‘টাইম বোম’ হয়ে উঠছে হিমালয় পর্বত, ৮+ মাত্রার ভূমিকম্পের হুমকির সম্মুখীন ভারত

himalayas

নয়াদিল্লি, ১১ ডিসেম্বর: জাপানের সাম্প্রতিক একটি বড় ভূমিকম্পের সতর্কতা হিমালয় অঞ্চলে একটি বিধ্বংসী ভূমিকম্পের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অফ ফায়ারে অবস্থানের কারণে জাপান একটি বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। এদিকে, ভারতের বিশেষজ্ঞরা এখন এই ঝুঁকির তুলনা হিমালয়ের সাথে করছেন, যে অঞ্চলটিকে দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় ভূমিকম্পের জন্য টাইম বোমা হিসেবে বিবেচনা করা হত (Great Himalayan Earthquake)।

গ্রেট হিমালয়ান ভূমিকম্প কী?
গ্রেট হিমালয়ান ভূমিকম্প (Great Himalayan Earthquake) হল একটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের একটি অনুমানিত ঘটনা যা হিমালয় পর্বতমালার নীচে একটি বৃহৎ ফল্ট বরাবর ঘটতে পারে। এখানেই ভারতীয় টেকটোনিক প্লেট ধীরে ধীরে কিন্তু অবিচলভাবে ইউরেশিয়ান প্লেটের নীচে নেমে যাচ্ছে। এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে উত্তেজনা তৈরি করে আসছে। এই উত্তেজনা একবার মুক্ত হয়ে গেলে, এটি ৮ বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্পের কারণ হতে পারে।

   

হিমালয়ের ঝুঁকির কারণ ঘন জনসংখ্যার ঘনত্ব, দুর্বল পরিকাঠামো এবং ভূমিধস ও তুষারধসের মতো বিভিন্ন কারণে হিমালয় এত বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতিহাস এবং ভূতাত্ত্বিক গবেষণা থেকে দেখা যায় যে, এই অঞ্চলটি অতীতে বেশ কয়েকটি বড় ভূমিকম্পের সম্মুখীন হয়েছে, যার ফলে উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ঘটেছে, যেমন ১৯৩৪ সালের বিহার-নেপাল ভূমিকম্প (৮.০ মাত্রা) এবং ২০১৫ সালের নেপাল ভূমিকম্প (৭.৮ মাত্রা)।

ভারতের কি চিন্তিত হওয়া উচিত?
ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি বলছে যে হিমালয় বর্তমানে এক ধরণের প্রাকৃতিক সুরক্ষা ভালভ হিসেবে কাজ করছে। আপাতত, মনে হচ্ছে হিমালয় আমাদের রক্ষা করছে, কারণ পৃথিবীর অভ্যন্তরে তৈরি চাপ ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমিক ছোট ভূমিকম্পের মাধ্যমে নির্গত হচ্ছে। এই ছোট ভূমিকম্পগুলি সাধারণত 2.5 থেকে 3.5 মাত্রার হয় এবং খুব বেশি ক্ষতি করে না।

এই প্রক্রিয়াটিকে কী বলা হয়?
এই প্রক্রিয়াটিকে সিসমিক ক্রিপ বা মৃদু ঝাঁকুনির মাধ্যমে চাপ উপশম বলা হয়। এটিকে আকস্মিক, ধ্বংসাত্মক বড় ভূমিকম্পের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরক্ষামূলক ঢাল হিসেবেও দেখা হয়। তবে, বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন যে প্লেটের নীচের টেকটোনিক চাপ এখনও টিকে আছে এবং পরিবর্তিত হবে না, তাই দীর্ঘমেয়াদে একটি বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ খবর পেতে Google News-এ Kolkata24x7 ফলো করুন