটি ISRO-এর বাণিজ্যিক ইউনিট ‘নিউ স্পেস ইন্ডিয়া লিমিটেড’ (NSIL) এর জন্য একটি বড় অর্জন হবে। এই অভিযানের সাফল্য প্রমাণ করবে যে ভারত এখন মহাকাশে ভারী উপগ্রহ পাঠানোর জন্য বিশ্বের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠছে।
LVM3 রকেটের শক্তি কত?
ইসরোর LVM3 রকেটটি ভারতের সবচেয়ে ভারী এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎক্ষেপণ যান। এর মোট ওজন ৬৪২ টন। এটি মহাকাশের উচ্চতায় ভারী উপগ্রহ বহন করার ক্ষমতা রাখে। এই রকেটটি চন্দ্রযান-৩ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ মিশন পরিচালনা করেছে, তাই এটিকে ISRO-এর ‘বাহুবলী’ বলা হয়। এটি কঠিন, তরল এবং ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন ব্যবহার করে, যা এটিকে অসাধারণ গতি এবং শক্তি দেয়।
ব্লুবার্ড-৬ স্যাটেলাইট কেন বিশেষ?
এই মিশনের আসল নায়ক হল ব্লুবার্ড-৬ স্যাটেলাইট, যা যোগাযোগের জগতে বিপ্লব আনবে। এই স্যাটেলাইটটি আপনার মোবাইল ফোনে সরাসরি উচ্চ-গতির ইন্টারনেট সরবরাহ করার সম্ভাবনা রাখে, বিশেষ থালা বা বড় অ্যান্টেনার প্রয়োজন ছাড়াই। এটি সমুদ্রে সপ্তাহের পর সপ্তাহ কাটানো জাহাজগুলির জন্য অনেক উপকারী হবে, যার ফলে তারা কোনও বাধা ছাড়াই উচ্চ-গতির ডেটা ব্যবহার করতে পারবে। যখন এই উপগ্রহটি মহাকাশে তার অ্যান্টেনা খুলবে, তখন এটি অনেক বড় হয়ে যাবে, যার ফলে সংকেত ধরা সহজ হবে।
সম্পূর্ণ উৎক্ষেপণ পরিকল্পনা
ইসরো এই অভিযানের তারিখ এবং সময় চূড়ান্ত করেছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে, রকেটটি ২৪শে ডিসেম্বর, ২০২৫ বিকেলে শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষেপণ করা হবে। এটি শ্রীহরিকোটার দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে উৎক্ষেপণ করা হবে। ইসরো বিজ্ঞানীরা রকেটের সমস্ত পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন এবং এখন তারা কেবল উৎক্ষেপণের কাউন্টডাউন শুরু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
ভারতের জন্য এই মিশনের গুরুত্ব
এই মিশন কেবল একটি উপগ্রহ উৎক্ষেপণ নয়, বরং ভারতের জন্য গর্বের বিষয়। এটি একটি বাণিজ্যিক মিশন, যা ভারতের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করবে। বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিগুলি এখন তাদের উপগ্রহের জন্য এলন মাস্কের কোম্পানি ‘স্পেসএক্স’-এর পরিবর্তে ইসরো-র উপর আস্থা রাখছে। এত বিশাল যন্ত্রপাতির সফল উৎক্ষেপণ ভারতের প্রকৌশল দক্ষতার প্রমাণ। এই ক্রিসমাস উৎক্ষেপণ সমগ্র জাতির জন্য একটি উপহার হবে। ইসরো আবারও বিশ্বকে দেখাবে যে মহাকাশ দৌড়ে ভারত আর কারও পিছনে নেই।










